শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন

Notice :

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ : প্রধান শিক্ষককে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ শহরতলির মাইজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন গ্রামবাসী। গিয়াস উদ্দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবানগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁওয়ের বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে শিক্ষকের পরিবারের দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত স্থানীয় রাজনীতির জেরে শিক্ষককে ফাঁসাতে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল।
এলাকাবাসী জানান, মাইজবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার ছাত্রীকে কিছুদিন ধরে নানা অজুহাতে বিদ্যালয়ের ছাদে নিয়ে যেতেন প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন। সেখানে মোবাইলে তাদের পর্ন ছবি দেখাতেন তিনি। পর্ন ছবি না দেখলে পরীক্ষায় ফেল ও নানা ভয়ভীতি দেখাতেন। মঙ্গলবারও চার ছাত্রীর মধ্যে দুই ছাত্রীকে ছাদে নিয়ে পর্ন দেখানোর চেষ্টা করেন।
ভিকটিমের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর এক ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার অভিভাবকদের জানায় যে, প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ওই ছাত্রীসহ আরেক জনকে ছাদে ডেকে নিয়ে মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও দেখান। এ সময় ছাত্রীরা ছাদ থেকে নেমে আসতে চাইলে শিক্ষক ওই ছাত্রীর হাতে ধরে টানাটানি শুরু করেন। খবরটি শোনার পর বিকেল ৩টার দিকে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনকে উত্তম-মধ্যম দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে স্কুলের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন শিক্ষকরা। এদিকে, ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার খবর চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের হাজারো মানুষ বিদ্যালয়ের চারপাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন ও কুরবাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকত। পরে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করতে গেলে আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জনতা। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতাকে হটিয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসা হয়।
সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. আবুল হোসেন জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। অভিযুক্ত শিক্ষককে থানা হেফাজতে দেয়া হয়েছে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখার সময় শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন থানা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।
ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ছাত্রীর মা বলেন, আমি ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে এরকম কোনো শিক্ষক কোনো ছাত্রীর দিকে কুদৃষ্টি না দেয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ শিক্ষককে স্কুল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে সদর থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী