বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

Notice :

খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য বিভাগ

শহীদনূর আহমেদ ::
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করা কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণকেন্দ্র, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অতীতের তুলনায় জেলার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসলেও জনবলের ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিভাগে জনবল সংকটসহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবের কারণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ।
২৫ লক্ষাধিক জনবসতির হাওর জনপদ সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যবিভাগে মঞ্জুরিকৃত পদের বিপরীতে অর্ধেক জনবল নিয়ে স্বাস্থ্যখাত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনোমতে পথ চলছে। উন্নতমানের চিকিৎসা আর জটিল রোগ নিরাময়ের জন্য রোগীকে ছুটে চলতে হয় বিভাগীয় শহর সিলেটে কিংবা রাজধানী ঢাকায়। এতে আর্থিক ক্ষতি সাধন, মৃত্যুঝুঁকিসহ নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় তাদের।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মঞ্জুরিকৃত পদে লোকবল নিয়োগ করা হলে জেলার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার স্বাস্থ্যবিভাগের মঞ্জুরিকৃত ২০২৫টি পদের মধ্যে আবাসিক চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র কনসালটেন্ট, জুনিয়র কলসালটেন্টসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ৯৭৩টি পদ শূন্য রয়েছে। মঞ্জুরিকৃত প্রথম শ্রেণির মেডিকেল অফিসার পদে ২৬০ জনের মধ্যে পদায়নকৃত রয়েছেন মাত্র ৮৩ জন। প্রথম শ্রেণির নন-মিডিকেল অফিসার পদে ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন। নার্সিং কর্মকর্তা ৪৪৭ জনের বিপরীতে আছেন ৩৩৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদে ৬ জনের বিপরীতে ৪ জন, প্যারামেডিক্স ২২৪টি পদের বিপরীতে মাত্র ৮১ জন কর্মরত আছেন। এদিকে, স্বাস্থ্য সহকারী পদে ৪৩৫ জনের বিপরীতে রয়েছেন ২৮৩ জন, তৃতীয় শ্রেণি পদে ২৯৭ জনের বিপরীতে আছেন ১৬৮ জন, চতুর্থ শ্রেণি পদে ৩৫০ জনের বিপরীতে মাত্র ৯৬ জন কর্মরত রয়েছেন।
অপরদিকে, মঞ্জুরীকৃত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১০টি সিনিয়র কনসালটেন্ট পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৭টি ও জুনিয়র কনসালটেন্ট পদের মধ্যে মাত্র ১৪ জন কর্মরত রয়েছেন।
এছাড়াও অ্যাম্বুলেন্স, যন্ত্রপাতির চরম সংকটে ধুঁকছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলার ১১ উপজেলার ১৫টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সচল রয়েছে ৮টি। একাধিক উপজেলার অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও পরিচালনার অভাবে বন্ধ রয়েছে সেবা। নদীপথে যাতায়াতে ৩টি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স (স্পিড বোট) থাকলেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় সবকটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ১৪টি জেনারেটরের মধ্যে নষ্ট রয়েছে ৪টি। রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যে ১৪টি এক্স-রে মেশিন থাকলেও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় নষ্ট রয়েছে ১১টি। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২টি ছাতক, উপজেলা হাসপাতালে ১টি সচল থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত থাকায় সরকারি এই সম্পদ নষ্ট হওয়ার পথে।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকাসহ অ্যাম্বুলেন্স ও যন্ত্রপাতির অভাবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সদর হাসপাতাল পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে প্রত্যক্ষভাবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। জ্বর, জখম, ফোড়াসহ সামান্য আঘাত জনিত সমস্যায় যেতে হয় উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে। গুরুতর জখম বা জটিল কিছু হলেই উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাদের রেফার করা হয় সিলেটে।
ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় নারী স্বাস্থ্য ও প্রজনন সেবার জন্য নির্ভর করতে হয় শহরের ক্লিনিকের উপর। এই অবস্থায় জেলার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিভাগের মান উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগের দাবি সেবাপ্রার্থী মানুষের।
এদিকে, জাতীয়ভাবে ৫ হাজার ডাক্তার নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে পদায়নের মাধ্যমে জেলার ৬০-৭০ জন ডাক্তার নিয়োগ হতে পারে বলে জানান তিনি।
ডা. আশুতোষ দাশ বলেন, জেলার স্বাস্থ্যবিভাগের লোকবল সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করেছি। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট আন্তরিক। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে অন্যান্য সময়ের চেয়ে জেলার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন করছি আমরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী