শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ১০:৫১ অপরাহ্ন

Notice :

ভুয়া মামলায় হয়রানির শিকার চার ব্যক্তি

স্টাফ রিপোর্টার ::
একটি মানুষ কোনো অপরাধ না করে সাধারণ জীবন-যাপন করবে এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো অপরাধ না করে আদালত পাড়ায় দৌড়াতে হচ্ছে সুনামগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, আমিনুল হক, আমিরুল হক ও আব্দাল হোসেনকে। তারা নিজেরাও জানেন না তারা কি অপরাধ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই জানান ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, আমি একজন কয়লা আমদানিকারক। তাহিরপুর উপজেলায় আমি কয়লার ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে রাতে আমার বাসায় পুলিশ আসে এবং আমাকে বলে আমার নামে নাকি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ। আমি পুলিশের সাথে থানায় গেলে জানতে পারি মাদারিপুরের থানার একটি মাদক মামলায় আমাকে গ্রেফতার ও সাজা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু আমি কোনদিন মাদারিপুরে যাইনি। তাহলে মাদক মামলায় কিভাবে জড়াবো। পরবর্তীতে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মাদারিপুর এলাকার বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তির মামলা সেটি আমার নামে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আদালত পাড়ায় আমাকে দৌড়াতে হচ্ছে।
অন্যদিকে সিআর-২০১২/১৯ (ঢাকা) ভুয়া একটি মামলায় ছাতক উপজেলার আব্দাল হোসেন ২৭ দিনের জেল খেটেছেন এবং তার ছোটভাই কামরান হোসেন ১ দিন জেল খেটেছেন এবং তাদের প্রতিবেশী আমিনুল হককেও একই ভুয়া মামলায় আসামি ও গ্রেফতার করা হয়। বড় ভাই আব্দাল হোসেন ২৭ দিন জেল খাটলেও কামরান হোসেনের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা থাকায় আদালত তাকে জামিন দেন এবং পরবর্তীতে আদালত সবাইকে জামিন দেন।
ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরাও কোন সময় ঢাকায় যাই নাই। তবুও ঢাকার একটি মামলায় আমাদের আসামি করা হয়েছে এবং জেল খাটতে হয়েছে। তারা দাবি করেন কোন একটি খারাপ মহল তাদের হয়রানি করার জন্য এসকল ‘ভুয়া মামলা’ দিয়ে গ্রেফতার করাচ্ছে। এসময় তারা সত্য মিথ্যা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সঠিক তদন্তের জন্য আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাড. আবুল বাশার, অ্যাড. আবু হানিফ নোমান, অ্যাড. আকিক আহমেদ প্রমুখ।
পরে ভুক্তভোগীদের পক্ষে অ্যাড. আবুল বাশার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আদালতকে অনুরোধ করেছি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য। পরবর্তীতে আদালত বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সিআর-২০১২/১৯ (ঢাকা) নংয়ে কোন মামলার অস্তিত্ব নেই। ফলে আদালত তাদের মুক্তিপ্রদান পূর্বক মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করেন।
তিনি আরো বলেন, কয়লা আমদানিকারক আব্দুল্লাহ আল মাসুদকেও যে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি ও সাজা প্রদান করা হয়েছিল সেটিরও মাদারিপুরে ওসি, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক জিআর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে উল্লেখিত মামলায় আব্দুল্লাহ আল মাসুদ নামে কোন আসামি অভিযুক্ত নেই বলে জানাযায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী