মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

Notice :

দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
দেশে অরাজকতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ভাস্কর্য নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বৃহ¯পতিবার (৩ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত মাস্ক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানে বিএফইউজে’র নেতাদের হাতে মাস্ক তুলে দেন মন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে শুরু থেকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এই করোনাকালে, অন্য কোনও রাজনৈতিক দল সেভাবে দাঁড়ায়নি। শুধু সমালোচনার বাক্স খুলে তারা বসেছিল। বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়, প্রেস ক্লাব আর নয়াপল্টনের রাস্তায় কিছু সমাবেশ করেছে এবং সরকারের প্রতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি বিষোদগার করেছে। করোনার শুরু থেকে অপচেষ্টা ছিল মানুষের মাঝে অহেতুক ভয় সঞ্চারের। তাদের অপচেষ্টা ছিল গুজব রটানো, অপচেষ্টা ছিল মানুষকে বিভ্রান্ত করা। সেই ক্ষেত্রে মূলধারার সংবাদ মাধ্যমগুলো রেডিও, টেলিভিশন এবং মূলধারার অনলাইনগুলো বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। সেকারণে গুজব খুব বেশি কাজে লাগেনি।
তিনি বলেন, গত ৯ মাসে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে, বহু অপচেষ্টা হয়েছে। দেশকে পিছিয়ে দিতে মানুষকে বিভ্রান্ত করার এবং করোনার শুরুতে বহু শঙ্কা, আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। সসব শঙ্কা, আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে করোনাকে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন। এই করোনাকালে যখন পৃথিবীর অনেক দেশের জিডিপি গ্রোথ রেড মাইনাস অর্থাৎ ঋণাত্মক, তখন মাত্র ২২টি দেশের জিডিপি গ্রোথ রেড পজিটিভ। এই ২২টি দেশের মধ্যে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। এগুলো অনেকের সহ্য হয় না। সে কারণে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। করোনার শুরুতে এক ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল। সময়ে সময়ে গুজব রটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে গুজব রটানোর চেষ্টা হয়েছে, এখনও হচ্ছে।
ড. হাছান অভিযোগ করেন, সর্বশেষ ভাস্কর্য নিয়ে অহেতুক একটি বিতর্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যখন ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজরা আসলো, ইংরেজরা আসার আগে ভারতীয় উপমহাদেশের সরকারি ভাষা ছিল ফার্সি, ইংরেজরা আসার পর অনেকে ফতোয়া দিয়েছিলেন- ইংরেজি শিক্ষা হারাম। সেই কারণে বহুবছর মুসলমান সম্প্রদায়ের অনেকেই ইংরেজি শিখে নাই। ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলমানরা প্রথমদিকে পিছিয়ে পড়েছিল। তারপর যখন টেলিভিশন শুরু হলো ফতোয়া দেওয়া হলো- টেলিভিশন দেখা হারাম এবং যখন ছবি তুলে হজে যাওয়ার নিয়ম চালু হলো- তখনও এটি নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হলো যে, ছবি তুলে হজে গেলে সেই হজ হবে না। এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হলো।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘোষণা দেওয়া হলো, ফতোয়া দেওয়া হলো যে, যারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তারা সবাই কাফের। আজকে যারা এই ভাস্কর্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে, ওই যে ইংরেজি শিক্ষা হারাম, টেলিভিশন দেখা হারাম এবং ছবি তোলা হারাম, আর মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা যারা করছে, তারা সবাই কাফের। সেই ধারাবাহিকতায় তাদের প্রেতাত্মারাই কিন্তু এটি নিয়ে আজকে প্রশ্ন তুলছে, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যারা এগুলো করছে তাদেরকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাবো, দয়া করে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। দেশের মানুষ এটির বিরুদ্ধে ফুলে ফেঁপে উঠছে। সুতরাং, দয়া করে এই বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে বহু ভাস্কর্য বহু আগে নির্মিত হয়েছে। তখন কেউ প্রশ্ন তুলে নাই। ইসলামি বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশে, সৌদি আরবে মানুষের মুখায়বসহ শুরু করে নানা ধরনের ভাস্কর্য আছে। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে সেখানে ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আয়াতুল্লাহ খোমেনিরও ভাস্কর্য আছে। বাংলাদেশেও আগে বহু নেতার, বহু কবি, সাহিত্যিকের ভাস্কর্য এখানে আছে। তখনতো কেউ কিছু বলেন নাই। হঠাৎ করে এই প্রশ্ন আনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। কারণ, যারা এই প্রশ্নগুলো উপস্থাপন করছেন তাদের কোনও কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে। তারা বিভিন্ন দলের নেতা, তাদের দলগুলো আবার নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। সুতরাং তারা যখন বক্তব্য দেয়, তখন একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বক্তব্য দেয়। যারা এত দিন ধরে স্বাধীনতাবিরোধীদের লালন করেছে, পোষণ করেছে, স্বাধীনতাবিরোধীদের দিয়ে রাজনীতি করে, তারাই এটার পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে অভিযোগ করে মন্ত্রী সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল (বুধবার) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীতে বিনা অনুমতিতে সমাবেশ করা যাবে না।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যখন মনে করিয়ে দিলো, বিনা অনুমতিতে সমাবেশ করা যাবে না, তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিলেন। আসলে তারা বিনা অনুমতিতে গত কিছুদিন হঠাৎ করে সমাবেশ আয়োজন করছে। আর তাদের উদ্দেশ্য আমরা দেখেছি, হঠাৎ চোরাগোপ্তা মিছিল বের করে গাড়ি ভাঙচুর করে। অনুমতি নিয়ে তো সেটা করতে একটু অসুবিধা হয়। তাই আজকে একদিকে গুজব আরেকদিকে ভাস্কর্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো। আসলে ২০১৩, ১৪, ১৫ সালের পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য অপচেষ্টা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক আছেন। এখানে আর সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। একইসঙ্গে সরকারও এগুলোকে কঠোর হস্তে দমন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী