বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

Notice :

এবারও কি হাওরের মাটি কলমে কাটবে?

স্টাফ রিপোর্টার ::
গত ১৫ ডিসেম্বর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রায় দেড়মাস অতিক্রান্ত হলেও শুরু হচ্ছে না কাজ। বুধবার হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি ও জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বাঁধের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, হাওরের কোথায় বাঁধ হচ্ছে তা খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না – এমন অবস্থা চলছে। এবারও ‘হাওরের মাটি কলমে কাটা হবে’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, জামালগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে যাত্রা শুরু করে চাঁনপুর, রামপুর, মান্নানঘাট, সেলিমগঞ্জ, গজারিয়া হয়ে হাওরের কোথায়ও বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে তা পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ জামালগঞ্জ-দিরাই সীমান্তে পাকনার হাওরের খোঁজ মিলে বাঁধের কাজের। বুধবার দুপুরে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায়, সাংগঠনিক স¤পাদক একে কুদরত পাশা, জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহানা আল-আজাদ, সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক এম আল আমিন, সদস্য জসিম উদ্দিনসহ পাকনার হাওর উপ-প্রকল্পের কি.মি. ২৭.৯৭৫ হতে কি.মি. ২৯.৩৫৮ ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজের পিআইসি নং ৯ পরিদর্শন করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, গাড়ি দিয়ে বাঁধে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। উক্ত প্রকল্পের সভাপতি প্রণব তালুকদার ও সদস্য সচিব বিধাংশু তালুকদার, সদস্য প্রবীর পুরকায়স্থ, প্রদীপ রায়, পরিতোষ সরকার কাউকে প্রকল্প এলাকায় পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্প এলাকায় একটি খাতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, পওর শাখা-১, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ-এর ১০ জানুয়ারির তারিখের একটি প্রিন্ট কার্যাদেশ পাওয়া যায়। তবে সে কার্যাদেশে কাবিটা স্কীম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবের নাম পদবী লিখা থাকলেও তাদের স্বাক্ষর নেই।
আলীপুর জামালগঞ্জ অংশ থেকে নতুন জগন্নাথপুর পর্যন্ত বাঁধ পরিদর্শন করে দেখা যায়, গত বারের বাঁধ অক্ষত আছে সে বাঁধের উপর এক থেকে দেড় ফুট মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এতেই শেষ হচ্ছে ‘নিয়ম রক্ষার’ বাঁধের কাজ। তবে বাঁধ এলাকায় তুলনামূলক নিচু এলাকায় এখনো মাটি ভরাট করা হচ্ছে না। হাওর বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা জানান, ফালগুন মাস আসলে তড়িঘড়ি করে বাঁধের কাজ শুরু করা হয়। পিআইসির লোকেরা ইচ্ছেমত কাজ করেন। না বাঁধে দুর্মুজ করা হয়, না ঘাষ লাগানো হয়। বড় বড় চাকা মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করায় বৈশাখ মাসে মানুষের কাজ করতে অসুবিধা হয়।
দিরাই উপজেলার কালিয়াকোটা হাওর উপ-প্রকল্পে গিয়ে বাঁধের বেহাল অবস্থা দেখতে হয়। ভাটিপাড়া রফিনগর ইউনিয়নের কোন বাঁধে এখনো কাজ শুরু হয়নি। কালিয়াকোটা হাওর উপ-প্রকল্পের কি.মি. ২০.০৯২ হতে কি.মি. ২০.০৩৭ কি.মি. ২০.৭৪৩ হতে কি.মি. ২১৪৪০-এর পিআইস নং ৭৫ এ গিয়ে দেখা যায়, গাড়ি দিয়ে বাঁধে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় কোন সাইনবোর্ড নেই। মাটি ভরাট কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান হানিফ নামে একজন তাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। দিরাই উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের হানিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি পিআইসির কেউ নই। আমি মাটির কাজ করি। পিআইসির সভাপতির সাথে আমার চুক্তি হয়েছে আমি যতটুকু মাটি ভরাট করবো তারা প্রতি হাজার মাটির মূল্যবাবদ আমাকে ৪ হাজার ৫শ টাকা দিবে।
সুনামগঞ্জ জেলা ওয়েব পোর্টাল থেকে তথ্য নিয়ে দেখা যায়, এ বাঁধে বরাদ্দ রয়েছে ১২ লক্ষ ১১ হাজার ৯৮৪ টাকা। পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন সুদীন কুমার সরকার। তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি সাইনবোর্ড নেওয়ার জন্য দিরাই এসেছি। সাইটে কাজ চলছে।
এদিকে, নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শুরু না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করার জন্য আমরা মানববন্ধন করে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবিকে আমলে না নিয়ে কৃষকের সাথে তামাশা শুরু করেছে। এবার যদি হাওরের কোন ক্ষতি হয় তাহলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, কাজ সঠিক সময়ে শুরু না করাও একটা দুর্নীতি। পিআইসির লোকরা অপেক্ষায় আছেন আবহাওয়া ভালো থাকলে নামেমাত্র কাজ করে বরাদ্দ আত্মসাতের জন্য। আমরা সে সুযোগ দেব না। সুনামগঞ্জের কৃষক-জনতাকে নিয়ে আন্দোলন জোরদার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী