মোসাইদ রাহাত::
তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও অভিযান চালানো হলেও নদীর বিভিন্ন অংশে চলছে তীর কাটার কাজ। এবার নদীর মোদেরগাঁও অংশে পাড় কেটে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামের শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ। অন্যদিকে বালুবাহী নৌকার দখলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে খেয়াঘাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্রের দাপটে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না অনেকে। সম্প্রতি সরেজমিনে মোদেরগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের একটি বড় মাঠে দাঁড়িয়ে আছে দুটি গোলপোস্ট। মাঠের পশ্চিম পাশে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে বসানো হয়েছে শেভ মেশিন। ত্রিপল টানিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী কয়েকটি তাঁবু। বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহারের জন্য রয়েছে তেলের দোকানও। তাঁবুতে বসে কয়েকজনকে খাতা-কলমে হিসাব রাখতে দেখা যায়। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার থেকে মোদেরগাঁও অংশে নদীর পাড় কেটে বালু তোলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মাঠটি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি কেউ। ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেও আপত্তি জানান অনেকে। পরে নদী পেরিয়ে ঘাগড়া পাড়ে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মাফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে নদীর পাড় না কাটার বিষয়ে মাইকিং করা হয়। প্রশাসনের অভিযানও দেখা যায়। কিন্তু এরপরও পাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। শেভ মেশিন দিয়ে নিয়মিত নদীর তীর কাটা হচ্ছে। কেউ নিজের জমি বিক্রি করছেন, আবার কেউ প্রভাব খাটিয়ে অসহায় মানুষের জমি থেকে বালু নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, নদীর পাড় কাটার পাশাপাশি বালুবাহী নৌকার কারণে খেয়াঘাটেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ফেরার পথে ঘাটের এক মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বালুবাহী নৌকাগুলো ঘাটের জায়গা দখল করে রাখছে। ফলে যাত্রীবাহী নৌকা ভেড়ানোর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে খেয়া পারাপার বন্ধ করে দিতে হবে। ঘাটের কয়েকজন যাত্রীও একই অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য, বালু বোঝাই নৌকা ঘাটে ভিড়িয়ে রাখা হলেও সাধারণ যাত্রীদের নৌকা ভেড়ানোর জায়গা থাকছে না। মোদেগাঁওয়ে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের তথ্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপা মণি দেবীকে জানান এ প্রতিবেদক। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বেলা ১২টার দিকে ঘাট থেকে ফেরার সময় দেখা যায়, নদীতে থাকা বালুবাহী নৌকাগুলো দ্রুত সরে যাচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযানে আসছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে নৌকাগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। ঘটনাস্থলে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিবেদককে ঘিরে ধরেন। কেন ছবি তোলা হচ্ছে, তা জানতে চান তারা। ভিডিও মুছে ফেলার জন্যও অনুরোধ করেন। সেতুর ছবি তুলতে এসেছেন বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে একজন বলেন, তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছবি তোলা সম্ভব নয়। কেউ যেন ভিডিও ধারণ করতে না পারে, সে জন্য অন্তত ২৫ জন লোক রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে পাড় কাটার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার আশ্বাস দিতে চাপের মুখে সেখান থেকে ফিরে আসেন প্রতিবেদক। তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ বলেন, মোদেরগাঁওয়ে নদীর পাড় কাটার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এর আগেই তারা নৌকা নিয়ে সরে পড়েন। পরে লাউড়েরগড় এলাকায় নদীর পাড় কাটার সময় দুটি নৌকাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও অভিযান চালানো হলেও নদীর বিভিন্ন অংশে চলছে তীর কাটার কাজ। এবার নদীর মোদেরগাঁও অংশে পাড় কেটে বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামের শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ। অন্যদিকে বালুবাহী নৌকার দখলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে খেয়াঘাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্রের দাপটে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না অনেকে। সম্প্রতি সরেজমিনে মোদেরগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের একটি বড় মাঠে দাঁড়িয়ে আছে দুটি গোলপোস্ট। মাঠের পশ্চিম পাশে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে বসানো হয়েছে শেভ মেশিন। ত্রিপল টানিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী কয়েকটি তাঁবু। বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহারের জন্য রয়েছে তেলের দোকানও। তাঁবুতে বসে কয়েকজনকে খাতা-কলমে হিসাব রাখতে দেখা যায়। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার থেকে মোদেরগাঁও অংশে নদীর পাড় কেটে বালু তোলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মাঠটি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি কেউ। ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেও আপত্তি জানান অনেকে। পরে নদী পেরিয়ে ঘাগড়া পাড়ে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মাফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে নদীর পাড় না কাটার বিষয়ে মাইকিং করা হয়। প্রশাসনের অভিযানও দেখা যায়। কিন্তু এরপরও পাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। শেভ মেশিন দিয়ে নিয়মিত নদীর তীর কাটা হচ্ছে। কেউ নিজের জমি বিক্রি করছেন, আবার কেউ প্রভাব খাটিয়ে অসহায় মানুষের জমি থেকে বালু নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, নদীর পাড় কাটার পাশাপাশি বালুবাহী নৌকার কারণে খেয়াঘাটেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ফেরার পথে ঘাটের এক মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বালুবাহী নৌকাগুলো ঘাটের জায়গা দখল করে রাখছে। ফলে যাত্রীবাহী নৌকা ভেড়ানোর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে খেয়া পারাপার বন্ধ করে দিতে হবে। ঘাটের কয়েকজন যাত্রীও একই অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য, বালু বোঝাই নৌকা ঘাটে ভিড়িয়ে রাখা হলেও সাধারণ যাত্রীদের নৌকা ভেড়ানোর জায়গা থাকছে না। মোদেগাঁওয়ে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের তথ্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপা মণি দেবীকে জানান এ প্রতিবেদক। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বেলা ১২টার দিকে ঘাট থেকে ফেরার সময় দেখা যায়, নদীতে থাকা বালুবাহী নৌকাগুলো দ্রুত সরে যাচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযানে আসছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে নৌকাগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। ঘটনাস্থলে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিবেদককে ঘিরে ধরেন। কেন ছবি তোলা হচ্ছে, তা জানতে চান তারা। ভিডিও মুছে ফেলার জন্যও অনুরোধ করেন। সেতুর ছবি তুলতে এসেছেন বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে একজন বলেন, তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছবি তোলা সম্ভব নয়। কেউ যেন ভিডিও ধারণ করতে না পারে, সে জন্য অন্তত ২৫ জন লোক রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে পাড় কাটার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার আশ্বাস দিতে চাপের মুখে সেখান থেকে ফিরে আসেন প্রতিবেদক। তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ বলেন, মোদেরগাঁওয়ে নদীর পাড় কাটার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এর আগেই তারা নৌকা নিয়ে সরে পড়েন। পরে লাউড়েরগড় এলাকায় নদীর পাড় কাটার সময় দুটি নৌকাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।