শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ন

Notice :

বিশ্বম্ভরপুর খাদ্যগুদাম এলাকা : জনগণের সুবিধার্থে সড়ক উন্মুক্ত রাখা হবে

হাসান বশির ::
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা খাদ্যগুদামের রেকর্ডিয় জায়গার উপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে ফতেপুর ইউনিয়নের কোয়ার্টার কিলোমিটার প্রবেশপথ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এই পাকা সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করেছে। সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রণালয় উপজেলা খাদ্যগুদামের ২ একর পাঁচ শতক ভূমির চারদিকে নিরাপত্তা দেয়াল তৈরির জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং কাজও চলছে। এ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে খাদ্যগুদাম এলাকার সড়কটি বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে উপজেলা খাদ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলা খাদ্যগুদামের রেকর্ডিয় জায়গার উপর দিয়ে সড়কপথটি জনগণের যাতায়াতের সুবিধার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পরবর্তীতে খাদ্যগুদামের পশ্চিম দিকে এলজিইডির নির্ধারিত জায়গা দিয়ে সড়ক স্থানান্তর হলে খাদ্যগুদামের জায়গা সংরক্ষিত থাকবে।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মুখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, খাদ্যগুদামের পশ্চিমে সড়কের নির্ধারিত জায়গাটি গভীর গর্ত। সহজেই সড়ক স্থানান্তর সম্ভব নয়। খাদ্যগুদামের জায়গার উপর দিয়ে তৎকালীন নির্মিত এই সড়কটি এলজিইডির। এপথ দিয়ে বর্তমান অবস্থায় জনযাতায়াত উন্মুক্ত রাখতে হবে। এলজিইডি ও খাদ্য বিভাগের দায়িত্বশীল মিলে পরবর্তীতে আমরা একটি সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা করব।
এদিকে, রোববার ফতেপুর ইউনিয়নের নাগরিকদের পক্ষে মোশারফ হোসেন বাবলু, সফিউল আলম ও আশরাফুল আলমসহ কয়েকজন নাগরিক বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে খাদ্যগুদামের জায়গার উপর দিয়ে এলজিইডি সড়কের ইউনিয়নের প্রবেশপথটি উন্মুক্ত রাখার জন্য একটি আবেদন দাখিল করেছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- উপজেলা সদরের সাথে ফতেপুর ইউনিয়নের যোগাযোগের জনগুরুত্ব রাস্তাটি বন্ধ করে উপজেলা খাদ্যগুদামের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ইউনিয়নবাসীর একমাত্র যোযোযোগ সড়কটি বন্ধ করা হচ্ছে। জনস্বার্থে রাস্তাটি উন্মুক্ত করার দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন বলেন, খাদ্যগুদামের জায়গা হলেও আমার ফতেপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি উন্মুক্ত রাখতে হবে।
জাতীয়পার্টি নেতা ফারুক আহমদ বলেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ মহোদয় ফতেপুর ইউনিয়নের বিশ^ম্ভরপুর-রঙ্গিয়ারচর নামে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি আধুনিক উপায়ে নির্মাণ করে দিচ্ছেন। এ রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ রঙ্গিয়ারচর ব্রিজের কাজ ইতিপূর্বে করে দিয়েছেন। সড়কের দিক পরিবর্তন হলে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়বে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, হাওররক্ষা বাঁধ পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলাম। আবেদনের বিষয়টি দেখা হয়নি। ২৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক মহোদয় হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করতে গিয়ে বিষয়টি নিজেই দেখেছেন এবং জনযাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ উন্মুক্ত রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছন। আমি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে জায়গার অবস্থার বিষয়ে সরেজমিন রিপোর্ট করার জন্য বলেছি। যেহেতু দু’টি দফতরের বিষয়, তাই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ব্যতীত এই সড়কপথ জনযাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী