শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

Notice :

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ : স্বল্প সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই

:: হোসেন তওফিক চৌধুরী ::
সিলেটের মুরারী চাঁদ কলেজ (এম.সি কলেজ) এক ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত ও মহিমান্বিত। সারা ভারত উপমহাদেশে এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম রয়েছে। সম্প্রতি কলেজ ছাত্রাবাসে এক হতভাগ্য গৃহবধূকে তার স্বামীকে আটকে রেখে পালাক্রমে গণধর্ষণের জন্য কলেজের সুনাম অনেকটা ম্লান হয়েছে। এই লোমহর্ষক ও বর্বর ঘটনায় সমগ্র সিলেট অঞ্চল ছাড়াও সারাদেশেই উত্তাল হয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও ধিক্কার জানাচ্ছে। সর্বত্র প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ হচ্ছে। সর্বত্র মানুষ সোচ্চার- উচ্চকণ্ঠ ও ফুঁসে উঠেছে। দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল ও বুদ্ধিজীবী মহল এই ঘটনার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কমিশনারগণ এই ঘটনার প্রতিবাদে পদযাত্রা করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে আসামিদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দানের দাবি জানিয়েছেন। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন এই ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোন অবস্থায়ই আসামিরা শাস্তি এড়াতে বা ঘটনার দায় এড়াতে পারবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তিনি অবিলম্বে আসামিদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, প্রায় বছর তিনেক আগেও একদল ছাত্র কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু পরিশেষে তাদের বিচার হয়েছে কিনা, তা কেউ জানে না। আবার বছর দুয়েক আগে এই কলেজেরই এক ছাত্র খাদিজা নামের এক ছাত্রীকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে কলেজ প্রাঙ্গণেই কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর এই ছাত্রী প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের প্রতি অত্যাচার, নিপীড়ন ও নারীদের সম্ভ্রমহানি বেড়ে চলেছে। এখনই যদি কঠোর হস্তে এসব অপরাধ দমন করা না হয় তবে অপরাধ সমাজকে মারাত্মকভাবে গ্রাস করে ফেলবে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সমাজে শান্তি-স্বস্তির ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য কালক্ষেপণ না করে দ্রুতবিচার আইনে এসব অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে এর পরিণতি মারাত্মক ও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে তার অপরাধের জন্য সাজা পেতেই হবে। তার রাজনৈতিক পরিচয় কখনও বিবেচ্য হতে পারে না। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন তার স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে চলবে। এটাই আইনের ভাষ্য। এ মর্মে আমাদের পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু তদন্তের সুযোগ ও পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ দিতে হবে। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা প্রভাববিস্তারের চাপ থেকে তাদেরকে মুক্ত রাখতে হবে। ইতিমধ্যে সিলেটের এম.সি কলেজের ঘটনায় চার জন আসামিকে পাকড়াও করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক। জোর পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে। এম.সি কলেজ ছাত্রাবাসের ঘটনায় সবাই শিউরে উঠেছে। একটি কলেজের ছাত্রাবাসে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটতে পারে এটা কখনও কল্পনায়ও স্থান পায়নি। কিন্তু বাস্তবে ঘটনা ঘটলো। এখন সর্বাগ্রে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
দেশে দ্রুত আইন রয়েছে। দ্রুত আইনে স্বল্প সময়ের মধ্যে এ ঘটনার বিচার চায় মানুষ। মানুষ প্রত্যাশা করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ সাজাই প্রাপ্য। আসামিরা ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে। এই অপরাধের সাজা যেন একটা দৃষ্টিন্তমূলক নজির হয় এই প্রত্যাশা সকলের। অধীর অপেক্ষায় প্রতীক্ষারত রইলো দেশবাসী। দেখা যাক কি হয়?
[লেখক : সিনিয়র আইনজীবী, কলামিস্ট]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী