শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১০:২২ অপরাহ্ন

Notice :

বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ : ফাহমিদা ইয়াসমিন

প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজানের পানিতে তিস্তার নদীর পানি বেড়ে আবারো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ। অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের দুটি পয়েন্টে পানি কমলেও এখনও বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। ফলে টানা তিন সপ্তাহ ধরে বন্যার্ত মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে রয়েছেন।
বিভিন্ন এলাকায় ভাঙা রাস্তা দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে নতুন করে প্লাবিত করেছে। এনিয়ে লাখের পর লাখ মানুষ পানিবন্দি। পানিবদ্ধতার জন্য মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ঘণ্টায় তিস্তাসহ অন্যান্ন নদীর পানি আবারো বেড়ে সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও বইছে ।
বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে অনেক কষ্টে পড়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্য সংকট। বিশুদ্ধ পানির অভাবে কোনও কোনও এলাকায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া ও আমাশয়সহ নানা পানিবাহিত রোগ।
পানি চলাচলের পথ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা কলকারখানা ও বাড়িঘরের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ফলে জেলা শহরগুলোর সর্বত্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সংশয়ে রয়েছেন সর্ব সাধারণ।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুড়িগ্রামের রৌমারি, যাত্রাপুর, উলিপুর ও চিলমারি অঞ্চল।রৌমারীতে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত উপজেলা শহর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার ভেঙে যাওয়ায় পানিতে তলিয়ে গেছে রৌমারী উপজেলা পরিষদসহ বাজার। ফলে চরম বিপাকে রয়েছে এখানকার মানুষ। একই অবস্থা বিরাজ করছে চর রাজিবপুর উপজেলায়। বন্যায় উপজেলা পরিষদে পানি ওঠায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও চিলমারীতে কাঁচকোল ব্রিজের কাছে রাস্তার ওপর দিয়ে পানি ওঠায় চিলমারী শহরে পানি ঢুকেছে।
এখন করোনাকালীন সংকটমুহূর্ত তার উপর বন্যা। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত। এখনই উচ্চবিত্তদের তাদের পাশে দাঁড়ানো খুব জরুরি। কেননা উত্তম কাজে অর্থ ব্যয় করে যে স্বস্তি পাওয়া যায়, এটাই তার মোক্ষম সময়।
বন্যায় এবার এশিয়ার প্রায় সব দেশেই বিপর্যস্ত। সব দেশেই একই সাথে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। তবে বাংলাদেশ এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কতোটা সক্ষম তা দেশ ও দেশের বাইরে বেশ আগে থেকেই জেনে গেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে বদৌলতে জানতে পেলাম, রাজধানী ঢাকায়ও জলাবন্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এখনই সময় সরকারের সম্মান রক্ষার্থে হলেও এই বিষয়টি নিয়ে স্থায়ীভাবে এগিয়ে যাওয়া। নইলে আরও দিনদিনে সমস্যা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনকে কঠোর হতে হবে তাদের রেডম্যাপ মেনে চলতে নগরবাসীকে। আইনের শাসন শক্ত হলে অপরিকল্পিত কলকারখানা গড়ে ওঠবে না। তাতে জলাবদ্ধতা অনেকাংশ কমে যাওয়ার পথ তৈরি হবে। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে রাস্তাঘাটের কাজগুলো শেষ করতে হবে।বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পানির চাপে সৃষ্ট বন্যায় অনেক স্থানে বাড়িঘর এখনো তলিয়ে গেছে সাথে সাথে আশ্রয়হীন হয়ে পড়া হাজারো মানুষের কষ্ট বেড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, গুচ্ছগ্রাম, উঁচু জায়গায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার পরিবার।
অতীতের মতো এই বিশ্বায়ন ও আধুনিক যুগেও এসব মানুষ খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ে। শৌচাগার না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় বানভাসী মানুষদের।
বিশেষ করে রাজধানী থেকে পথের দূরত্ব এবং কিছুটা অবহেলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত জেলা কুড়িগ্রামে প্রতিবছরই এমন দুর্ভোগ লক্ষ করা যায়। এ বিষয়টি সরকারকে একটু গভীরভাবে ভাবতে হবে। বুঝতে হবে তাদের চাহিদা ও বন্যা প্ল্যাবিত হতদরিদ্র মানুষদের কথা।
প্রতি ববছরই ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে এখনো প্রবাহিত হয় যা গতো কয়েক দশকের পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেয়। এই জেলার আট উপজেলার ৪৫ ইউনিয়নের প্রায় ৪০০থেকে ৫০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে থাকে সামান্য বন্যাতেও । বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে নদনদীর পানি ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। কুড়িগ্রাম ছাড়াও গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর, পঞ্চগড়, জামালপুর, নওগাঁ ও সিলেট জেলায় বরাবরাই বন্যা কবলিত হয়। বন্যার কারণে প্রতিবছরই রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ সহ বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয় বলেই এসব জেলা আর্থিকভাবে বছরের পর বছর পিছিয়ে। তবে এখনই সময় সরকার ও জনগণকে সুস্থ পরিকল্পনা করে এগিয়ে চলা। নইলে এমন ক্ষতি ও দুর্ভোগ আরও কয়েক দশক পোহাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী