শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ০২:৫৭ অপরাহ্ন

Notice :

নিরুত্তাপ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে কোন্দল

বিশেষ প্রতিনিধি ::
প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নিরুত্তাপ রাজনীতি দিয়ে নতুন বছরের প্রথম মাসটি পার করতে চলেছে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নিয়মরক্ষার কর্মসূচির বাইরে সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করার দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি হাতে নিতে দেখা যায়নি তাদের। চায়ের আড্ডা, দলীয় অফিস আর নেতাদের বসারঘরের চৌহদ্দি পেরিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার পরিবর্তে রাজনীতি দলের অভ্যন্তরে চলমান গ্রুপিং-কোন্দলে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ঠিকই।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা ‘অভার কনফিডেন্ট’ সরকার দলের বিপরীতে অনেকটাই ‘কোণঠাসা’ বিরোধীদল- রাজনীতির মাঠের এমন ভারসাম্যহীন অবস্থার কারণে রাজনীতির বিচরণক্ষেত্র ক্রমেই সংকোচিত হয়ে রাজনীতির মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হ্রাস পাচ্ছে বলে মনে করেছেন রাজনীতি সচেতনরা।
বছর শুরুর দিকে দুই রাজনৈতিক দল জেলায় তাদের ঘর গোছানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল সেটা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলে জেলা সদর থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সক্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হত। কিন্তু বাস্তবে এমন পদক্ষেপ কোনো দলই নিচ্ছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। উত্তাপহীন এই রাজনীতির কারণে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনীতি চর্চা, সাংগঠনিক কাঠামো মজবুতকরণের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, নতুন বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধীদল বিএনপি গৃহবিবাদ মিটিয়ে ঘর গোছানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন, পুনর্গঠনের করার পরিকল্পনা ছিল নেতাদের।
গেল বছরের শেষের দিকে এসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিন পর উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে নতুন বছর তরতাজা নেতৃত্বের মাধ্যমে শুরু করতে পারত আওয়ামী লীগ। কিন্তু দুটি কমিটি গঠনের পর বিবদমান পক্ষগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি কমিটি গঠনের পর কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে থেমে যায় পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। ১৪ ইউনিটের মধ্যে কমিটি হয় মাত্র দুটিতে। নতুন বছরের শুরুতেই বাকি ইউনিটগুলোতে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এ নিয়ে কোনো আলোচনাই শোনা যাচ্ছে না।
দলীয় সূত্রমতে, উপজেলায় উপজেলায় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সাথে সংসদ সদস্যদের অনুসারীদের দ্বন্দ্বের কারণে ভেস্তে যায় উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি নতুন করে গঠনের প্রক্রিয়া। প্রায় প্রতিটি উপজেলায় চরম দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। কমিটি গঠনের দুপক্ষের কেউই প্রতিপক্ষকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ। এমন পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগিয়ে নিলে দীর্ঘমেয়াদী ‘ঝামেলা’র সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা থেকে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত করে হাইকমান্ড।
সূত্রমতে, দ্বন্দ্ব নিরসনের ক্ষেত্রের মাধ্যমে ভিতরে ভিতরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের মধ্যে সমন্বয় করতে যে কোন সময় সুনামগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের ঢাকায় ডেকে পাঠাতে পারেন।
সূত্র জানায়, উপজেলা, পৌরসভা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর রাজনীতির মাঠে অনেকটাই অবসর অবস্থায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা। মাঠের রাজনীতি ঠাঁই নিয়েছে নেতাদের বসারঘর এবং দিবসকেন্দ্রীক নানা নিয়মরক্ষার কর্মসূচিগুলোর মধ্যে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান বলেন, কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসে সেই মোতবেকই আমরা কাজ করে যাব। বাকি ১২ টি ইউনিটে খুব শীঘ্রই কমিটি গঠনের কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতি করতে হলে সবাইকে সমন্বয় করে চলতে হবে। সংসদ সদস্যগণ দেশ চালাবেন, নেতারা দল চালাবেন। তৃণমূলে দল শক্তিশালী হলে এই সুফল এমপিরাই ভোগ করবেন।
এদিকে, রাজপথে নিরুত্তাপ বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন অনেকটাই সরব অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে। বিএনপি থেকে শুরু করে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলেও এখন প্রকাশ্য বিভক্তি। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ও পৌরসভার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো গঠনের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। গ্রুপিং নিরসনে জেলা বিএনপি’র সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুলের সাথে কেন্দ্রের মধ্যস্থতায় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়া, সাবেক সভাপতি নজির হোসেন, সাবেক আহ্বায়ক নাছির চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, সহ-সভাপতি নাদির আহমদ, জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকতের ঐক্য জরুরি বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন বলেন, দেশে কর্তৃত্ববাদী সরকার চলছে। রাজনীতি এখন বিএনপি’র জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। আমরা দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি মানুষের ভোটাধিকারসহ গণতান্ত্রিক সকল অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনও বেগবান করতে চাই। তিনি বলেন, আমরা সাংগঠনিকভাবে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে সকল স্তরে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী