বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

Notice :

নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি বাঁধের কাজ : ফসল হারানোর শঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি ::
নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি সুনামগঞ্জের ফসলরক্ষা বাঁধ তৈরির কাজ। কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) নীতিমালা অনুযায়ী সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধ তৈরির শেষ সময় ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাঁধের কাজ ৭৫ ভাগ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু হাওর পাড়ের কৃষক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কাজ হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও ৩০ ভাগ কাজও হয়নি। বাঁধের কাজে চরম অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। টেকসই বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে না। ফলে এবারো আগাম বন্যায় ফসল হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক।
জানাযায়, জেলার ১১টি উপজেলায় এবার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ করছে ৭৪৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ২৭টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২৬টি, ধর্মপাশায় ১৭৯টি, তাহিরপুর ৭০টি জামালগঞ্জে ৬৯টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৫০টি, দিরাই ১০১ট, শাল্লা ১৩৭টি, জগন্নাথপুর ৪৫টি, দোয়ারাবাজারে ৩৪টি, ছাতক ১১টি রয়েছে। তাতে খরচ হবে ১৩৩ কোটি ১৮ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, গত বছর সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় ৫৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ছিল যার মধ্যে সদর উপজেলায় ৯টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১৬টি, ধর্মপাশায় ৭৪টি, জামালগঞ্জে ৫৩টি, তাহিরপুরে ৬৩টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৪০টি, ছাতকে ৭টি, জগন্নাথপুরে ৫০টি, দোয়ারাবাজারে ২৩টি, দিরাইয়ে ১০১টি ও শাল্লা উপজেলায় ১১৪টি।
আমাদের ধর্মপাশা প্রতিনিধি জানান, ধর্মপাশা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এখানকার আটটি হাওরের ১৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ এখনো শেষ হয়নি। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের যাবতীয় কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় এখানকার বোরো ফসল রক্ষা নিয়ে কৃষকেরা শঙ্কায় রয়েছেন।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে যায়, ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, জয়ধনা, সোনামড়ল, ধানকুনিয়া, কাইলানী, ঘোড়াডোবা, গুরমা ও গুরমার বর্ধিতাংশ এই আটটি হ্ওারে ১৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করে তা চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের যাবতীয় কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাওর থেকে দেরিতে পানি নামার কারণে জরিপ, দেরিতে পিআইসি গঠনসহ অন্যান্য কাজ সঠিক সময়ে করা হয়নি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ যথাসময়ে শেষ হয়নি।
উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের প্রকল্পসমূহের গড়ে শতকরা ৬২ভাগ কাজ, গুরমা হাওরের গড়ে ৮০ভাগ কাজ, গুরমার বর্ধিতাংশ হাওরের গড়ে ৯০ভাগ কাজ, ঘোড়াডোবা হাওরের গড়ে ৮২ভাগ কাজ, জয়ধনা হাওরের গড়ে ৮৫ভাগ কাজ, কাইলানী হাওরে গড়ে ৭০ভাগ কাজ, সোনামড়ল হাওরে গড়ে ৮৫ভাগ কাজ ও ধানকুনিয়া হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প সমূহের গড়ে ৯৫ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিআইসিতে থাকা কয়েকজন কৃষক জানান, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের জন্য প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থের প্রথম কিস্তির টাকা যথাসময়ে আমাদেরকে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় নিজেদের পিঠের চামড়া বাঁচাতে গিয়ে কাজের শুরুতেই মহাজনী ঋণ করে বাঁধের কাজ শুরু করতে হয়েছে। অথচ টাকা এসেছে অনেক পরে। বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখা উচিত।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তালেব বলেন, হাওর থেকে দেরিতে পানি নামার কারণে সবগুলো প্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে শুরু করা যায়নি। এ ছাড়া বরাদ্দকৃত অর্থও সঠিক সময়ে এসে পৌঁছায়নি। এ অবস্থায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। যাবতীয় বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, খুব শিগগিরই জেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভা ডেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী