শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

Notice :

থেমে নেই প্রকল্প অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠছেন জেলা ও জেলার বাইরের সাধারণ মানুষজন। বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের লোকজনও প্রতিবাদে মানববন্ধন-সমাবেশ করছেন। তাছাড়া হাওরের বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায়ও বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ হয়েছে। এভাবে হাওররক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে ও দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠেছে।
সুনামগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭২৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরো ১৯টি বিশেষ প্রকল্প প্রস্তুত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল রোববার পর্যন্ত বাঁধের গড় কাজ ৪০ ভাগ হয়েছে। তবে পানি বিলম্বে নামার কারণে জামালগঞ্জ ও তাহিরপুরে কাজের অবস্থা ভালো নয়। এই দুই উপজেলায় পিছিয়ে থাকলেও আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানায় সূত্রে।
এদিকে এবার প্রাক্কলনেই বড় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের সঙ্গে অক্ষত বাঁধেও সমান বরাদ্দ দিয়ে সরকারি অর্থ অপচয়ের চেষ্টা চলছে। এতে সরকারের বিরাট অংকের টাকা লোপাটের আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। ডিজাইন অনুযায়ী কাজ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক নেতারা। এদিকে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং দলীয় লোকজনই নেপথ্যে থেকে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন ও অক্ষত প্রকল্পে সমান বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ আছে। ফলে প্রতিবাদ করেও অনিয়ম-দুর্নীতি থামানো যাচ্ছে না।
সম্প্রতি জামালগঞ্জে হাওররক্ষা বাঁধের কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করেন মুক্তিযোদ্ধা দ্বিজেন্দ্র লায় রায়। এ ঘটনায় পিআইসির লোকজন ও পিআইসির সুবিধাভোগীরা ওই মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করেছে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী দোষীদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জেলার বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে প্রতিবাদ করেছেন সিলেটে অবস্থানরত সুনামগঞ্জবাসী। এছাড়াও হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানেই মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। এরপরও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প অনুমোদন ও বাঁধের কাজে দুর্নীতি থামানো যায়নি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর বলেন, হাওররক্ষা বাঁধের প্রকল্প দুর্নীতির বড় ক্ষেত্র তৈরি করেছে। বিভিন্ন ধাপে দুর্নীতি হয়। প্রিওয়ার্ক, পোস্ট ওয়ার্কসহ প্রাক্কলনেও বিশাল দুর্নীতি হয়। প্রতিবাদ করেও এই দুর্নীতি থামানো যাচ্ছেনা। কারণ এখানে বড় ধরনের সিন্ডিকেট রয়েছে।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, আমি ধর্মপাশার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখেছি। সেখানে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হয়নি। তাছাড়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোতেও সমান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটা কেন করা হয়েছে আমরা সবাই বুঝি। হাওরকে দুর্নীতির দুষ্টচক্রের হাত থেকে বাঁচাতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, গতকাল পর্যন্ত ৭২৫টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সব প্রকল্পেই প্রায় কাজ শুরু হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ৪০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করি এবার নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ করা হবে। তিনি বলেন, হাওরের কাজও আমরা যথাযথভাবে নজরদারিতে রেখেছি। কেউ অনিয়ম করলে ছাড় নেই। পাউবো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী