বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১২:২১ অপরাহ্ন

Notice :

বাঁধের কাজ নিয়ে ক্ষোভ হতাশা অসন্তোষ

স্টাফ রিপোর্টার ::
জামালগঞ্জ উপজেলা সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগ (পিএফজি)’র উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বাঁধ পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃহ¯পতিবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ স¤পাদক আব্দুল মান্নান তালুকদার, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক জামালগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহানা আল আজাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হাওরের বাঁধ পরিদর্শনে যায়। তারা হাওরের বিভিন্ন বাঁধে কাজ শুরু না হওয়ায় এবং যে সব বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে তা দায়সারভাবে করায় ক্ষোভ, হতাশা, অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দিন শেষে বিকেলে তারা জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ দেবের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। তারা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের বর্তমান বেহাল চিত্র তুলে ধরেন।
প্রতিনিধি দল সকালে জামালগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে কাছের পিআইসি নং-৪ ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজ, পাখনার হাওর উপপ্রকল্পে যান। সে প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন গোলাম হোসেন ও সদস্য সচিব জহিরুল হক তালুকদার। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, নৌকা থেকে একটি এস্কেভেটর মেশিন নামানো হয়েছে। সাইন বোর্ডটি পাশে ফেলানো। এ কাজের বরাদ্দ হচ্ছে ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা।
এরপর নেতৃবৃন্দ যান পিআইসি নং ২৫-। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কাজ শুরু হয়নি। হালির হাওর উপ-প্রকল্প ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজও শুরু হয়নি। এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক ও সদস্য সচিব জমিল উদ্দিন। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা।
পিআইসি নং ২৬ শনির হাওর উপ-প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, নামমাত্র মাটি ফেলা হচ্ছে বাঁধে। এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন মানিক মিয়া ও সদস্য সচিব আজিজুল হক হিরা। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা।
মোটামুটি ভাল কাজ চলছে পিআইসি নং ২৭-এ। এখানে মাটির কাজ বেশি হয়েছে কিন্তু ক¤েপশন হয়নি। এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন প্রীতিশ তালুকদার ও সদস্য সচিব দানেশ সরকার। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৩ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা।
পিআইসি নং ২৮-এ স্লোপসহ কাজ চলছে। তবে বাঁধে গিয়ে দেখা যায় বাঁধে প্রস্ত হচ্ছে ১৫ ফুট কিন্তু স্লোপ হচ্ছে সাড়ে ৯ ফুট। এটাকে মডেল বাঁধ বলা হচ্ছে। এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন হিমাংশু রঞ্জন ও সদস্য সচিব পরিতোষ তালুকদার। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৬ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা।
হলির হাওর উপ- প্রকল্পের ২৯, ৩০নং পিআইসিতে মাত্র কাজ শুরু হয়েছে। ৩১নং পিআইসিতে গিয়ে দেখা যায় এস্কেভেটর দিয়ে পুরাতন বাঁধকে মাটি তুলে সমান করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন বিদ্যা মিয়া ও সদস্য সচিব বাবুল হোসেন। প্রকল্প এলাকায় সভাপতি, সদস্য সচিবকে পাওয়া না গেলেও তাদের শ্রমিকরা জানান- গাড়ি যাতে নিরাপদে আসতে পারে তার জন্য বাঁধে এ কাজ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।
পিআইসি নং ৩২-এ গিয়ে দেখা যায় মাটির বড়বড় চাকা দিয়ে বাঁধ তিনফুট উঁচু করা হচ্ছে। প্রতিটি চাকার মাঝে যথেষ্ট ফাঁক রয়েছে। বৃষ্টি হলেই মাটি নেমে যেতে পারে। এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন মহিবুর রহমান ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ সুলতান। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ২০ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বীণা রানী তালুকদার, জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক আব্দুল মালিক, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ স¤পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ, মহিলা পরিষদের সভাপতি শেখ আয়শা বেগম, জামালগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আক্কাস মুরাদ, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, জেলা মহিলা লীগের ধর্ম বিষয়ক স¤পাদক শিপনা বেগম, সদস্য তাহমিনা বেগম, আওয়ামী শ্রমিক লীগের সদস্য আলেয়া বেগম, বিএনপির সদস্য বীণা আক্তার ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টর একে কুদরত পাশা।
প্রতিনিধি দল সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে মতবিনিময় সভায় তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদন তুলে ধরেন এবং ইউএনওকে আরও কঠোর হয়ে বাঁধের কাজ মনিটরিংয়ের জন্য আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ দেব নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা যদি সময় পান তাহলে মাঝেমধ্যে পরিদর্শনে গেলে আমরা উপকৃত হবো। আশা করি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সঠিক সময়ে জামালগঞ্জে বাঁধের কাজ শেষ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী