শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

Notice :

অবৈধ পথে আসছে কসমেটিকস

শহীদনূর আহমেদ ::
জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধপথে অবাধে আসছে নামি-দামি ব্র্যান্ডের ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী (কসমেটিকস)। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে চোরাচালানের সাথে জড়িতরা মাঝেমধ্যে গ্রেফতার হলেও বেশিরভাগই থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অপরদিকে ভিনদেশি কসমেটিকসে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় বাজার হারাচ্ছে দেশীয় পণ্যগুলো।
অবৈধপথে কসমেটিকস আসা রোধে ব্যবসায়ীরা সরকারি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত এজাতীয় পণ্যে কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
গত ৭ ডিসেম্বর চোরাইপথে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় কসমেটিকসের চালানসহ মো. স্বপন নামে এক যুবককে আটক করে সিলেট নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। স্বপন সুনামগঞ্জের চৌমোহনীবাজারের আইমগাঁওয়ের বাসিন্দা। ওইদিন সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের হাউসা এলাকা থেকে কসমেটিকসভর্তি একটি পিক-আপ ভ্যানসহ স্বপনকে আটক করা হয়। জব্দ কসমেটিকসের মূল্য ৩ লাখ ৬২ হাজার।
পুলিশ জানায়, পিক-আপ ভ্যানে ৩২টি কার্টনে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস রাখা ছিল। এসবের মধ্যে রয়েছে ১০০ মিলিলিটারের ৩৮৪ বোতল ইমামি হেয়ার অয়েল, ২০০ মিলিলিটারের ৭২ বোতল ইমামি হেয়ার অয়েল, ৩০ গ্রাম ওজনের ১৯২টি জনসন মিল্ক+রাইস ক্রিম লোশন, ১০০ গ্রাম ওজনের ৭৯২টি জনসনস বেবি লোশন, ২০০ গ্রাম ওজনের ৩৮৪টি জনসনস বেবি লোশন ও ৩৪০ মিলিলিটারের ২৪টি সানসিল্ক কো-ক্রিয়েশন্স শ্যা¤পু।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার জেদান আল মুছা জানান, কসমেটিকসের ওই চোরাচালানটি সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে যাচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপন জানায়, সুনামগঞ্জ মডেল থানার বক্তেরগাঁও সীমান্ত দিয়ে মঙ্গলকাটা হয়ে কসমেটিকসের চালানটি দেশে আনা হয়। এ চোরাচালানের সঙ্গে আরো অনেকে জড়িত।
এছাড়া গত ৮ ডিসেম্বর (রোববার) ছাতকে বিপুল পরিমণের ভারতীয় কসমেটিকস ভর্তি পিকআপসহ তিন চোরাকারবারিকে আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। শনিবার মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় চেক পোস্টে পিকআপ তল্লাশিকালে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাস্তায় গাড়ি রেখে চালকসহ তিন চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ধাওয়া করে পুলিশ তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের মৃত জিলহজ্জ মিয়ার পুত্র কিরন মিয়া (৩০), সিলেটের শাহপরান এসএপপি থানাধীন উত্তর মোকামেরগুল পীরের বাজার এলাকার মৃত জাকির হোসেনের পুত্র পিকআপ চালক জুনেদ আহমদ (২৬) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শ্রীঘর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র পারভেজ আলী (৩৩)। জব্দকৃত বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় কসমেটিকসের বাজার মূল্য প্রায় ১১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৪৩৪টাকা।
হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রনু মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা চোরাই পথে সরকারের শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব ভারতীয় পণ্য ঢাকার চকবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে আসছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক ও তাহিরপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাইপথে বাংলাদেশে আসছে ভারতীয় কসমেটিকস। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত হাট দিয়েও দেশে আসে এসব পণ্য। এর সাথে জড়িত রয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সুনামগঞ্জে এসে এসব পণ্য নিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, অবৈধ পথে শুল্ক না দিয়ে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার মালামাল আসছে। সাধারণত রাতের আঁধারেই চলে চোরাই পণ্য আমদানি। এতে দুই দেশের শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত। আরো জানা যায়, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও থেমে নেই সীমান্তের চোরাচালান। চোরাকারবারি সিন্ডিকেট নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে চোরাই পথে এসব পণ্য দেশে নিয়ে আসছে। এর সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জড়িত। দিন দিন এসব সিন্ডিকেটের তৎপরতা বাড়ছে। ফলে দেদারসে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করছে ভারতীয় পণ্য। এতেকরে সরকার বছরে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চোরাই পণ্য বিক্রিতে লাভ বেশি। শুল্ক ছাড়া এসব পণ্যের বাজার মূল্য অনেক কম থাকে। এ কারণে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারতীয় পণ্যের কাছে মূল্য ও মানে অনেক দেশীয় পণ্য মার খাচ্ছে। এছাড়া বৈধপথে আমদানিকারকরাও এতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বেশি লাভজনক হওয়ায় বৈধ আমদানির চেয়ে অবৈধ পথের দিকেই ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবাধে ভারতীয় পণ্য প্রবেশের ফলে তারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সেইসাথে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাকসুদুল আলম বলেন, গত ৬ মাসে বিজিবি’র তৎপরতায় কসমেটিকসসহ এক কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি তৎপর রয়েছে।
এদিকে চোরাচালান রোধে নিজেদের তৎপরতার কথা জানিয়ে র‌্যাব-৯ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কর্নেল ফয়সল আহমেদ বলেন, চোরাচালান রোধে র‌্যাব তৎপর রয়েছে। গত মাসে ২টি অপারেশনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালানের সংবাদ পেলেই আমরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী