সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

Notice :

বাংলা কাব্যে হেমন্ত

:: শেখ একেএম জাকারিয়া ::
বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ হলেও কার্যত পাঁচটি ঋতুই প্রত্যক্ষ। এই সময়ে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত কিংবা বসন্তের উপস্থিত টের পেলেও হেমন্তকে মনে হয় অনুপস্থিত। নতুন ধান ঘরে না উঠলে বুঝাই যেত না এটি হেমন্ত ঋতু। দেশে প্রতিটি ঋতুর জীবনকাল দু’মাস। সে ক্ষেত্রে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ হেমন্ত ঋতু। গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শরতের বর্ধিত অংশই হচ্ছে হেমন্ত। প্রকৃতির রূপবৈচিত্যু অনুভব করলে যে কারও সহজেই বোধগম্য হবে, শরৎ ও শীতের মাঝখানে হেমন্ত যেন অনেকটাই যোগাযোগ রক্ষাকারী সেতু। আর সে হিসেবেই হেমন্ত নিজেকে তোলে ধরে তার লাজুক উপস্থিতির জানান দেয়।
কুয়াশামাখা ঘাসের ডগা, কাঁচা-পাকা ধানের গাজুড়ে লেপ্টে থাকা শিশিরকণা, উত্তরদিক থেকে আসা থিরথিরানি বাতাসে হলুদ ধানের ঢেউ খেলার নয়ন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, কাকতাড়ুয়ার উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয় হেমন্ত এসে গেছে। এ সময় মাঠজুড়ে কৃষকের কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে ধান কাটার সুমধুর গান, কৃষাণ-কৃষাণীর চোখেমুখে দেখা দেয় পরিতুষ্ট হাসি, গোলায় ধান তুলতে সর্বদা ব্যস্ত কৃষাণবধূ। উল্লিখিত সবকিছুই হেমন্তের বিশেষত্ব। বাংলাদেশে কবিতাচর্চার প্রথমদিক থেকেই কবিদের কবিতায় হেমন্ত ঋতুর উপস্থিতি লক্ষ করি। তবে এটা চিরন্তন যে, ঋতুবৈচিত্র্যের এই দেশে অপরাপর ঋতু নিয়ে যত কবিতা-ছড়া বা প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচিত হয়েছে, সে তুলনায় কবি-সাহিত্যিকদের চোখে হেমন্ত সব সময়ই অবহেলিত ছিল। এরপরেও দুই বাংলার কবিতায় সময়ে সময়ে কবিদের হাতে যেভাবে হেমন্ত নানা বর্ণে রঞ্জিত বা অঙ্কিত হয়েছে সেটাই মুখ্য বিষয়। ভারতীয় ইতিহাসের আনুমানিক ১১শ থেকে ১৫শ শতাব্দী পর্যন্ত অর্থাৎ মধ্যযুগে কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, বিহারী লাল চক্রবর্তীসহ প্রায় সবাই হেমন্তের বিষয়ে অমনোযোগী ছিলেন অথবা এ ঋতুকে সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন। তবে দু-চারজনের কবিতায় হেমন্তের উপস্থিতি টের পাই।
মহাকবি আলাওল তার ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ‘ষটঋতু বর্ণন’ খণ্ডে হেমন্তের চিত্র যেভাবে অঙ্কিত করেছেন তা নিম্নরূপঃ
“ঋতুস্থিত কহি ত্রার শুন দিয়া মন
কোন মত ছয় ঋতু কেমত লক্ষণ।
উত্তরেত হেমন্ত ঋতু ধবল আকার
লাল বস্ত্র পরিধান হিংগুলের ভার।।”
অপরদিকে কবি ঈশ্বরগুপ্ত হেমন্তের বর্ণনা করতে যেয়ে এ ঋতুর প্রবল বীরত্বের কথা উল্লেখ করেন। হেমন্ত ঋতু অশ্বপৃষ্ঠে অধিষ্ঠিত আছে, যার আবাস হিমালয়ে। এমনটাই তিনি কল্পনা করেছেন।
“হিম ঋতু মহীপতি হিমালয়ে নিবসিত
সংপতি ছাড়িয়া রাজমনী।
শাসন করিতে রাজা আসিতেছে অনিবার্য
তার সঙ্গে সেনানী হিমানী ॥”
কবি কংকন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত ‘কালকেতু’ উপাখ্যানে হেমন্তের সামান্য নমুনা আমরা লক্ষ্য করি। কবির ভাষায় –
“কার্তিক মাসেতে হয় হিমের প্রকাশ
যগজনে করে শীত নিবারণ বাস।”
মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলীতেও হেমন্তের নতুন ধান কৃষাণ-কৃষাণীর মনে তৃপ্তির আবেশ ছড়ায়। এ সময় তারা পরমসুখে আনন্দ বিলাসে মেতে ওঠে। বৈষ্ণব পদকর্তা লোচন দাসের পদে তার সু¯পষ্ট প্রমাণ মিলে।
“অঘ্রাণে নোতুন ধান্য বিলাসে
সর্বসুখ ঘরে প্রভু কি কাজ সন্ন্যাসে॥
পাটনেত ফোটে ফোটে শয়ন কম্বলে
সুখে নিদ্রা যাও তুমি আমি পদতলে॥”
মধ্যযুগের আরেক কবি কালিদাস তাঁর “ঋতুসংহার” গ্রন্থের চতুর্থ সর্গে হেমন্তকাল প্রসঙ্গে লিখেন, “নতুন পাতার আবির্ভাবে শস্যগুলি সুন্দর দেখায়, রোদ্রফুল ফোটে, শালিধান পাকে পদ্মফুল ম্লান হয়ে যায় এবং শিশির ঝরে। পীনস্তনী বিলাসবতী রমণীদের কচুমণ্ডর সুন্দর কসুমের লোহিত রাগে আরক্ত হয় এবং তুষার, কান্দফুল ও চাঁদের মতো মুক্তগুচ্ছে অলংকৃত হয়।”
এবার আধুনিক যুগের কবিদের কবিতায় আসা যাক। দেখি তাঁদের কবিতায় হেমন্তের উপস্থিতি কতটুকু। সুখের বার্তা এই যে, আধুনিক যুগের কবিদের কলমে হেমন্ত তার রূপবৈচিত্র্যের কিছুটা মূল্য পেয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশ কিছু কবিতায় আমরা হেমন্তের বিদ্যমানতা লক্ষ্য করি। বাংলা সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী এই কবির লেখায় হেমন্ত ধরা দিয়েছে এভাবে-
“ধরার আঁচল ভরিয়ে দিলে প্রচুর সোনাধানে,
দিগঙ্গনার অঙ্গন আজ পূর্ণ তোমার দানে।
আপন দানের আড়ালেতে রইরে কেন আসন পেতে,
আপনাকে এই কেমন তোমার গোপন করে রাখা।”
বাংলা সাহিত্যের ঈর্ষা করার মতো স্বভাবজাত ও অসামান্য প্রতিভার তেজোদৃপ্ত কবি কাজী নজরুল ইসলাম হেমন্তকালের দিনের চেয়ে রাতের মনোহর রূপমাধুরীতে বেশি আত্মহারা ছিলেন। তিনি তাঁর ‘অঘ্রাণের সওগাত’ কবিতায় হেমন্তের শাশ্বত রূপ তুলে ধরেছেন। কবিতার উদ্ধৃতাংশ তুলে ধরছি:
“ঋতুর খাঞ্চা ভরিয়া এলো কি ধরণীর সওগাত?
নবীন ধানের আঘ্রাণে আজি অঘ্রাণ হলো মাৎ।
‘গিন্নি পাগল’ চালের ফিরনি,আতরি ভরে নবীনা গিন্নি
হাসিতে হাসিতে দিতেছে স্বামীরে খুশিতে কাঁপিছে হাত
শিরনি রাঁধেন বড় বিবি, বাড়ি গন্ধে তেলেসমাত!”
আধুনিক ও মধ্যযুগের কবিদের মধ্যে বাংলাসাহিত্যে যার কাব্যে হেমন্ত পেয়েছে শীর্ষস্থান তিনি জীবনানন্দ দাশ। যাকে ষোলআনাই হেমন্ত প্রেমী কবি বলা হয়। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি নানাভাবে উপাদান জুগিয়েছে। বাংলার রূপ-লাবণ্য যেমন নির্মল-খোলা-সীমাহীন নীলাকাশ, সোদা মাটির গন্ধ, ধানসিঁড়ি নদী, লক্ষ্মীপেঁচা, ঝরাপাতা, ফসলের বিস্তৃৃত মাঠ, মেঠো চাঁদ-তারাসহ অসংখ্য প্রকৃতির উপাদান জীবনানন্দের কবিতার পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কবি তাঁর ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় লিখেছেন-
“আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়ির তীরে এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় -হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এ কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল ছায়ায়।”
জীবনানন্দ দাশের ‘পেঁচা’ কবিতায় হেমন্ত ধরা দিয়েছে এভাবে-
প্রথম ফসল গেছে ঘরে
হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে
শুধু শিশিরের জল ও
অঘ্রাণের নদীটির শ্বাসে
হিম-হায় আসে
বাঁশপাতা-মরাঘাস আকাশের তারা;
বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা
…..
ঘুম আর ঘুমন্তের ছবি দেখে দেখে
মেঠো চাঁদ আর মেঠো তারাদের সাথে
জাগে এক অঘ্রাণের রাতে
সেই পাখি;
আজ মনে পড়ে
সেদিনও এমনি গেছে ঘরে
প্রথম ফসল।
মাঠে মাঠে ঝরে এই শিশিরের সুর,
কার্তিক কি অঘ্রাণের রাত্রির দুপুর।
উল্লিখিত কবিতায় জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির ক্যাম্বিসে নিপুণ পটুয়ার মতো ‘হেমন্ত’কে এঁকেছেন। নদীর চোখেমুখে ঘন কুয়াশা, চাঁদ জোছনা বিলাচ্ছে প্রস্রবণের মতো। এমনি অতুলনীয় রূপবিশিষ্ট রঙ্গমঞ্চের চিত্রপট তৃপ্তিসহকারে ভোগ করার জন্য ঘুমহীন নিশিযাপন করছেন একজন কবি আর রাত্রিচর পেঁচা। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের নির্জন স্বাক্ষর কবিতায় হেমন্ত ওঠে এসেছে এভাবে-
“যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে,
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের পরে শুয়ে রবে?”
এ রকম অনেক কবিতা আছে যেখানে কবি হেমন্তের সুন্দরতাকে তুলে ধরেছেন খুবই চমকপ্রদ ও সুচারুরূপে। এ কথা নিঃসংকোচে বলা যায়, জীবনানন্দ দাশই একমাত্র কবি যার কবিতায় পুনঃপুন হেমন্ত নানাভাবে ঘুরেফিরে এসেছে। মোদ্দাকথা হেমন্ত প্রকৃতিতে গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে তাঁর কবিতায়। হেমন্ত এমনই এক ঋতু যারা কাছে থেকে দেখেছেন তারা অনুভব করতে পেরেছেন কতটা বৈচিত্র্যময়। শহুরে পরিবেশে যাদের বেড়ে ওঠা, গ্রাম বাংলার কুহেলিকাময় প্রকৃতি যাদের চোখে পড়েনি, নাগরিক সীমাবদ্ধতা যাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে তাদের চোখে হেমন্তের পাগল করা সৌন্দর্য কেবল রাজপ্রাসাদে থাকা রানীর মতোই। তাছাড়া হেমন্তের নবান্ন উৎসবে নতুন চালের পুলি-পিঠে, ফিরনি-পায়েস তৈরি করে পড়শি স্বজনদের পরিবেশন করার যে সুখ তা কেবলই অনুভব করার ও ভালোবাসার।
অবশ্য কারও কারও মতে, অগ্রহায়ণে পল্লীর ঘরে ঘরে নবান্নের উৎসব আরম্ভ হলেও হেমন্তের প্রথম মাস ‘কার্তিক’ খেটে খাওয়া নর-নারীর কাছে খুব একটা আনন্দদায়ক নয়। লোকশ্রুতি আছে, কার্তিকের অন্য নাম মরাকাতি বা মরাকার্তিক। কারা প্রথম এ মাসকে মরাকার্তিক বলেছিল, সে কথা আজও অজানা। তবে ধারণা করা হয় বৃত্তিহীন অলস সময়, অবিরাম বৃষ্টির কারণে ঘরে আটকে আছে এমন মানুষজন কার্তিক মাসকে মরাকার্তিক বলে থাকতে পারে। কিন্তু এই সময়ে হেমন্তে প্রকৃতির প্রতিকৃতি পুরোটাই ভিন্ন। হাওর-নদী, খাল-বিলের পানি কমে আসায় গাঁয়ের ছেলেরা মাছ ধরা, সাঁতার কাটা ও একে অপরের শরীরে কাঁদা-পানি মাখামাখির উৎসবে মাতে যে দৃশ্য খুবই উপভোগ্য। দৃষ্টিশোভন এই দৃশ্য বারবার আমাকে হেমন্তের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কবিতায় হেমন্তে কৃষকের গোলায় পাকা ধান তোলা, পাকা ধানের ম-ম, ম-ম গন্ধ ছড়ানো ও কৃষাণ-কৃষাণীর ব্যস্ততার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি ‘সুখের বাসর’ কবিতায় লিখেছেন-
“আশ্বিন গেল কার্তিক মাসে পাকিল ক্ষেতের ধান,
সারা মাঠভরি গাহিছে কে যেন হলদি কোটার গান।
ধানে ধানে লাগি বাজিছে বাজনা, গন্ধ উড়ায়ে বায়ু
কলমি লতার দোলন লেগেছে ফুরাল ফুলের আয়ু।”
কবি সুফিয়া কামালের হেমন্তকে নিয়ে সেই চিরচেনা ‘হেমন্ত’ কবিতার কথা কে না জানে! তাঁর কবিতাংশ নিম্নরূপ-
“সবুজ পাতার খামের ভেতর
হলুদ গাঁদা চিঠি লিখে
কোন পাথারের ওপার থেকে
আনল ডেকে হেমন্তকে?”
হেমন্ত আমাদের নতুন ধান উপহার দেয়। এ সময় উন্মীলিত উত্তরের বাতাসে মাঠে মাঠে তরঙ্গায়িত হয় সোনার মতো উজ্জ্বল ধানের শিষ। নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠা বাংলার কৃষকের চোখেমুখে জাগে নতুন স্বপ্ন। এসময় পাকা ধানের গন্ধে সুরভিত হয় চারদিক। বাংলার গ্রামগুলো কৃষকের চোখে দেখতে কেমন তা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘এই নবান্নে’ কবিতায় অতি চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন।
“এই হেমন্তে কাটা হবে ধান,
আবার শূন্য গোলায় ডাকবে ফসলের বান
পৌষ পার্বণে প্রাণ কোলাহলে বরবে গ্রামের নীরব শ্মশান।”
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের যশস্বী কবি আল মাহমুদের কবিতায় হেমন্ত এসেছে মানুষের ভালোবাসায়, কামনা ও নিসর্গের শোভায়। তাঁর কাছে হেমন্ত ঋতু এক সফলতার চাবি। কবি তাই অঘ্রাণ কবিতায় লিখেন:
“আজ এই হেমন্তের জলদ বাতাসে
আমার হৃদয় মন মানুষীর গন্ধে ভরে গেছে।
রমণীর প্রেম আর লবণ সৌরভে
আমার অহংবোধ ব্যর্থ আত্মতুষ্টির ওপর
বসায়, মর্চের দাগ, লাল কালো, কট ও কষায়।।”
হেমন্ত নিয়ে এই সময়ে চমকপ্রদ এক কবিতা লিখেছেন মহাদেব সাহা। তাঁর হেমন্ত কবিতার উদ্ধৃতি নিম্নরূপ :
“আজো আমি মনে প্রাণে শিশিরের কাছে সমর্পিত
সেই শেফালিকা ফুল, সেই গন্ধ, ভোরের কুয়াশা,
কাল পাই জীবনানন্দের হেমন্তের চিঠি
এই যে হলুদ পাতা, এই যে বিষণ্ন পাণ্ডুলিপি।”
কবি শামসুর রাহমান তাঁর ‘হেমন্ত সন্ধ্যায় কিছুকাল’ কবিতায় লিখেন-
“হেমন্তের হরিদ্রাভ পিঠের ক্ষতটি
বলে, ‘কবি, আমাকে করাও স্নান, করো নিরাময়’
যে আমাকে ভালোবাসে তাকে কাঁদিয়ে
বারবার পড়িয়ে নিজের চোখ অশ্রুহীন আমি;
কীভাবে সারাবো ক্ষত? কী করে ঝরাবো
অব্যর্থ শিশির আর্ত হেমন্তের পীড়িত শরীরে?”
এছাড়া কবি নির্মলেন্দু গুণ হেমন্ত নিয়ে সুন্দর কবিতা আমাদের উপহার দেন,
“ঝরা শেফালির মালা গাঁথা সারা
হতে না হতেই দুপুরের রোদে
সে মালা শুকায়, সজীবতা হারা
সেই শেফালিতে ভরে না হৃদয়।
গাছ ভরে যদি শেফালি ফোটালে,
কুড়াতে কেন তা সময় দিলে না?
এই অভিযোগে এই অভিশাপে
চিরকাল হবে হেমন্ত দণ্ডিত।”
এভাবেই হেমন্ত নিয়ে আরও শতশত কবিতা লিখেছেন নবীন-প্রবীণ অনেক কবি। হেমন্তের হুবহু এই রকম নানা অনুষঙ্গ কবিতার শরীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। হেমন্তকে যেমন কেউ কেউ স্নেহভরে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন, তেমনি অবহেলাও জুটেছে হেমন্তের অদৃষ্টে। মোদ্দাকথা বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের কলমে হেমন্ত ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। বাংলা কবিতায় হেমন্ত এসেছে কখনও ¯পষ্টভাবে আবার কখনোবা প্রতীকীরূপে। হেমন্তের মুগ্ধতা কিংবা নির্লিপ্ততা যাই বলি না কেন বৈচির্ত্যের ঋতু হচ্ছে হেমন্ত। হেমন্তের শরীরজুড়ে নবান্নের উৎসব লেপটে আছে। ঠিক এভাবেই মুহুর্মুহু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কবিদের কলমে অভিনব পঙক্তিমালায় সেজে উঠবে হেমন্ত। যতদিন নিসর্গ তার সৌন্দর্য-নির্যাস-সুরভি বিলি করবে, ঠিক ততদিন বাংলা কাব্যসাহিত্যে হেমন্ত জানান দেবে তার বিদ্যমানতা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কবির হাতে বিভিন্ন রূপে।
[লেখক : শেখ একেএম জাকারিয়া, কবি ও প্রাবন্ধিক]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী