বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

Notice :

কালেক্টরেটের কর্মচারীদের কর্মবিরতি : নাগরিক সেবা ব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার ::
পদবী ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে রয়েছেন মাঠ প্রশাসনে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা। বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে বুধবার পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২য় দিনের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোন ধরনের কাজে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা মাঠ প্রশাসনে কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জেও কর্মবিরতি পালনকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান ও সমাবেশ করছেন কর্মচারীগণ।
বুধবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের কর্মচারীদের সবগুলো চেয়ার খালি। কেউই অফিস কক্ষে নেই। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে কর্মচারীগণ কর্মসূচিতে যোগদান করেছেন। কার্যালয়ের সাধারণ শাখায় দেখা যায়, সহকারীদের সমস্ত চেয়ার ফাঁকা। কর্মকর্তারা তাদের কক্ষে থাকলেও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন না। তারা খাতায় স্বাক্ষর করে কর্মবিরতিতে গেছেন উপস্থিত অফিস সহায়করা জানান। জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের গোপনীয় শাখা, জেএম শাখা, শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা, সংস্থাপন শাখা, আইসিটি শাখা, স্থানীয় সরকার শাখা, এল.এ শাখা, তথ্য অভিযোগ শাখা, রাজস্ব শাখাসহ সকল শাখায় কর্মরত কর্মচারীগণ কর্মবিরতি পালন করছেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার কার্যক্রমও বন্ধ ছিল। ফ্রন্ট ডেস্কেও কোন কর্মচারী কাজ করেননি।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলা প্রশাসনে কোনো ধরনের দাপ্তরিক কাজকর্ম হয়নি। ফ্রন্ট ডেস্কে খতিয়ান তুলতে আবেদন নিয়ে আসা অন্তত ৩০ জন লোক ফিরে গেছেন। তাদের আবেদন নেয়ার জন্য কেউ ছিলেন না। জমির খতিয়ান নিতে আসা অর্ধশতাধিক লোক খতিয়ান না পেয়ে ফিরে গেছেন। ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় জমির ক্ষতিপূরণ ও রাজস্ব শাখায় জলমহাল সংক্রান্ত বিষয়ে সেবা প্রত্যাশী লোকজন হতাশ হয়ে ফিরে যান। একই অবস্থা অন্যান্য শাখার সেবা প্রত্যাশীদের।
উপজেলা পর্যায়েও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যালয়ের সহকারীগণ কর্মবিরতি পালন করেছেন। কর্মবিরতি চলাকালে কর্মচারীগণ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে দিনভর অবস্থান ও সভা-সমাবেশ করেছেন। সমাবেশে তারা অবিলম্বে তাদের ন্যায় সঙ্গত দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।
সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আতাউর রহমান সভাপতিত্বে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আতাউর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেয়ার পরও দাবি না মানা রহস্যজনক। অফিস সহকারী হিসেবেই আমাদের মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। সমাজে আমরা হেয় হচ্ছি। মান মর্যাদা বলতে কিছুই থাকছে না। তিনি আরও জানান, পদোন্নতি ছাড়াই একই পদে কাজ করছেন মাঠ প্রশাসনের এমন হাজার হাজার কর্মচারী। এই কষ্ট নিয়ে অবসরে যাচ্ছেন। এই বৈষম্যের অবসান চেয়ে দুই দশক ধরে নানাভাবে আন্দোলন করছেন তারা। পদবী ও বেতন গ্রেড পরিবর্তনের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন একাধিকবার। নীতিনির্ধারকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন বহু বছর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির বিষয়ে কয়েকবার নির্দেশনা দিলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন করেনি।
সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী ও ভূমি কার্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির (১৩-১৬ গ্রেড) ২ শতাধিক কর্মচারী রয়েছেন। সারা দেশে আছে প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে প্রতিটি শাখায় কাজ করছেন পাঁচ থেকে আটজন অফিস সহকারী। কিন্তু প্রতি শাখায় উচ্চমান সহকারীর পদ আছে মাত্র একটি। ফলে মাঠ প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মচারী অফিস সহকারী থেকে পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন না। অফিস সহকারী হিসেবেই চাকরি জীবন শেষ করতে হচ্ছে তাদের। পদোন্নতির কোন ব্যবস্থা পদক্ষেপ নেয়নি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী