শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

Notice :

পাওনা টাকা আদায় করতে গাছে বেঁধে নির্যাতন

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের মুক্তাখাই গ্রামের বাসিন্দা ও মুক্তাখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি তোফায়েল আহমদকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। নির্যাতিত তোফায়েল আহমদ মুক্তাখাই গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) নির্যাতনের শিকার ওই দপ্তরী মো. তোফায়েল আহমদ (৩২) বাদী হয়ে একই গ্রামের মনোয়ার আলীর ছেলে শাহনুর মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে মুক্তখাই গ্রামের লোকজন জানান, প্রায় ২ বছর আগে তোফায়েল আহমদ জামিনদার হয়ে নির্যাতনকারী শাহানুর মিয়ার কাছ থেকে তার চাচাতো ভাই শাহজাহান মিয়াকে এক লাখ টাকা ধারে নিয়ে দেন। ঋণ গ্রহিতা শাহজাহান মিয়া নির্ধারিত সময়ে টাকা না দেওয়ায় শাহানুর মিয়া বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের অবহিত করেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রামের লোকজন একাধিকবার সালিশ বৈঠক ও পঞ্চায়েত করলেও জামিনদার তোফায়েল আহমদ ও তার চাচাতো ভাই শাহজাহান মিয়া উল্লেখিত টাকা দেই দিচ্ছি বলে সময় নিতে থাকেন এবং ঋণগ্রহিতা শাহজাহান মিয়া মুক্তখাই গ্রাম থেকে অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ ২ বছরেও পাওনা টাকা না পেয়ে তোফায়েলকে গত রোববার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় মুক্তাখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পেয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের লতাপাতা দিয়ে বেঁধে পাওনাদার শাহনুর মিয়া নির্যাতন করেন। এতে তোফায়েলের শরীরের বিভিন্ন জায়গা জখম হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তোফায়েলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
মুক্তাখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক মেম্বর তাজ উদ্দিন জানান, টাকা পয়সা লেনদেনের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। শাহানুর মিয়া তার পাওনা টাকা আদায় করতে না পারে জামিনদার তোফায়েলকে মারধর করেছে।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নাল আবেদীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলমান রয়েছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুক্তাদির হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী