সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

Notice :

ছাতক নৌপথে টোল-ট্যাক্সের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

মাসুম হেলাল ::
ছাতকের সুরমা নদীতে বালু-পাথর বোঝাই নৌযানের ইঞ্জিন ঘুরলেই টোলের নামে অন্তত তিন ঘাটে চাঁদা দিতে হয় নৌকার মাঝিদের। অভিযুক্তদের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ ও ছাতক পৌরসভার নেওয়া টোল-ট্যাক্স আদায়ের বৈধতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ প্রণীত নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না তাদের কেউই।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যস্ততম এই নৌপথে টোল-ট্যাক্স আদায়ের লাগামহীন চাঁদাবাজির কারণে বালু-পাথর ব্যবসায়ী ও নৌযান মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে বার বার প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
সুনামগঞ্জ সুরমা-ধোপাজান বালু-পথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির মিয়া বলেন, ছাতকে নৌপথে চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ী ও নৌযান মালিক-শ্রমিকরা অতিষ্ট। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে নামে-বেনামে চাঁদাবাজি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এতেকরে ব্যবসায়ীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবসায়ীদের নিকট পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ বালু-পাথর মহাল সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে বালু-পাথর নেওয়া হয়। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমানা অতিক্রম করে নৌযান নিয়ে থেকে ছাতক সীমানায় ঢোকলেই বালু-পাথর বোঝাই প্রতিটি নৌকা থেকে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের নামে নৌযানের আকার-আয়তন অনুযায়ী ‘শুল্ক আদায়’ বাবদ ৮০০ থেকে ২ হাজার, ছাতক পৌরসভার ‘টোল আদায়’ এর নামে ৫০০ টাকা ও ছাতক পৌরসভার নামে ‘ট্যাক্স-ফি আদায়’ বাবদ ৪০০ টাকা নেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, যেসকল নৌযান ইজারা প্রদানকারী সরকারি দুটি কর্তৃপক্ষের চতুর্সীমার মধ্যে নোঙর করে মালামাল উঠা-নামা করাবে, আইনত সেইসব যান থেকে টোল আদায়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বালু-পাথরসহ অন্যান্য মালামাল বোঝাই প্রায় প্রতিটি চলতি নৌকা থেকে উল্লেখিত হারে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়। টোল আদায়ের নামে এইসব বেআইনি কর্মকা- কয়েক বছর ধরে চলে আসছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
সুনামগঞ্জে হক এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বল্কহেড নৌকার সুকানি সাহাব উদ্দিন জানান, শুক্রবার ভোলাগঞ্জ থেকে সাড়ে তিন হাজার ঘনফুট বালু বোঝাই করে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে আসছিলেন তিনি। ছাতকের সীমানার কোথাও নৌকা নোঙর করে মাল উঠা-নামা না করানোর পরও অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের নামে মেসার্স বরকতিয়া ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে ১৯২৯ নম্বর রশিদের বিপরীতে ৮০০ টাকা ‘শুল্ক আদায়’ করা হয়। একই নৌকা থেকে ছাতক পৌরসভার ‘টোল আদায়’ বাবদ ইজারাদার মো. আব্দুর রউফ ৮৭৭ নম্বর রশিদের বিপরীতে আদায় করেন ৫০০ টাকা। ফের ছাতক পৌরসভার নামে ‘ট্যাক্স-ফি আদায়’ বাবদ ইজারাদার হাজী রাসেল চৌধুরী ১৩১৬ নম্বর রশিদের বিপরীতে নেন ৪০০ টাকা।
এদিকে, হক এন্টারপ্রাইজের অপর একটি বালু বোঝাই নৌকা উল্লেখিত তিন ঘাটে কথিত টোল-ট্যাক্স প্রদানের পরও শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছাতক উপজেলার বাউসা এলাকায় চাঁদাবাজির সম্মুখীন হয়। নৌকাযোগে এসে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের নামে আরো ২০০০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র। নৌকার লোকজন চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেও চাঁদাবাজরা তাদের মারধর করে। আক্রান্তদের শোর-চিৎকার শোনে অপরাপর নৌযানের মাঝি-মাল্লা ও আশপাশের লোকজন এসে চাঁদাবাজ চক্রের একজনকে আটক করলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। জনতার হাতে আটক ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে সুলেমান মিয়াকে পরে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা।
ছাতক থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন জানান, নৌপথে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক সুলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, নৌপথে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা আপসহীন। ইজারাদারদের বলে দিয়েছি নৌকা তাদের সীমানার মধ্যে ঘাটে ভিড়িয়ে লোড-আনলোড করলেই কেবল নৌকা থেকে টোল-ট্যাক্স আদায় করা যাবে। কেউ নিয়মের বাইরে গিয়ে চলতি নৌকা থেকে চাঁদাবাজি করলে ভোক্তভোগী ব্যক্তি মামলা দিলে আমরা কঠোরভাবে বিষয়টি দেখব।
তিনি আরো বলেন, ছাতকে নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। ইতোপূর্বে চারজনকে আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে। বুধবারও একজনকে আটকের পর মামলা দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী