শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

Notice :

অসাধু ঔষধব্যবসায়ীদের দমন করুন

স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ২০টি ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অনুজ্ঞাপত্র (লাইসেন্স) বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেনÑ “জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে সফল করার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই।” আশা করা যায় অচিরেই সরকারের এইরূপ ইতিবাচক কর্মপ্রচেষ্টা গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।
দেশে ঔধষ প্রস্তুত করার কাজে জিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) অর্থাৎ “মানসম্মত উৎপাদন নীতি” অনুসরণ হয় না অধিকাংশ ঔষধপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে। ফলে নি¤œমানের ঔষধ ব্যবহার করে রোগীরা সুস্থ তো হচ্ছেনই না বরং আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গত বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল ২০১৬) দৈনিক কালের কণ্ঠের একটি শিরোনাম ছিলÑ “বিপজ্জনক ৫০ ওষুধ কম্পানি”। সংবাদবিবরণী থেকে জানা যায়, এইসব প্রতিষ্ঠান জীবনরক্ষাকারী ঔষধ প্রস্তুতকরণে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ১৯৭৬ সালের জিএমপি অনুসরণ করেনি। প্রকারান্তরে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার সরকারি নীতি সফলতার দ্বারপ্রান্ত থেকে লক্ষ যোজন দূরে থেকে গেছে। অসাধু ঔষধ কম্পানির প্রস্তুতকৃত নি¤œমানের কিংবা ঔষধই বলা যায় না এমন ঔষধ, সারাদেশে তো বটেই, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অজ্ঞ-অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যপরিষেবার ক্ষতি করে চলেছে অধিকমাত্রায়। গ্রামাঞ্চলের ঔষধের দোকানগুলোতে ওইসব দুর্নীতিগ্রস্ত ঔষধ কম্পানির নিয়োগকৃত বিপনন প্রতিনিধিরা (সেলসম্যান) নি¤œমানের ঔষধ পৌঁছে দিতে যৎসামান্য কার্পণ্য করছেন না। লোকেরা গাঁটের অর্থ খরচ করে সে ঔষধ ব্যবহার করে আরোগ্য লাভ না করে প্রকারান্তরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলে সরকারি অনুজ্ঞাপত্র নেই এমন ঔষধের দোকানের ছড়াছড়ি এবং নিয়মানুযায়ী ঔষধ বিক্রির জন্য অপরিহার্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকের দ্বারা ঔষধের দোকানগুলো পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে চিকিৎসক প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রানুসারে ঠিকঠিক ঔষধ প্রাপ্তি থেকেও রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, অধিকাংশক্ষেত্রে। অর্থাৎ ব্যবস্থাপত্রের ভুল পাঠোদ্ধার থেকে ভুল ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে রোগীদেরকে। চূড়ান্ত বিচারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের লোকেরা প্রকারান্তরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলতে গেলে সম্পূর্ণভাবেই। গ্রামের মানুষের এই ভোগান্তি নিরসনের কেউ নেই, নেই কোনও কার্যকর ব্যবস্থা।
দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা সদর পর্যন্ত এই অভিযানের সফল কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেখা যায়। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে অর্থাৎ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোয়ার পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হবার প্রচেষ্টা এখনও পর্যন্ত তেমন একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অন্তত দুর্নীতিবাজ ঔষধ ব্যবসায়ীদেরকে প্রতিরোধকল্পে, আমরা আশা করছি, ভ্রাম্যমাণ আদালত শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। গ্রামের অসুস্থ-অসহায় ও বিপর্যস্ত মানুষ দুর্ভোগের অবসান চায়। গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় এই বিপর্যয় নিরসনে ভ্রাম্যমাণ আদালত উজ্জ্বল ভূমিকা রাখতে পারেন। মনে রাখতে হবে, অসাধু ঔষধ-ব্যবসায়ীদেরকে দমনে এর চেয়ে কার্যকর কোনও বিকল্প বোধ করি আপাতত আর নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী