বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন

Notice :

আগামীতে বেতন থেকে আয়কর কেটে রাখার ইঙ্গিত

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আয়কর দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের অনীহার প্রেক্ষাপটে আগামীতে বেতন থেকে তা কেটে নেওয়ার পদ্ধতি আসছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এই পদ্ধতি চালুর সম্ভাব্যতার কথা বুধবার ‘উৎসে আয়কর সংগ্রহ : আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বলেন তিনি।
বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের বেতন দেওয়ার সময় আয়কর কেটে রাখা হয় না। করযোগ্য কর্মকর্তারা হিসাব করে এনবিআরে তাদের আয়কর জমা দেন এবং বছর শেষে আয়কর বিবরণী দাখিল করেন।
সেমিনারে জানানো হয়, বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে বর্তমানে একাদশ গ্রেডের কর্মকর্তারা পর্যন্ত করের আওতায় পড়েন। এই গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। কিন্তু এনবিআর রিটার্ন পায় মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ হাজার।
সেমিনারে এনবিআর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চলতি অর্থবছর থেকে করযোগ্য অর্থ উপার্জনকারী সরকারি কর্মকর্তাদের উৎসে আয়কর দেওয়ার বিধান চালু হয়েছে। প্রতিমাসে এ কর না দিলে প্রদেয় করের উপর ২ শতাংশ হারে সুদ আরোপের বিধানও রয়েছে।
“কিন্তু অর্থবছরের নয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এখনও কর্মকর্তারা উৎসে আয়কর দেওয়া শুরু করেননি। এমনকি এনবিআর কর্মকর্তারাও উৎসে কর দিচ্ছে না।”
এই তথ্য উপস্থাপনের পর এনবিআর চেয়ারম্যান বেতন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগামীতে কর কেটে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
“আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন থেকে যেভাবে বিভিন্ন ধরনের বিল কর্তন করা হয়, একইভাবে এখন বেতন থেকে আয়কর কর্তনেরও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।”
এনবিআর ও মহা-হিসাব নিরীক্ষকের দপ্তরসহ বিভিন্ন কার্যালয় ডিজিটাইজেশন হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আয়কর কেটে নেওয়া হবে বলে জানান নজিবুর।
তবে কবে নাগাদ ডিজিটাইজেশন স¤পূর্ণ হবে, তা ¯পষ্ট করেননি তিনি।
আগামী অর্থবছরের বাজেটের প্রস্তুতিপর্ব শুরুর পর এই সেমিনারে রাজস্ব আদায় গতিশীল করতে নানা পদক্ষেপও তুলে ধরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে যুগোপযোগী ও হিসাব ব্যবস্থাপনাকে রাজস্বমুখী করতে এনবিআর এবং সিএজি দপ্তরের সঙ্গে পার¯পরিক টেকসই স¤পর্ক গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব স¤পর্কিত কমিটির সঙ্গেও আমরা কাজ করছি।”
নজিবুর এনবিআর ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চিফ একাউন্টিং অফিসারের (সিএও) সঙ্গে ফোরাম তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করেন।
ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এ ফোরামের সঙ্গে এনবিআরের নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে কর আহরণ গতিশীল হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক আবুল কাশেম, এনবিআর ও সিএজি কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার কর অঞ্চল-২ এর কমিশনার কানন কুমার রায় ‘ট্যাক্সেস জোন-২ ঢাকা অ্যান্ড সিজিএ‘ এবং ঢাকার কর অঞ্চল-৪ এর কমিশনার আলমগীর হোসেন ‘উৎসে আয়কর সংগ্রহ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী