শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:১৪ অপরাহ্ন

Notice :

বখত পরিবারের মেয়র প্রার্থী নাদের : হাছন পরিবার থেকে কে?

মাসুম হেলাল ::
দলীয় প্রতীকের ভোটাভুটি চালু হলেও পারিবারিক প্রভাব-বলয়ে আবদ্ধ সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বার বার মূল লড়াইয়ে থাকা দুই পরিবারের পক্ষ থেকে কারা প্রার্থী হচ্ছেন- নির্বাচনী বছরের শুরু থেকে সেই হিসাব কষতে শুরু করে দিয়েছেন নাগরিকরা।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে মেয়র পদে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হুসেন বখত পরিবার বনাম মরমী কবি হাছনরাজা পরিবারের মাঝে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
বখত পরিবার থেকে গত উপনির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী নাদের বখতই দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেটা অনেকাংশেই নিশ্চিত। তবে নাদের বখতের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হাছনরাজা পরিবার থেকে এবার কে আসবেন সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মমিনুল মউজদীনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনে বখত পরিবারের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হাছনরাজা পরিবারের দেওয়ান গণিউল সালাদীনের ভোটের মাঠে অনুপস্থিতি- তাঁর প্রার্থী হওয়া, না হওয়া নিয়ে নাগরিকদের মাঝে দ্বিধা জাগিয়েছে।
এদিকে, আয়ূব বখত জগলুলের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হাছনরাজা পরিবারে অপর সদস্য দেওয়ান মুবাশ্বির রাজা চৌধুরী ওরফে সুমন রাজা আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। দলীয় প্রতীকে কিংবা স্বতন্ত্র, যেকোনোভাবেই নির্বাচনে প্রার্থী হবেন তিনি। এই পরিবারের অন্য সদস্য জেলা আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী দলীয় প্রতীক নৌকা পেলে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আয়ূব বখত জগলুলের কাছে পরাজিত হন প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যান মমিনুল মউজদীনের ছোটভাই দেওয়ান গণিউল সালাদীন। জনপ্রিয় এই পৌর চেয়ারম্যানের প্রতি সমবেদনা রাখা ভোটারদের মন জয় করতে ‘হৃদয়ে মউজদীন, দুয়ারে সালাদীন’ স্লোগান নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন তিনি। সেই নির্বাচনে চার হাজার ২৫৯ ভোটে বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন আয়ূব বখত জগলুল। দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার দুই বছর এক মাসের মাথায় ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য জননেতা আয়ূব বখত জগলুল। তাঁর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে নৌকা নিয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হন প্রয়াত জগলুলের ছোটভাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা নাদের বখত। ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ওই উপনির্বাচনে ৬ হাজার ৮৬৭ ভোটে নাদের বখতের কাছে আবারো পরাজিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন।
এদিকে, পর পর দুটি নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান দখলকারী মেয়র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীনের পারিবারিক ঐতিহ্য আর প্রয়াত পৌর মেয়র মমিনুল মউজদীনের প্রতি তাঁর ভক্তদের সমবেদনা ছিল নির্বাচনের মূল চালিকাশক্তি। ভোটের পর নিজের কর্মী-সমর্থকদের পাশে থাকা অথবা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে পরবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করতে পৌর নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না তিনি।
সূত্র মতে, উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনেছিলেন পরাজিত প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন। আগামী নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতে পরামর্শ দেন তার একনিষ্ঠ কর্মীরা। দলীয় প্রতীক থাকার কারণে সালাদীন যদি প্রার্থী না হন, তাহলে হাছনরাজা পরিবার থেকে একক প্রার্থী হচ্ছেন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সুমন রাজা।
দেওয়ান গণিউল সালাদীন বলেন, নির্বাচনের এখনো বেশ কয়েক মাস বাকি আছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রার্থী হব কি না এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে সময় আসলে বলতে পারবো।
জানা যায়, হাছনরাজা পরিবার থেকে প্রার্থী যে-ই হোন না কেন দলীয় সমর্থন, টানা দুই মেয়াদের ‘ব্যাপক উন্নয়ন’ আর পারিবারিক ভোটব্যাংক দিয়ে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত বর্তমান পৌর মেয়র নাদের বখত।
নাদের বখত বলেন, আগামী নির্বাচনেও নেত্রীর কাছে নৌকা চাইবো। দল আমাকে সমর্থন দিলে নির্বাচন করার প্রস্তুতি আমার রয়েছে। তিনি বলেন, উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে আমার ভাই প্রয়াত পৌর মেয়র জননেতা আয়ূব বখত জগলুলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা করে গেছি। আমার ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো পর্যায়ক্রমে সমাপ্ত করছি। পৌর এলাকায় এখন ব্যাপক উন্নয়নকাজ হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে সম্মানিত পৌর নাগরিকরা সেই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখবেন বলে আমি পূর্ণ আশাবাদী।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ভোটাররা মনে করেন, প্রতীক যা-ই হোক অতীতের মতো সুনামগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন শেষ মুহূর্তে এসে ‘পারিবারিক লড়াই’য়ে রূপ নেবে। এক্ষেত্রে দলীয় সমর্থন একজন প্রার্থীর জন্য ‘বোনাস পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী