রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

Notice :

জায়গা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ : সীমানা নির্ধারণ এখন বড় ইস্যু

হাসান বশির ::
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের পলাশ বাজারে স্থাপনা তৈরি নিয়ে দু’টি পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। পক্ষদ্বয়ের দ্বন্দ্ব নিরসনে বাজারের সীমানা নির্ধারণ এখন বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। একপক্ষের অভিযোগ, বাজারের গলিপথে দোকানঘর তৈরি করায় যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটেছে। অপরপক্ষের অভিযোগ তাইজুলের পিতার উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত রেকর্ডিয় স্বত্বে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিপক্ষরা অহেতুকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ।
বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চলতি ডিসেম্বর পক্ষদ্বয়ের উপস্থিতিতে বিশ^ম্ভরপুর থানায় সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে জায়গা সংক্রান্ত কাগজাত বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্যতীত নিষ্পত্তি সম্ভব না হওয়ায় মো. সোহেল আহমদ সহ অন্যান্যদের নামে দায়েরকৃত কোর্ট পিটিশনটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে কয়েক দিন আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কাগজপত্রসহ উভয়পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু তাইজুল ইসলাম কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হলেও মো. সোহেল আহমদের লোকজন উপস্থিত হননি। তাই বিষয়টি নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ওই ভূমির রেকর্ডপত্র ও সরেজমিন অবস্থা যাচাইয়ের জন্য পুনঃবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে উপস্থিত থাকার জন্য জানানো হয়েছে।
বর্তমানে পলাশ বাজারের এ জায়গা নিয়ে চলতে থাকা বিরোধ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে গ্রুপিং দ্বন্দ্বের কারণে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। দাবি উঠেছে বাজার সীমানার চারদিকের রেকর্ডপত্র যাচাইসহ পরিমাপ করা আবশ্যক। অন্যথায় বাজারের ব্যবসায়িক পরিবেশ, জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা, বণিক সমিতির গ্রুপিং দ্বন্দ্ব নিরসন সম্ভব নয়। তাই বাজারের সীমানা নির্ধারণ এখন বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিষয়টি কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিভন্ন দাবি উঠেছে, দাবিসমূহের মধ্যে বাজারের চারদিকের সীমানা নির্ধারণ, সীমানা পিলার স্থাপন করা অন্যতম। পলাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের জায়গা দখলমুক্ত করা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র সড়কের জায়গা চিহ্নিতকরণ, সড়ক জনপথ বিভাগ (সওজ)’র জায়গা দখলমুক্ত করা। সরকারের অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে পলাশ বাজারের অ্যাসেম্বল সেন্টারে সবজি ক্রয়/বিক্রয় বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণসহ জনস্বার্থে আরো নানা দাবি রয়েছে প্রশাসনের কাছে। তা-না হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হবে না – এমন মতামত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকে বলছেন, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী পলাশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব সীমানাজুড়ে দোকানকোঠা তৈরি করেছেন। কেউ আবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় দখল করে পাকা ভবন তৈরি করে ব্যবসা করছেন।
অনুসন্ধানে জানাযায়, জায়গার স্বত্বাধিকারী তাইজুল ইসলামের কাগজপত্র। স্যাটেলমেন্ট ম্যাপ পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাঝাইর মৌজাস্থ ১৫৬৭ খতিয়ানের (ডিপি ৭৬৯) ২৫৮২ হাল দাগের ১ শতাংশ পরিমাণ খন্ড ভূমির মালিক তিনি। তার স্বত্ব ভূমির সীমানাঘেঁষে পূর্বদিকে এলজিইডি’র পলাশ বিশ^ম্ভরপুর সড়ক, স্বত্ব ভূমির সীমানা ঘেঁষে উত্তর দিকে রয়েছে সড়ক জনপথ বিভাগের বিশ^ম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের নির্ধারিত জায়গা। এই জায়গায় উঠানো হয়েছে একটি দোকান ঘর।
প্রতিপক্ষরা বলছেন এটি গলি পথ, দীর্ঘদিন যাবত এই জায়গা খোলা ছিল, এ দ্বন্দ্বটিই এখন বিভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।
বণিক সমিতির সদস্য মো. সুহেল আহমদ বলেন, অন্যায়ভাবে বাজারের গলিপথ বন্ধ করে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ দেবনাথ বলেন এটি বাজারের জায়গা।
তাইজুল ইসলাম বলেন, আমার রেকর্ডিয় জায়গা এটি, কাগজই তার প্রমাণ করবে।
ব্যবসায়ী সংগঠনের উপদেষ্টা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, আমার পিতা উছমান আলী মড়ল ও তাইজুল ইসলামের পিতা আব্দুল আহাদ মড়লসহ আমাদের বাপ-চাচাদের জায়গায় বাজার গড়ে উঠেছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ক্রেতাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার পর অবশিষ্ট জায়গার মালিক যারা তারাই ঘর স্থাপন করেছে।
ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম বলেন, পলাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের জায়গা যারা দখল করেছে তারাই বাজারের জায়গা বেদখল করেছে।
পলাশ উচ্চ বিদ্যালয় ব্যববস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, মাঠের জায়গা মাপা প্রয়োজন। স্কুল মাঠের জায়গা বাজারে ঢুকতে পারে।
পলাশ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জুলহাস মিয়া বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাড পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ মহোদয় পলাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন বরাদ্দ দিয়েছেন কাজও প্রায় সম্পন্ন। মহোদয়কে বলেছি স্কুল মাঠের দেয়াল তৈরি করতে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য। তিনি আশ^স্ত করেছেন। কারণ দেয়াল না থাকায় একদিকে মাঠের জায়গা বেদখল প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে হাট বসিয়ে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
পলাশ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম বলেন, বিরোধের বিষয়টি নিয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসির কার্যালয়ে বসেছিলাম। আশা করি খুব শীঘ্রই একটি সমাধান হবে। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল মোল্লা উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সরেজমিন জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণ, রেকর্ডপত্র যাচাই করবেন বলে পক্ষদ্বয়কে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী