বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

Notice :

৩২৯ উপজেলায় নির্মাণ হবে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :
বিদেশে দক্ষণ জনশক্তি পাঠানো ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন করবে সরকার। এই কাজে ব্যয় হবে ২০ হাজার ৫২৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
‘উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রকল্পটিসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ২২ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দেশে-বিদেশে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চাকরি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মক্ষম যুবকদের দক্ষ ও যোগ্য মানবস¤পদে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা এবং প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন শিক্ষার্থীর অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ দিনদিন বাড়ছে। এটি আমাদের অন্যতম শক্তি। আমরা বিশ্বাস করি ভালোমানের জনশক্তি যদি বেশি বেশি পাঠাতে পারি তবে রেমিট্যান্স আরো বাড়বে। তাই ৩২৯টি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যে নতুন টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপনের প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হলো, তাতে তো শিক্ষক দিতে হবে। শিক্ষকের প্রকট অভাব আছে। এজন্য শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যে মানের আমরা প্রশিক্ষণ দেব… সুতরাং ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করে শিক্ষকদের ট্রেনিং দাও। প্রয়োজন হলে শিক্ষকদের বিদেশে পাঠাও। কয়েকশ হলেও আমার আপত্তি নাই। যাক, তাড়াতাড়ি প্রশিক্ষণ নিয়ে আসুক।
মন্ত্রী নিজের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, উনার (প্রধানমন্ত্রী) একটা আশঙ্কা রয়েছে। অনেক জায়গায় সরকারের স্থাপনা নির্মাণ করার পর দেখা যায়, লোক নাই, চেয়ার নাই, বেঞ্চ নাই, যন্ত্র নাই। এটা পরিহার করতেই হবে। এখানে (নতুন টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রকল্পে) যেন এটা না হয়। ৩২৯ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণ করছি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চাচ্ছেন, এটা নির্মাণ হতে হতে যেন যন্ত্রপাতি, চেয়ার-টেবিল, শিক্ষক যেন প্রস্তুত থাকে।
একনেকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর অন্য নির্দেশনাগুলো তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজকে বলেছেন, শিল্পে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে হবে। সিইটিপি (কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার) স্থাপন প্রয়োজন হলে করতে হবে। আর জলাধার রাখো কাছে, যাতে আগুন লাগলে পানি দেয়া যায়। আগুন লাগলে অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না। উন্নয়ন কাজের জন্য মাটি তো কাটতেই হয়। কাটা মাটিতেই একটা জলাধার হয়ে যাবে। স্থপতিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো যে, আমাদের জলবায়ু, আবহাওয়ার যে বৈশিষ্ট্য, সেখানে আবদ্ধ ঘরে থাকা ঠিক নয়। একটু হাওয়া-টাওয়া চললে ভালো হবে, যোগ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
জানাযায়, জানুয়ারি ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ‘উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবিত ৩৮৯টি উপজেলার মধ্যে ৬৩টি উপজেলায় এর মধ্যে টিএসসি বিদ্যমান রয়েছে। তাই দ্বৈততা পরিহারের জন্য এই প্রকল্প থেকে ওই ৬৩টি উপজেলাকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট উপজেলা এবং বাংলাদেশের নবসৃষ্ট যেসব উপজেলায় কোনো টিএসসি নেই বা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়নি সেখানে টিএসসি স্থাপনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে করে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে টিএসসি বিদ্যমান থাকবে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- ৯৮৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয়, একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ও প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষক ডরমিটরি, ছাত্রীনিবাস, বাউন্ডারি ওয়াল, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, গভীর নলকূপ, ৫০০ কেভিএ সাব-স্টেশন, শহীদ মিনার, মুক্তিযোদ্ধা মন্যুমেন্ট এবং পানি সংরক্ষণাগার ইত্যাদি করা হবে। প্রতিটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে জলাধারও নির্মাণ করা হবে।
৭১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জে ‘বিসিক শিল্প পার্ক’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সভায়। মৃত্তিকা স¤পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এর ভবন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি (সিসিবিএস) প্রকল্পটি ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৯৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুরে ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন’ প্রকল্প একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
৩৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়ক ও লক্ষ্মীপুর-চরআলেকজান্ডার-সোনাপুর-মাইজদী সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভোলা (পরানতালুকদারহাট)-চরফ্যাশন (চরমানিকা) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী