শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন

Notice :

জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার : সেতু হবে কবে?

বাদল কৃষ্ণ দাস ::
সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে জামালগঞ্জের সাথে সাচনাবাজারের সংযোগ তৈরির দাবি লাখ লাখ মানুষ করে আসছেন যুগের পর যুগ ধরে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই দাবিটি যথাযথ উদ্যোগের অভাবে উপেক্ষিতই থেকেছে। জনপ্রতিনিধিদের দেয়া আশ্বাস আলোর মুখ দেখেনি এ পর্যন্ত। দুর্ভোগ নিয়ে সুরমা নদী পারাপারে হতাশা বেড়েছে উপজেলাবাসীর। লাখো মানুষের স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, প্রতিদিন কম করে হলেও ২০ হাজার মানুষ খেয়া নৌকা পারাপারে জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার যাতায়াত করে আসছেন। মানুষের পাশাপাশি ইঞ্জিনচালিত খেয়া নৌকায় পারাপার করা হয় মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য মালামাল। এই খেয়া পার হয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগী, সরকারি-বেসরকারি চাকুরেসহ আপামর মানুষ। প্রতিবার যাতায়াতের সময় খেয়ানৌকা যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকায় প্রতিটি যাত্রাই হয় ঝুঁকিপূর্ণ। ভরাবর্ষা কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নদী পারাপারে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। সবদিক দিয়েই সাচনাবাজার-জামালগঞ্জের জনবহুল এই খেয়াপারাপারের পথটি ঝুঁকিপূর্ণ জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এখানে একটি সেতু নির্মাণ সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, ২০১০ সালে জামালগঞ্জ-সাচনাবাজারে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে তাঁর সরকার ক্ষমতায় থাকায় সেতু নির্মাণ নিয়ে নিয়ে প্রত্যাশা বহুগুণে বেড়েছে উপজেলাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারী দল হিসেবে বরাবরই আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা বেশি থাকে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করেন, তখন তিনি ২০১০ সালে সুনামগঞ্জ সফরে এসে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দানকালে ভাটি অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রত্যাশার আলো ছড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি ছিল সুরমা নদীর ওপর জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার অংশে সেতু নির্মাণের বিষয়টি। সেই থেকে জনমনে আশার প্রদীপ জ্বলতে শুরু করে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দীর্ঘ ৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও অদ্যাবধি সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
প্রসঙ্গগত, হাওর অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জের ভাটির জনপদ জামালগঞ্জ উপজেলা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে আবির্ভূত হবে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে। এই অঞ্চলের ছোট-বড় হাওরগুলোতে ধান ও মাছের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে যাদুকাটা-ফাজিলপুর পয়েন্টে দেশ বিখ্যাত বালুর মহাল। রয়েছে নদী নির্ভর জমজমাট বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী সাচনাবাজার। অমিত সম্ভাবনা রয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পজাত অসংখ্য উদ্যোক্তা সৃষ্টির। সকল উদ্যোগের পালে হাওয়া লাগবে সুরমা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ হলে।
সেইসাথে জেলা শহর থেকে সরাসরি জামালগঞ্জ উপজেলা সদর হয়ে ধর্মপাশা-নেত্রকোণা সড়ক নির্মাণ হলে এই সেতুর কারণে পথের দূরত্ব কমে যাবে অনেকাংশে। হাওরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এই সেতুটি নির্মাণ হলে। সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সুবিশাল হাওরে উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে উৎপাদন, বিপণন ও যথাযথ ব্যবহার করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুপ্রভাব পড়বে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার সেতু নির্মাণের অগ্রগতির বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীতে জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার সেতু নির্মাণ প্রকল্পটির প্রাথমিক তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছিল এলজিইডি। যা বর্তমানে সমীক্ষা পর্যায়ে আছে। সমীক্ষার পরে ডিজাইন হবে, পরে দরপত্র আহ্বান হবে। এরপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে। এর আগে নদীর দু’পাড়ে সংযোগ সড়কের জন্য প্রায় ৮শ মিটার ভূমি অধিগ্রহণ করা হতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ২০১০ সালে ১০ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই এই ব্রিজটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অদ্যাবধি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেক কাজ হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে জরুরি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। মাঝখানে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরে তা বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে সাচনাবাজার-জামালগঞ্জ এবং মান্নানঘাট-গোলকপুর এই দুটি ব্রিজের ব্যাপারে নতুন করে প্রকল্প করার জন্য সমীক্ষা হয়েছে। এখন প্রকল্পটি অনুমোদনের পর ডিজাইন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এই দুটি ব্রিজের জন্য আলাদা প্রকল্প করা লাগছে। এগুলো বাস্তবায়নে এলজিইডি’র সক্ষমতা নেই বিধায় এর জন্য ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার করা লাগবে। আমি সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়ে যায়। এই প্রকল্পের ব্যাপারে এলজিইডির চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাথে নিয়ে মন্ত্রী মহোদয়কে এলাকার জনদুর্ভোগের কথা অবগত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছি। ব্রিজ দুটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আমি দৃঢ় আশাবাদী। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলেই আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী