মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

Notice :

কাজ শুরুই হয়নি ৮০ ভাগ প্রকল্পে

শহীদনূর আহমেদ ::
২০১৭-এর কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে সুনামগঞ্জ জেলার হাওরে পাউবো’র বাঁধের ভাঙন বন্ধকরণ ও মেরামত কাজ বাস্তবায়নকল্পে প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের এক মাস পার হয়ে গেলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি ৮০ ভাগ প্রকল্পে। এছাড়াও ৩০টি প্রকল্পে গঠিত হয়নি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। জেলার ফসলরক্ষা বাঁধের এমন হালচিত্রে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাওর সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সাধারণ কৃষকরা। নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় ফসলের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুততম সময়ে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোতে কাজ শুরু ও নির্দিষ্ট সময়ে কাজ বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্টদের তাগাদা জানিয়েছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। নতুবা ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে সাধারণ কৃষকদের সাথে নিয়ে গণআন্দোলনের ডাক দেয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে জেলার বিভিন্ন হাওরে ৯৫১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ৭৮৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারিতে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা থাকলেও ২৩ জানুয়ারি শনিবার পর্যন্ত অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে মাত্র ১৬০টি প্রকল্পে। শতকরা হিসেব করলে প্রায় ৮০ভাগ প্রকল্পে এখনও কাজই শুরু হয়নি। এছাড়াও ৩০টি স্কিমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়নি বলে জানা যায় এই তথ্যে।
জানা যায়, এবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ৩২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১২টি প্রকল্পে এখনও কাজ শুরু হয়নি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৫৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ৪১টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হলেও কাজ শুরু হয়েছে ২৭টিতে। ধর্মাপাশা উপজেলায় এবার সবচেয়ে বেশি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই উপজেলায় ১৮৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে অনুমোদিত ১৬৯ প্রকল্পের মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে মাত্র ১৪টিতে। তাহিরপুর উপজেলায় ৯১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ৮২ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হলেও কাজ শুরু হয়েছে মাত্র ৪টিতে। জামালগঞ্জ উপজেলায় ৮৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ৪৪ প্রকল্পের মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে মাত্র ১৬টিতে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় এবার ৪৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ৪৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত ২২টি প্রকল্পে কাজ শুরু বাকি রয়েছে। দিরাই উপজেলায় অনুমোদিত ১২০ প্রকল্পের মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে মাত্র ১৬টিতে। এই উপজেলায় বিভিন্ন হাওরে ৯৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কথা রয়েছে। জেলার সবচেয়ে বেশি হাওরের উপজেলা শাল্লায় ১৪৯কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৫৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের এক মাসে মাত্র ২১ টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হলেও এখনও ১০টি প্রকল্পে পিআইসি গঠন হয়নি। কাজ শুরু হয়েছে মাত্র ৪টিতে। এই উপজেলায় ৭৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করার কথা রয়েছে। দোয়ারাবাজারে ৬৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ৩৯ টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পের ৮টিতে কাজ শুরু হয়েছে ৭টিতে এখনও পিআইসি গঠন হয়নি। ছাতক উপজেলায় ১৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ১৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হলেও ১৩ প্রকল্পে এখনও পিআইসি গঠন হয়নি। কাজ শুরু হয়েছে মাত্র ৩টিতে।
এদিকে, ১১ উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের এমন ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, একমাস পেরুলেও এখনও ৮০ ভাগ প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কাজের বিষয়ে আজকেও (শনিবার) আমাদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পাউবোর সংশ্লিষ্টদের সাথে দেখা করেছি। ফসলের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছি। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতায় ২০১৭ সালের মতো হাওরডুবির ঘটনা ঘটলে ছাড় দেয়া হবে না। কৃষকদের সাথে নিয়ে গণআন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
এদিকে, উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ে সময় নেয়া ও হাওরে বিলম্বে পানি নিষ্কাশনের কারণে পিআইসি গঠনে বিলম্ব ও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হলেও নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের কারণে ৩০টি প্রকল্পে পিআইসি গঠন করতে বিলম্ব হচ্ছে। এক-দু’দিনের মধ্যে ২৩টি স্কিমে পিআইসি গঠন করা হবে। সম্ভাব্যতা না থাকায় ৭টি প্রকল্প বাতিল হতে পারে। অনুমোদিত প্রকল্পে নানা কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশাবাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী