বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

Notice :

কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়

ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
ধর্মপাশা উপজেলা সদরের ধর্মপাশা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিম ও ওই কলেজের অফিস সহায়ক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ভর্তি ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অধিক অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীদের মৌখিকভাবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মপাশা সরকারি কলেজটি পরিদর্শনে গিয়ে এই অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন ইউএনও। পরে তিনি এই পর্যন্ত ডিগ্রি প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ৩০০টাকা করে ফেরত দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে ও ৬০ টাকা করে ফেরত দেওয়ার জন্য অফিস সহায়ককে নির্দেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধর্মপাশা সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম গত রোববার থেকে শুরু হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষের নির্দেশে কলেজের রসিদের মাধ্যমে ভর্তি বাবদ স্থানীয় কৃষি ব্যাংকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়। আর অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য অফিস সহায়ক ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে আদায় করেন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ওই কলেজে ১১০জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। কলেজে রসিদে কোন কোন খাতে কতো টাকা লাগছে এ সংক্রান্ত কোনো উল্লেখ না থাকায় ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় নিয়ে ভর্তি হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমানের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। ওইদিন বেলা দেড়টার দিকে ইউএনও ধর্মপাশা সরকারি কলেজটি পরিদর্শনে যান এবং ভর্তি সংক্রান্ত রসিদে সুনির্দিষ্ট কোনো খাত উল্লেখ নেই তা দেখতে পান। আর অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে ৬০ টাকা করে বিধিবহির্ভূতভাবে আদায়ের সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভালোভাবে দেখে কিছু কিছু খাতে টাকা আদায় করা নিয়ে অসংগতি দেখতে পান ইউএনও। পরে ওই কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তিনশত টাকা করে ফেরত দেওয়ার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিমকে ও ৬০ টাকা করে ফেরত দেওয়ার জন্য অফিস সহায়ক রুহুল আমিনকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান।
অফিস সহায়ক রুহুল আমিন বলেন, আমি কম্পিউটারের কাজ জানি। তাই ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীরাই নিজেরা খুশি হয়ে আমাকে ৬০টাকা করে দিয়েছিল। এখন যেহেতু এই টাকা নিয়ে কথা উঠছে তাই ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া টাকা আমি ফেরত দিয়ে দিব।
ধর্মপাশা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল করিম বলেন, আমি এতে কোনো অনিয়ম করিনি। তবে রসিদে কিছুটা ক্রটি আছে। এটি সংশোধন করা হবে। ইউএনও স্যার এখানকার ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে ভর্তি বাবদ তিনি দুই হাজার পাঁচশত টাকার স্থলে দুই হাজার দুইশত টাকা করে দিয়েছেন। স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী দু-একদিনের মধ্যেই ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তিনশত টাকা করে ফেরত দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, অধ্যক্ষের চরম গাফিলতি কারণেই এমনটি হয়েছে। বেশ কিছু খাতে অসংগতি থাকায় ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩০০টাকা করে ফেরত দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে এবং অফিস সহায়ককে ৬০ টাকা করে ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী