শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

Notice :

ধর্মপাশায় ভাঙছে বাঁধ, তলিয়ে যাচ্ছে ফসল

ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধর্মপাশা উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে একের পর এক হাওরের ফসলডুবির ঘটনা ঘটছে। এতে করে এখানকার কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মুগরাইন-কাইঞ্জা ফসলরক্ষা বাঁধটি ভেঙে গিয়ে এখানকার ঢগা, ভোগা, ছিছড়া, শৈলচাপড়া, নয়াবিল, কাইলানী, রুই, ডুলিজার, দমদমিয়ার দাইড় এই ৯টি হাওরের বোরো জমি প্লাবিত হয়। নিরুপায় হয়ে কৃষকেরা জমির পাকা ও আধপাকা ধান কেটে নিতে ব্যস্ত সময় পার করেন। তবে ওই ৯টি হাওরে সুনির্দিষ্ট ক্ষতির পরিমাণ গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নির্ণয় করতে পারেনি উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর ও হাওরের বাইরে উঁচু জমিতে ৩০ হাজার ৯৪০ হেক্টর বোরো জমিতে ধান আবাদ করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মুগরাইন কাইঞ্জা ফসলরক্ষা বাঁধটি ভেসে যাওয়ার এখানকার ৯টি হাওরে পানি ঢুকে পড়ছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত এ উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে এখানকার তিন হাজার ৩৫৫হেক্টর বোরো জমির পাকা ও আধপাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এ ছাড়াও ওই ৯টি হাওরে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর বোরো জমিতে ধান চাষাবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুই হাজার ১০০ হেক্টর বোরো জমির পাকা ও আধপাকা ধান কাটা এখনো বাকি রয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে হাওরে ফসলহানির ঘটনা ঘটে চললেও এই ৯টি হাওরের সমুদয় ক্ষতির পরিমাণ বুধবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত জানাতে পারেনি উপজেলা কৃষি বিভাগ।
সুনামগঞ্জ পাউবো কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জয়শ্রী ইউনিয়নের মুগরাইন-কাইঞ্জা ফসল রক্ষা বাঁধের ভাঙা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজের জন্য দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ কাজের প্রকল্প চেয়ারম্যান ছিলেন জয়শ্রী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.শাহজাহান কবীর।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের জন্য যে পরিমাণ অর্থ সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয় তার ষোলআনার মধ্যে আট আনার অংশের কাজ করা হয়। পুরো অর্থ ব্যয় করে বাঁধের কাজ করলে হাওরের এ ফসলডুবির ঘটনা ঘটতো না। ফসলরক্ষা বাঁধগুলোতে সংশ্লিষ্ট পিআইসি ও পাউবো’র লোকজন বাঁধের কাজ সঠিকভাবে না করে তা থেকে তারা মিলেমিশে মোটাঅঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। আর কৃষকদের বারোটা বেজে যায়। এ ফসলডুবির ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের কৃষক মো. রজব আলী (৪০) বলেন, আওরের ২০কিয়ার জমি হানিত তল অইলে সরহারিভাবে দেহানো হয় ১০কিয়ার। তিনি জানান, কৃষি অফিস নিজেদের মনগড়া তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়।
মুগরাইন কাইঞ্জা ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান কবীর বলেন, বাঁধের কাজে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। তবে এতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত গতিতে বুধবার সকাল থেকেই ওই ৯টি হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করায় হাওরগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় তিন হাজার তিনশত পঞ্চান্ন হেক্টর বোরো জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও এই ৯টি হাওরের ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী