বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

Notice :

ভ্যাকসিন উৎসবে ব্যাপক সাড়া

স্টাফ রিপোর্টার ::
রোববার সকালে সুনামগঞ্জের শীর্ষ জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার, সাংবাদিকসহ সম্মুখসারির যোদ্ধারা করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধরাও হাসিমুখে নিয়েছেন মহামারি করোনার ভ্যাকসিন। সমাজের প্রথমসারির সচেতন মানুষজন টিকা নিয়ে দেশবাসীকে ভ্যাকসিন নিতে রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষকে উৎসাহ দিতেই সুনামগঞ্জের অগ্রসর চিন্তার মানুষজন ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলে জানান। তাছাড়া ভ্যাকসিনের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালকেও সাজানো হয়েছিল। বেলুন-ফেস্টুনসহ আলোকসজ্জারও আয়োজন ছিল। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলায় ৬৭৯ জন করোনা মহামারির ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরেই ৩০৫জন।
রোববার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে টেলিকনফারেন্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভ্যাকসিন কর্মসূচি দেখেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, ডাক্তার পুলিশসসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা। পরেই সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট, পৌর মেয়র নাদের বখত, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপলসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সদর হাসপাতাল টিকাদান কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। ভ্যাকসিন গ্রহণ উপলক্ষে সদর হাসপাতালকে সজ্জিত করা হয়। ৫টি বুথে সিনিয়র নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১নং বুথে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট, ২নং বুথে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, ৫নং বুথে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক একই সঙ্গে আলাদাভাবে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এরপরে পৌর মেয়র নাদের বখত ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক পংকজ কান্তি দে, খলিল রহমান, শামস শামীম, বিন্দু তালুকদার, আসাদ মনিসহ বেশ কয়েকজন ভ্যাকসিন নেন।
ভ্যাকসিন গ্রহণ করে মহিবুর রহমান মানিক এমপি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট জয় বাংলা স্লোগান দেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে ও হাততালি দিয়ে সবাইকে উৎসাহিত করেন। তাছাড়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসর ডা. সৈকত দাসসহ ডাক্তার ও নার্সসহ কয়েকজন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
এছাড়াও হাসিখুশি মন নিয়ে দুপুর ১২টায় সদর হাসপাতালে প্রবেশ করেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সত্তরোর্ধ্ব প্রফেসর পরিমল কান্তি দে ও তার বন্ধু যোগেশ্বর দাস। তারা ভ্যাকসিন গ্রহণ করে সবাইকে রেজিস্ট্রেশন করে ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানান। বৃদ্ধদের ভ্যাকসিন নিতে সপ্রতিভ এই উপস্থিতি অনেককে উজ্জীবিত করেছে।
করোনার টিকা গ্রহণের পর সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, আমি করোনার প্রতিরোধক টিকা নিয়েছি, আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না। আমি সবাইকে বলতে চাই- আপনারাও করোনা প্রতিরোধী টিকা নেন এবং গুজবে কান দিবেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ভালোবাসেন বলেই আমরা দ্রুত টিকা পেয়েছি।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষদের সচেতন করতে সবার আগে ভ্যাকসিন নিয়েছি। যাতে মানুষ আমাকে দেখে উৎসাহিত হয়। ভ্যাকসিনে কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল করোনা টিকাদান কেন্দ্র থেকে দুইজন এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ডিসি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আমাদের ডাক্তার, নার্সরা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। জেলার সব উপজেলায়ই একযোগে ভ্যাকসিন নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় ৩টি করে বুথে ভ্যাকসিন নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ে রেজিস্ট্রেশনকারীরা ভ্যাকসিন নিতে পারবেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) কঠোর পুলিশ নিরাপত্তায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ফ্রিজার ভ্যানে সাতটি কার্টনে ১২ হাজার ভায়ালে ৮৪ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন সুনামগঞ্জে পৌঁছে দেওয়া হয়। জেলা সদরের পাশাপাশি সুনামগঞ্জের অন্যান্য উপজেলায়ও এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী