শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

Notice :

সময় কমে আসছে, দ্রুত ধান কাটতে হবে : পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ

সময় কমে আসছে। দ্রুত সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ধান কাটা শেষ করতে হবে। এবার জেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১২লক্ষ মেট্রিকটনের বেশী। এর ভেতর আমার নির্বাচনী এলাকায় লক্ষ্যমাত্রা সুনামগঞ্জ সদরে ৯৪ হাজার ৭শত২৪ মেট্রিকটন আর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৬১হাজার ৫শত ৯৮ মেট্রিকটন।
আমার নির্বাচনী এলাকাসহ পুরো জেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জে অন্যান্য জেলা থেকে প্রায় ৫হাজার ধানকাটা শ্রমিক এসেছেন। তারা ধান কাটায় অংশ নিচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ,নেত্রকোনা হাওর এলাকায় সরকারী ভর্তুকিতে এবার সুনামগঞ্জে আরো ৩৩টা এবং নেত্রকোনায় ৪০টা ধানকাটার মেশিন পাঠিয়েছেন। এসব মেশিনের অধিকাংশ ব্যবহার হচ্ছে। ভৌগোলিক কারণে মূল আমাদের ধান কাটা শ্রমিকনির্ভর। হাওরের উঁচু এলাকায় মেশিন ব্যবহার করা যায়। বৃষ্টি হলে ভেজা মাটিতে গভীর হাওরে মেশিন কাজ করতে পারে না।
জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন বাইরের ধান কাটা শ্রমিকদের থাকার জন্য স্কুল এবং তাঁবু বা প্যান্ডেলের ব্যবস্থা করেছেন।
সদর এবং বিশ্বম্ভরপুরে মূলত বিআর ২৮ জাতের ধান এখন কাটা হচ্ছে। কয়েকদিনের ভেতর বিআর ২৯ জাতের ধান কাটা শুরু হবে।
বিআর ২৮ এর পরে বিআর ২৯ পাকা শুরু হয়। বিশ্বম্ভরপুরে ধান কাটা শ্রমিকের তেমন সংকট হবার কথা নয়। বরং কয়েকদিন আগে আমার সাথে আলাপ করেন ধনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার। তাদের এখান থেকে দিরাই উপজেলায় ধান কাটা শ্রমিক পাঠানোর বিষয় জানান।
অন্যান্য বছরের আবহাওয়ার বিচারে আমাদের ফসল কাটার সময় কমে আসছে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে হাতে আছে কয়েকদিন। কারণ ২০১৭ সালে হাওরে পানি প্রবেশ শুরু হয় ২৯ মার্চ থেকে।
২০১৮ তে পানি প্রবেশ শুরু হয় ৭মে থেকে। ২০১৯এ শুরু হয় ২ মে থেকে। এবারের আবহাওয়ার সংবাদও ভাল না।
বলা হচ্ছে ১৭-২১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২০মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবার ভারতের মেঘালয় ও বারাক অববাহিকায় ১৫০-২৫০মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের এসব অববাহিকায় বৃষ্টি হলেই আমাদের এখানে পাহাড়ী ঢল নামে। যে ঢলে তলিয়ে যায় ফসল। আবার দেশের অভ্যন্তরে অতিবৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতায় ফসলহানী হয়। করচার হাওরে জলাবদ্ধতা থেকে ফসলরক্ষায় একবার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। প্রশাসন, স্থানীয় লোকজন নিয়ে পাম্প করে হাওর থেকে পানি বের করেছিলাম। অনেক লোককে এ কাজে সক্রিয় করেছিলাম। সফলও হয়েছিলাম। পরে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আমরা ব্যর্থ হই। তবে এখন পর্যন্ত তেমন বেশি বৃষ্টিপাত হয়নি। আবার হতেও সময় লাগবে না। অতীত অভিজ্ঞতা সেটাই বলে। বিগত কয়েক বছরের হাওরে পানি প্রবেশের সময় দেখলেই বুঝা যাচ্ছে সময় ফুরিয়ে আসছে। তাই দ্রুত ধান কাটা শেষ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবছর বজ্রপাতে হাওরে ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এবার এর মধ্যেই সুনামগঞ্জে কয়েকজন বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেছেন। বজ্রপাতে মৃত্যুবরণকারীদের জন্য সরকারের বিশেষ আর্থিক সহায়তা চালু করতে হবে। পরম দয়াশীল আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
[অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সংসদ সদস্য, সুনামগঞ্জ-৪]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী