মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ০৬:০০ অপরাহ্ন

Notice :

জাতীয় চার নেতার প্রতি অন্তরতম শ্রদ্ধা : সুখেন্দু সেন

সারা বিশ্ব যখন উত্তপ্ত টালমাটাল, আমেরিকা-চিন দুই পরাশক্তি যখন ঘোর বিরোধী, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যখন শত্রুপক্ষে, গণতান্ত্রিক পশ্চিমা বিশ্ব যখন নীরব, আমেরিকা রাশিয়া দুই সামরিক শক্তির মুখোমুখি অবস্থানে পৃথিবীটা যখন আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের দোরগোড়ায়, ঘরের শত্রু বিভীষণেরা যখন সক্রিয়, বঙ্গবন্ধু যখন শারীরিকভাবে অনুপস্থিত– বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ভয়ংকর সময় অতিক্রমণ করে একযোগে রাজনৈতিক, সামাজিক, কূটনৈতিক ও সশস্ত্র যুদ্ধে যাঁদের নেতৃত্বে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ সফল পরিণতি পেয়েছিল, মুজিবনগর সরকারের সেই চার ইস্পাতদৃঢ় স্তম্ভ। চার জাতীয় নেতা।
একজন নজরুল ইসলাম, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। ইস্ত্রি বিহীন কুঁচকানো পাজামা পাঞ্জাবী গায়ে চাপিয়েই ৯ মাস কাটিয়ে দিয়েছেন। এমনিভাবেই ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে তাঁর তেজোদীপ্ত ভাষণে বিশ্ববাসীর সামনে একটি দেশের এবং একটি স্বাধীন দেশের বৈধ সরকারের আইনসম্মত আবির্ভাব ঘোষিত হয়েছিলো।
আরেকজন তাজউদ্দীন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী। নিজের কাপড় নিজে কেচে দিতে দিতে সেক্রেটারিকে ডিক্টেশন দিতেন। দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত পারিবারিক জীবন যাপন করবেন না এমন সংকল্পে সচিবালয়ে থাকতেন, মেসের খাবার খেতেন।
এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী। নিজের পরিবার সিরাজগঞ্জের কোন গ্রামে আটকা পড়ে আছেন। তাঁদেরকে খুঁজে নিয়ে আসতে লোক পাঠানোর খরচ একশো টাকা মন্ত্রী মহোদয় সাতদিনেও যোগাড় করতে পারেন নি। পাবনার সংসদ সদস্য আব্দুর রব কোলকাতার এক বন্ধুর কাছ থেকে একশো টাকা এনে দিলে সে টাকায় মনসুর আলীর পরিবারকে কোলকাতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান। এলাকার কিছু নেতা, ঘনিষ্ঠজনেরা তাঁর কান ভারী করছেন। আপনারইতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা। আপনি কেনো মেনে নেবেন। কামরুজ্জামান সাহেব ধৈর্য্য ধরে নীরবে শুনেন। একদিন ধীর স্থির এবং কঠোরভাবে চাটুকার-তোষামোদকারীদের বললেন- বাড়িঘর, সহায় স¤পদ, স্ত্রী-পুত্র পরিবার ফেলে রেখে প্রাণ বাঁচাতে শরণার্থী হয়ে এখানে এসেছেন। চরিত্রটা সেখানে রেখে আসতে পারলেন না। দৃঢ়ভাবে বললেন- দেশ স্বাধীন করুন আগে। তারপর ফিরে গিয়ে যত খুশি দলাদলি করুন। হতাশ সকলেই পরে নিবৃত হলেন।
এই আমাদের নেতারা। নেতা এবং নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য যাঁরা ধারণ করে গেছেন মেধায়, মননে, চর্চায়। বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত ও অনুগত সহযোগী। সে আনুগত্য, চারিত্রিক দৃঢ়তা, আদর্শের প্রতি অবিচলতা আর দেশপ্রেম শেষপর্যন্ত নিজের জীবন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
আত্মবিস্মৃত জাতির কাছে হয়তো তোমরা বিস্মৃত প্রায়, জাতি হয়তো তোমাদের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি, নতুন প্রজন্ম হয়তো তোমাদের তেমনি চিনতেও পারেনি কিন্তু ঘাতকেরা সঠিকভাবেই তোমাদের চিনতে পেরেছিলো। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা দেশ ত্যাগের আগে সভ্য বিশ্বের সকল আইন কানুন, নিয়মনীতি পদদলিত করে জেলখানার ভিতরে জাতীয় এ চার নেতাকে বর্বরোচিত উন্মত্ততায় নৃশংসভাবে হত্যা করে। ৩ নভেম্বর সেই অভিশপ্ত জেলহত্যা দিবস। চার মহান জাতীয় নেতার প্রতি অন্তরতম শ্রদ্ধা। আর সেই নিকৃষ্ট খুনী, খুনীদের রক্ষায় ইনডেমিনিটি আইন প্রণয়নকারী, প্রশ্রয়দানকারী সমর্থনকারী বর্বর অমানুষদের প্রতি চিরকালীন ঘৃণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী