শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৫২ অপরাহ্ন

Notice :

হাওরে ধান সময় মত না কাটলে ‘বিপর্যয়’ হবে : বিশেষ ব্যবস্থার আশ্বাস

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটা বিঘ্নিত হলে ‘বিপর্যয়’ হয়ে যেতে পারে।
কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এটা নিয়ে খুব টেনশনে আছি, কারণ হাওরের ধান যদি না কাটতে পারি তাহলে আমাদের বিপর্যয় হবে।” তবে তিনি জানান, ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারি বিধি-নিষেধ অনুসরণ করে যাতে শ্রমিকরা ধান কাটতে পারেন তার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে এখন চলছে বোরো ধানের মৌসুম। আর সপ্তাহ-খানেক পরেই ধান কাটা শুরু হবে। হাওর অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান কাটা না হলে বৃষ্টিতে সেখানে পানি উঠে ব্যাপক ক্ষতি হয় ফসলের।
এ’সময়ে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকরা হাওর এলাকায় ধান কাটার জন্য আসার কথা। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে সারা দেশ কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সরকারের বিভিন্ন নির্দেশাবলী রয়েছে।
গতকাল ৯ এপ্রিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি নোটিসে ধান কাটার শ্রমিকদের ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাওর এলাকায় আগমন ও চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ’ করা হয়েছে।
“হাওর এলাকায় ধান কর্তন ও চলাচলকালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি হ্রাসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিজের, কৃষকের ও শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পালন করবেন” নোটিসে বলা হয়। কিন্তু হাওরে যেসব শ্রমিক ধান কাটার কাজ করেন তারা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর অনেকেই এখন নিজ নিজ গ্রামে চলে গেছেন। এখন তারা কীভাবে সেখান থেকে আসবেন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কীভাবে কাজ করবেন?
কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এসব এলাকার জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, তারা ব্যবস্থা করবে। তারা (শ্রমিকরা) কয়েকজনে মিলে যদি একটা গাড়ী ভাড়া করে তাহলে তাদের পরিবহন নির্বিঘ্ন করা হবে” বলেন রাজ্জাক।
করোনাভাইরাসের দিকটা বিবেচনা করে তিনি বলেন “সেসব এলাকার সিভিল সার্জন, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা তারা শ্রমিকদের পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার যেসব লাগে সেসব কিছু দেবে”।
হাওরের গুরুত্ব : বাংলাদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুসারে এবার হাওরের সাত জেলায় কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু হাওরেই হয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে। সারাদেশে এ বছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন। অধিদফতরের হিসাব মতে, হাওর অঞ্চলে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ এই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২০ ভাগের জোগান দেয় হাওর অঞ্চলের বোরো ধান।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে তাদের একাধিকবার বৈঠক হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত নির্দেশ তাদের দেয়া হয়েছে। আমাদের জেলায় ১৫০ জনের একটা তালিকা রয়েছে শ্রমিকদের। তাদের প্রথমে এখান থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। বাসে মাস্ক পরে যেভাবে সোশাল ডিসটেন্স বজায় রাখা যায় সেটা করা হবে”। আর কাজ শেষ করে ফেরার পথে আবার যে জেলায় তারা কাজ করবে তারা একই নিয়ম মেনে তাদের ফেরত পাঠাবে” বলছিলেন জাফর। তিনি বলছিলেন শ্রমিকদের পাঠানোর এই প্রক্রিয়া শেষ হতে ৩/৪দিন লাগবে। -বিবিসি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী