বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

Notice :

আনন্দমুখর ও শিক্ষনীয় পরিবেশে বেড়ে উঠুক হাওরের শিশুরা : মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে ‘প্রাথমিক শিক্ষা’ দেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশের সকল শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়েছেন বিশেষ উদ্যোগ: শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি।
এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষাকে সুনামগঞ্জের প্রান্তিক হাওরবাসী শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিশেষ অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের ব্রত নিয়েছে। সুনামগঞ্জের ১১ টি উপজেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন এবং সমস্যা সমাধানে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা উজ্জীবিত করতে বিদ্যালয়সমূহে দেয়া হয়েছে ১৮৬০ টি জাতীয় পতাকা এবং ১৫৭২ টি জাতীয় পতাকা স্ট্যান্ড। শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানাতে ১৪৬০টি বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কর্নার ও মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার। কোমলমতি শিশুরা যেন খেলার পরিবেশে বিদ্যালয়ে জ্ঞানার্জন করতে পারে, তাই ১৩৪৭ টি প্রাক প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ বিশেষ যত্নে সজ্জিত করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের শিশুতোষ আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, খেলনা ও আসবাবপত্রের মাধ্যমে আকৃষ্ট করা হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়েই নয়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরেপড়া রোধ করতে ৮৮১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদ্রাসায় সততা স্টোর স্থাপন করা হয়েছে। ১০৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদ্রাসায় ছাত্রীদের জন্য গার্লস কর্নার স্থাপন করা হয়েছে এবং ছাত্রীদের যাতায়াত ও ব্যবহারের সুবিধার্থে ৫৯ টি বিদ্যালয়ে নৌযানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১১৬ টি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রান্তিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের যথাযথ উপস্থিতি এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে নিজ এলাকার ৫ টি করে বিদ্যালয়ে মেন্টর হিসেবে নিয়োজিত করা হয়েছে, যারা বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক তত্ত্বাবধান করার মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিদ্যালয়টির যেকোনো ধরনের প্রয়োজন পূরণ করবেন। বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে দেয়া হয়েছে ৪৯৩৩ টি প্যাডেল বিন। এছাড়াও শ্রেণিকক্ষগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে ৪৩৮৩ টি দেয়াল ঘড়ি। বর্ষাকালে ছাত্রীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য দেয়া হয়েছে ছাতা ও নৌযান। স্বেচ্ছা অনুদানের ভিত্তিতে জেলায় অটিস্টিক শিশুদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি মনোরম ভবন। স্কাউটদের জন্য জেলা সদরে নির্মিত হচ্ছে নতুন ভবন। আগামী ১৭ মার্চ ২০২০ হতে শুরু হতে যাওয়া মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ে উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, বই পাঠ উৎসব, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরগাঁথা সংগ্রহ প্রতিযোগিতা এবং উদ্ভাবনী ভাবনা শোকেসিং প্রতিযোগিতা।
জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিশুদের বিকাশ নিশ্চিতকল্পে সরকার চালু করেছে “মিড ডে মিল”। মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন জাতীয় পর্যায়ে পড়াশোনায় প্রতিযোগিতামূলক স্থান ধরে রাখতে পারে সেজন্য সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে শিক্ষা বৃত্তি ও ভাতা। হাওরের প্রান্তিক শিশুদের সার্বিক বিকাশ সাধনে রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা। তাই শিশুদের বেড়ে ওঠাকে আরো প্রাণোচ্ছ্বল, আনন্দময় ও শিক্ষনীয় করাই জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জের অভিপ্রায়। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে জেলা প্রশাসন হাওরের শিক্ষানুরাগীসহ সচেতন মহলের সহযোগিতা চায়।
[মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী