মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

Notice :

ব্যবসায়ী আনন্দকে হত্যা করল কারা?

স্টাফ রিপোর্টার::
জগন্নাথপুর পৌরশহরের নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের নাম আনন্দ সরকার (২৩)। তিনি নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ থানার বটতলা গ্রামের সুনীল
সরকারের ছেলে। জগন্নাথপুর পৌর শহরে একটি ভাড়া দোকানে স্টুডিও ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। এলাকাবাসী নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে জগন্নাথপুরে ব্যবসায়ী আনন্দ সরকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় দুই বছর পূর্বে আনন্দ সরকার জগন্নাথপুর পৌরশহরে কাজের সন্ধানে আসেন। বছরখানেক তিনি শহরের একটি স্টুডিও দোকানে শ্রমিকের কাজ করেন। প্রায় বছর খানেক পূর্বে তিনি পৌর শহরের সিএ মার্কেট এলাকায় একটি ভাড়া দোকান নিয়ে ফটোস্টুডিও পরিচালনা করে আসছিল। ওই স্টুডিওতেই রাত্রিযাপন করতেন তিনি। গত ৩ দিন ধরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজন কোনো সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার আনন্দের মা ও বড় ভাই জগন্নাথপুর পৌরশহরে এসে স্থানীয় কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনকে বিষয়টি বলেন। পরে দুপুরের দিকে কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে স্টুডিওর তালা ভেঙে ভেতর প্রবেশ করে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে আনন্দ সরকারের নিথর দেহ পড়ে আছে। পুলিশকে এ বিষয়টি অবহিত করা হলে সহকারী পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান চৌধুরীর নেতৃত্বে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থল থেকে সন্ধ্যায় পুলিশ গলায় কাপড় দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে। আনন্দের গলায় রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘরের বিছানায়ও প্রচুর রক্ত লেগে ছিল। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একটি সূত্র জানায়, গত সোমবার এনজিও সংস্থা আশার জগন্নাথপুর শাখা থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করে আনন্দ সরকার। ধারণা করা হচ্ছে এই অর্থের জন্যই হয়তো তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মা জ্যোৎস্না সরকার বলেন, তিন দিন ধরে ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ। দুশ্চিতায় হচ্ছিল। শেষে খোঁজখবর নিতে আমি আমার বড় ছেলেকে নিয়ে জগন্নাথপুর আসি। ছেলের স্টুডিও খোলার পর দেখতে পাই আমার ছেলের মৃতদেহ পড়ে আছে। কারা আমার ছেলেটাকে এমনভাবে হত্যা করলো?
আশার সহকারী ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন খান জানান, স্টুডিওর মালামাল ক্রয়ের জন্য আনন্দ সরকার গত সোমবার (২ ডিসেম্বর) ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন।
এদিকে জগন্নাথপুরে ব্যবসায়ী আনন্দ সরকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এখনো নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় রনি নামের এক ব্যক্তিসহ দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
শুক্রবার জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) নবগোপাল দাশ বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। তবে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী