শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:২৯ অপরাহ্ন

Notice :

সুনামগঞ্জে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী

শহীদনূর আহমেদ ::
সুনামগঞ্জে আগামী দুই বছরের মধ্যেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। তিনি বলেন, আমরা মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট নির্মাণ করছি। হাওরে ফ্লাইওভার করার প্রস্তুতি নিয়েছি। সুনামগঞ্জ থেকে মোহনগঞ্জ যাবে রেললাইন। এখন আমাদের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাকি। এই পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা। আগামী দুই বছরের মধ্যেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
রোববার সকালে সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট, পৌর মেয়র নাদের বখত, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান পীর, জেলা মাধ্যমিক অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, সদর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি হাজী আবুল কালাম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হোসেন আহমদ রাসেল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক রিংকু কুমার কর ও মানসী রায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এমএ মান্নান আরো বলেন, সুনামগঞ্জ আর পিছিয়ে থাকবেনা। আমাদের জীবনের উন্নয়ন ও পরিবর্তন হয় এমন কাজ আমরা করেই যাব। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের হাওরবাসীর প্রতি খুবই আন্তরিক। তিনি আমাকে বলেছেন, হাওরের শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ স্কুলের ডিজাইন করার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এমনভাবে স্কুলের ডিজাইন করবেন যাতে বন্যার সময় পানির উপর স্কুল ভেসে থাকে। এই সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে থাকতে পারে।
সুনামগঞ্জ শহরের সুধীজনদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমাকে সন্দেহ করবেন না। আমি এখান থেকে কোন সম্পদ নিয়ে যাওয়ার জন্য আসি নাই। সুনামগঞ্জের বুকে ছুরি মেরে শান্তিগঞ্জকে বড় করতে পারবনা, আমি বোকা নই। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ আমারও শহর। যেখানে স্কুলের জায়গা নাই সেখানে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫০০ বিঘা জমি লাগবে। এই জমি শহরে নাই।
মন্ত্রী এমএ মান্নান আরো বলেন, কিছু মানুষ বলছেন, মান্নান সব কিছু দক্ষিণে নিয়ে যাচ্ছে। এমন বলবেন না। আমার কেউ নেই। আমি একলা। আমার সামনে পিছনে কেউ নাই। আমি কিছু নেবনা, কিচ্ছু নেই নাই। আমি শেখ হাসিনার কাছ থেকে চেয়ে নতুন নিয়ে আসছি।
এমএ মান্নান বলেন, মেডিকেল কলেজ হচ্ছে শহর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে। কয়েকদিন পরে শহরের অংশ হবে। এটা সদরে পড়েছে, তারপরও কেন আমাকে সন্দেহ করা হয়, হোয়াই? এই মনোভাব দয়া করে আপনারা পরিহার করুন।
মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমাদের সরকার একটি ভিন্নধর্মী সরকার। এ সরকারের সঙ্গে পূর্বের কোনো সরকারের তুলনা করা যাবে না। যারা আমাদের সাথে একমত নয়, যারা পছন্দ করে না তারাও স্বীকার করবে এ সরকার আগের সরকারের চেয়ে আলাদা। আমরা বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার কাজে হাত দিয়েছি। দেশকে অন্ধকার কুয়ো থেকে টেনে বের করে এনে একুশ শতকের উপযোগী দেশ হিসেবে গড়ে তুলছি। আমরা বাংলাদেশের মন থেকে মানসিকতা থেকে দাসত্ববোধ পরিষ্কার করতে চাই।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বাস্তবিক যে শিক্ষা সে শিক্ষা মানুষকে উদার করে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। যে শিক্ষা সকল মানুষকে সমান চোখে দেখায়। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে না।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, হাওরভাটির জেলা সুনামগঞ্জ একটি একটি পিছিয়ে পড়া এলাকা। আমাদের পরিবেশ জলমগ্ন। এক সময় আমাদের চলাফেরা কষ্টের ছিল। মহান স্বাধীনতা আমাদের উন্নয়নের অপার সম্ভাবনার দুয়ার খোলে দিয়েছে। এখন আমরা সকল জেলার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়েছে। আমরা অচিরেই ছাতক থেকে সুনামগঞ্জে রেল নিয়ে আসবো। অবশ্যই আগামী দু-চার বছরের মধ্যে রেল আসবে। উড়াল সড়কের মাধ্যমে দুই-তিন বছরের মধ্যে নেত্রকোণার সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। জেলায় মেডিকেল কলেজ নির্মাণের কাজ চলছে। মন্ত্রিসভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন হয়েছে। আমরা টেক্সটাইল ও নার্সিং ইন্সটিটিউট পেয়েছি। এখন আমাদের দরকার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের। আমরা এই কৃষিপ্রধান জেলায় একটি বড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবো। সুনামগঞ্জ ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মাঝামাঝি হাওরের খোলা বাতাস ও ঢেউ লাগে এমন জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হবে।
শিক্ষার্থীর উদ্দেশে মন্ত্রী এমএ মান্নান আরো বলেন, তোমরা মানুষের মত মানুষ হও। মিথ্যা কথা বলবে না। আমরা চাই তোমাদের সাহস বাড়ুক। জগৎ সম্পর্কে জানো। কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ সেই সম্পর্কে জান। অন্ধের মতো অনুকরণ করো না। জেনে বুঝে যা ভালো তা গ্রহণ করো। যা বাংলার জন্য স্বাভাবিক তা গ্রহণ করো। সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য অনেক কিছু দিয়েছেন। আমাদের খাবার, আমাদের পরিবেশ। এর সাথে যদি মানিয়ে না চলি তবে আমাদের অধঃপতন অনিবার্য। নিছক মুখস্ত শিক্ষায় পাস করা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যাবে না। প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য প্রকৃত শিক্ষা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের যতœবান হতে পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী