বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

Notice :

সুনামকণ্ঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে… : ইকবাল কাগজী

গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায়ের নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের অবস্থান’। লেখার শুরুতেই লেখা হয়েছে, ‘দৈনিক সুনামকণ্ঠ আজ ৬ বছরে পদার্পণ করল। এ আনন্দঘন মুহূর্তে আমরা শুভেচ্ছা জানাই সুনামকণ্ঠ’র অগণিত পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, হকার ও শুভানুধ্যায়ীকে।’ এই আনন্দঘন মুহূর্তটি কী এবং কেমন তার আনুষ্ঠানিক রূপস্বরূপটি কী, তা প্রত্যক্ষ করা গেলো যখন পত্রিকার জন্মদিনের কেক কাটা শুরু হলো। নির্ধারিত সময়ের কীছুক্ষণ পরে।
নির্ধারিত সময় ছিল সকাল এগারোটায়। এ সময় থেকেই নিমন্ত্রিত অতিথিরা আসতে শুরু করেন। সবার আগে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন সম্ভবত এইচএমপি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ধূর্জটি কুমার বসু, যিনি সাধারণ্যে ‘রাখাল স্যার’ বলে সমধিক পরিচিত। এবং বোধ করি সবার শেষে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রফেসর পরিমল কান্তি দে, অর্থাৎ এই শহরের সবার প্রিয় পরিমল স্যার। বলা যায়, রাখাল স্যার ও পরিমল স্যার অনুষ্ঠানস্থলে আসার সময়ের ফাঁকটুকুতে অন্য সকল অতিথির শুভাগমন ঘটেছে এবং যাঁরা এর মধ্যে এসেছিলেন তাঁরা সকলেই যথারীতি অপেক্ষা করছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান কখন আসবেন। বিরক্তি উদ্রেক করার মতো বিলম্ব হলো না তাঁরা যথাসময়ে অনুষ্ঠানস্থল সুনামকণ্ঠ’র কার্যালয়ে আসলেন। পরিমল স্যার যখন এলেন তখন সম্মানিত অগ্রগণ্য অতিথিদের সবাই যে-টেবিলটিতে বেশ বড়সড় কেকটি রাখা হয়েছিল সে-টেবিলটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে গেছেন, কেক কাটার অনুষ্ঠান শুরু করবেন বলে। অগ্রগণ্যদের মধ্যে শেষ আগুন্তক পরিমল স্যারকে সসম্মানে তড়িঘড়ি করে জায়গা করে দেওয়া হলো। অগ্রগণ্যদের এই সারিতে কে কে ছিলেন তাঁদের সবাইকার নাম এখানে উধৃত করার প্রবল ইচ্ছে থাকার পরও সেটা বোধ করি আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। এই মুহূর্তে যাঁদের নাম মনে পড়ছে, তাঁরা হলেন শিক্ষাবিদ ধূর্জটি কুমার বসু, প্রফেসর পরিমল কান্তি দে, প্রফেসর দিলীপ কুমার মজুমদার, প্রফেসর ন্যাথানায়েল এডউইন ফেয়ারক্রস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর, শরণার্থী ৭১-য়ের লেখক সুখেন্দু সেন, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মো. জিয়াউল হক, দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায় প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘরটি ভরে উঠলো অতিথি সমাগমে। সবগুলো চেয়ারে লোকজন আসন গ্রহণের পর কেউ কেউ আসনের অভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এই ভিড়ের মধ্যে কোথায় যেনো একটা প্রসন্ন স্নিগ্ধতা বিরাজ করছিল। কারও মধ্যে বিরক্তি কিংবা অস্বস্তির কোনও লক্ষণাভাস পরিলক্ষিত হলো না। স্বাচ্ছদ্যবোধের সাংস্কৃতিক আলোর সমারোহে ভরপুর হয়ে থাকলো এই ছোট্ট পরিসরটি অনুষ্ঠানের সম্পন্ন আমেজ নিয়ে সারাটা সময়।
সমবেত অতিথিদের সামনে প্রথমেই অতি সংক্ষেপে ও অত্যন্ত সাদামাটাভাবে সম্পাদক বিজন সেন রায় তাঁর স্বাগত বক্তব্য ধীরে ধীরে ও নম্রকণ্ঠে উপস্থাপন করলেন এবং তারপরই সনির্বন্ধ অনুরোধ জানানো হলো সম্মানিত অতিথি পরিমল স্যারকে কীছু একটা বলতে। তারপর সম্মানিত অতিথি পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এবং সর্বশেষে বক্তব্য দিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। বক্তারা প্রত্যেকেই দৈনিক সুনামকণ্ঠের প্রতি অকুণ্ঠ শুভেচ্ছা জানালেন ও সুনামকণ্ঠের মঙ্গল কামনায় আপ্লুত হলেন এবং অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সত্য প্রকাশে দ্বিধাহীন দৈনিক সুনামকণ্ঠ প্রগতির পথে দৃঢ়পণে এগিয়ে চলবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তারপরই কেক কাটা হলো। বিষয়টা যারপরনাই অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে সারা হয়ে গেলো। অনুষ্ঠানটির সূচনাপর্ব দীর্ঘ ও কারও কারও জন্যে বিরক্তিকর আলোচনায় না গড়িয়ে শুভেচ্ছা জানানো ও কল্যাণ কামনার শব্দমালা ছড়াতে ছড়াতে শেষ হয়ে গেল এবং সবার মধ্যে রেখে গেলো একটি স্নিগ্ধতার আলোয় মোড়ানো স্বস্তিকর আমেজ। তারপর অনুষ্ঠানের প্রথমপর্ব শেষ হতে না হতেই শুরুর হলো কেক কাটা। মৃদুস্বরে সুর তোলা জলো ‘হেপি বার্থ ডে টু ইয়ো সুনামকণ্ঠ’। এই সময় অগ্রগণ্যদের সারিতে দ-ায়মান সাংবাদিক শামস শামীমের কণ্ঠটা একটু সুরেলা হয়ে উচ্চকিত হলো বেশি এবং কানে এসে সঙ্গীতের অনুরণন রেখে গেলো। কিন্তু নিচ্ছিদ্র ভিড়ের মধ্যে এ সময় কে কী করলেন দেখা গেলো না। হয় তো দুয়েক টুকরো কেক খাওয়া হলো এবং অতিথিরা আসন গ্রহণ করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো মিষ্টি বিতরণের পালা। সুনামকণ্ঠ’র সম্পাদকমণ্ডলীর সম্মানিত সভাপতি স্বয়ং অতিথিদের জন্যে মিষ্টির প্লেটগুলো নিঃসংকোচে বহন করে নিয়ে আসতে শুরু করলেন এবং স্বহস্তে বিতরণ করলেন তাঁর নিমন্ত্রিত অতিথিদের। এই দৃশ্যটি কেন জানি আমার কাছে একটু ব্যতিক্রমী ব্যতিক্রমী মনে হলো, কিন্তু এই দৃশ্যটি যতোটা ব্যতিক্রমী ছিল বোধ করি তার চেয়ে বেশি ছিল সুন্দর ও সুসংস্কৃত, সুনামকণ্ঠের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সংঘটিত ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শোভন।
আসলে খুবই সাদাসিদে অর্থাৎ বলা যায় কীছুটা অনাড়স্বর একটি ঘরোয়ামতো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দৈনিক সুনামকণ্ঠের জন্মদিন পালন করা হয়ে গেলো। অনুষ্ঠানটি যতোটা অনাড়ম্বর ছিলো ততোটাই ছিল অভ্যাগতদের শুভেচ্ছার স্নিগ্ধ আড়ম্বরে আড়াগোড়া পূর্ণ। এর কোনও তুলনা হয় না। এইটুকু পাওয়াই সুনামকণ্ঠের জন্যে সবচেয়ে বড় পাওয়া, এই পাওয়াটাই সুনামকণ্ঠের বন্ধুর পথ চলার পাথেয়। অপেক্ষায় রইলাম এমন আর একটি দিনের জন্য, যে-দিনে আবার শুভেচ্ছার ডালি সাজিয়ে হাজির হবেন সুনামকণ্ঠের সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, হকার ও শুভানুধ্যায়ীগণ এবং এইভাবে প্রতিবছরে একদিন ১ জানুয়ারি হাজিরা চলতে থাকবে বছরের পর বছর, অবিরল অন্তহীন। দৈনিক সুনামকণ্ঠের শুভেচ্ছার আড়ম্বরে স্নাত হওয়ার এই স্নিগ্ধ আশির্বাদটুকু সব সময়ের জন্য চাই, সকল পাঠক, লেখক, এজেন্ট, হকার, শুভার্থী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী