শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

Notice :

বার বার ভাঙে বাঁধ : প্রতি বছর জলে যায় লাখ লাখ টাকা

আশিস রহমান ::
দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক সময় ধরে ভাঙনের শিকার হচ্ছে জোড়খলা আবুড়া বেড়িবাঁধ। হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ খ্যাত এই বেড়িবাঁধটি কোনোবারই টেকানো যায়নি। প্রত্যেক বছরই ঢল আর বন্যায় বাঁধ ভাঙছে আর ভাঙনের বিপরীতে বাঁধ নির্মাণের জন্য দেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের বরাদ্দ। কৃষকদের পক্ষ থেকে বার বার স্লুইস গেইট নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা এখনো উপেক্ষিত।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর ও নূরপুর এলাকায় জোড়খলা বেড়িবাঁধটির অবস্থান। পশ্চিমদিকে কানলার হাওর আর পূর্ব দিকে খাসিয়ামারা নদী থাকায় ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বর্ষাকালে উজানে থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোত সরাসরি জোড়খলা বেড়িবাঁধে এসে আঘাত হানে। এতে বাঁধের পেটফোলা নামক অংশে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়ে হাওরের বোরো ফসলি জমি তলিয়ে যায়। বার বার বাঁধ ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে কয়েক শতাধিক হেক্টর বোরো ফসলি জমি পলি ও বালি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরের বোরো ফসল। শুধু বোরো ফসলই নয়, বাঁধ ভেঙে প্রতিবছরই প্লাবিত হয় সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, নূরপুর, সোনাপুর, বৈঠাখাইসহ আশপাশের ১৫টি গ্রাম।
বন্যা প্রতিরোধে এই বাঁধ কাজে না আসায় প্রতিবছরই বাঁধ নির্মাণে একদিকে সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা অপচয় হচ্ছে অপরদিকে কৃষকসহ হাওরের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বার বার বাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে বাঁধের আশপাশের জমিতে মাটি সংকুলান না হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে বাঁধ নির্মাণে মাটি সংকট দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ২০১৮ সালে সোনাপুর থেকে জোড়খলা হয়ে সুলতানপুর পর্যন্ত ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ২০ লক্ষ টাকা। কিন্তু ওই বছরই বন্যায় বাঁধে ভাঙন সৃষ্ট হওয়ায় বাঁধটি কোনো কাজে আসেনি হাওরের কৃষকদের। পরের বছর ২০১৯ সালে একই বাঁধের ফোল্ডার-২ এর ভাঙ্গন রোধকল্পে ও পুনরাকৃতিকরণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৩০ টাকা। গত বছর ২০২০ সালে এই বাঁধ পুনর্নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ২৪ লাখ টাকা। আবারো ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় চলতি বছর একই বাঁধ নির্মাণে তিনটি পিআইসিতে সর্বমোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩৩ লক্ষ টাকা। এভাবে প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণের বরাদ্দ বাড়লেও স্লুইস গেইট না থাকায় কোনোভাবেই টেকানো যাচ্ছেনা বেড়িবাঁধটি। প্রত্যেক বছর বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার বাবদ সরকারের কোটি টাকা জলে ভেসে যাচ্ছে। হাওরের ফসল রক্ষার্থে এবং আগাম বন্যা প্রতিরোধে জোড়খলা বেড়িবাঁধের পেটফোলা অংশে দ্রুত স্লুইস গেইট নির্মাণ করা হোক এমনটাই দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও হাওরের কৃষকদের। এদিকে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ৫ কিলোমিটার জোড়খলা বেড়িবাঁধ ও ক্লোজার (ফোল্ডার-২, ফোল্ডার-৩) এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (সুনামগঞ্জ পওর-২) শামসুদ্দোহা, পাউবোর দোয়ারাবাজার শাখার উপনির্বাহী প্রকৌশলী সমসের আলী, উপসহকারী শাখা কর্মকর্তা আবু সায়েম সফিউল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা এখলাস ফরাজী প্রমুখ।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পাউবো’র দোয়ারাবাজার উপজেলা শাখার উপসহকারী শাখা কর্মকর্তা আবু সায়েম সফিউল ইসলাম জানান, জোড়খলা বেড়িবাঁধের পেটফোলা নামক অংশে স্লুইস গেইট নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবিত এই স্লুইস গেইটটি খুব শীঘ্রই টেন্ডার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী