সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০২:২৪ অপরাহ্ন

Notice :

পেঁয়াজের দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন রাষ্ট্রপতি

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা তাই করছে।
সোমবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পঞ্চম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি বলেন, “সবকিছু পথে আনতে হবে। ক’দিন আগে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মাঝে কমেছে, আবার বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা কী… এটা আমি বুঝি না। যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে। এটা তো হতে পারে না।”
পেঁয়াজের দাম বাড়ায় গত নভেম্বর মাসে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি।
গত সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর বাংলাদেশের বাজারে ৩০-৪০ টাকার এই পণ্যের দাম বাড়তে বাড়তে আড়াইশ টাকায় ওঠে। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দামের কারণে সরকারের সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন অনেকে, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সির পদত্যাগও চেয়েছেন কেউ কেউ।
এরপর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির পাশাপাশি বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজ ওঠায় দাম কমতে থাকে। ডিসেম্বরের শেষার্ধে দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার আশপাশে আসলেও সম্প্রতি আবার বেড়ে তা ১৮০ টাকায় উঠে যায়।
শিক্ষার্থীদের এই অবস্থা উত্তরণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, “এখানেও মনে হয় তোমাদের ভূমিকা থাকতে পারে। ছাত্ররা ইচ্ছা করলে কি না পারে। ছাত্ররা যদি মনে করে বাংলাদেশে ডিসিপ্লিন আসবে তাহলে মনে হয় পারবে।”
যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধে ছাত্রদের প্রচার চালানোর আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি।
“ক্যান্টমেন্টের ভিতরের যে পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা। এর বাইরে যে কী একটা অবস্থা সেটা বলার দরকার নেই। একই দেশ, একই ঢাকা শহর। ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে যদি এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পারে… একটা গাড়ি ঢুকলে সিগন্যাল ক্রস করে কেউ যায় না। বেল্ট ঠিকমত বাঁধে। অযথা হর্ন বাজায় না। বাইরে গেলেই তখন দেখা যায় কোনো নিয়মকানুন নেই। মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হয়।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা যখন বোতলে পানি খাও সেটা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে ফেলো না। এর বাইরে গেলেই ছুঁড়ে ফেলছ। বিদেশে গেলে স্টেশনে থুথু ফেলার সাহস পায় না। টিস্যু পেপারে থুথু ফেলে পকেটে রাখে, পরে ডাস্টবিনে ফেলে। আর আমাদের এখানে কোথায় ওয়ালে পড়ল, না কারও শরীরে পড়ল… এই অবস্থা। এই নেচার পরিবর্তন করতে হবে। রাস্তাঘাট এমন অপরিষ্কার থাকে, মারাত্মক অবস্থা। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই এই অবস্থা। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সারা বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্র যারা আছে তারা যদি একটা ক্যা¤েপইন কর, মানুষকে বলো, যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলা যাবে না। এটা করতে পারলে আমার মনে হয় বাংলাদেশ একটা ডিসিপ্লিনে আনতে পারব। না হলে বাংলাদেশ একটা ডাস্টবিন মনে করে চলছি।”
কর্মভিত্তিক শিক্ষার প্রতি জোর দিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য নিজেদের আরও যোগ্য করে তৈরির গুরুত্ব দিনদিন বেড়েই চলেছে। তাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে বিশ্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবেলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের পেশাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শ্রমবাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে। এ যুগে চাহিদা ও কর্মভিত্তিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একবিংশ শতাব্দী আমাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। আমরা আজ তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতার বিকল্প নেই। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চতর স্তরে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করা অত্যন্ত জরুরি।”
সমাবর্তনে ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা জীবনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ও তিনবাহিনীর প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী