রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

Notice :

মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত না হওয়ায় হতাশা

চয়ন কান্তি দাস ::
ধর্মপাশা উপজেলার হাওর এলাকার মধ্যনগর থানাধীন চারটি ইউনিয়নে পিছিয়ে থাকা নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে মাধ্যমিক পর্যায়ের একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এবারও এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত থাকা শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকে অর্থের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী ও এলাকার মানুষজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন, এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুণ্ডা উত্তর, বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ, চামরদানী ও মধ্যনগর এই চারটি ইউনিয়নে পিছিয়ে পড়া নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে বোর্ড থেকে স্বীকৃতি পায় ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত হয় ২০১০ সালের ১ মে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৪৩ জন। শিক্ষক সংখ্যা ৯ জন ও কর্মচারীর সংখ্যা চার জন। এদের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ছয় জন। এমপিওবিহীন তিন জন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে ২০১২ সাল থেকে নবম শ্রেণিতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে বোর্ড থেকে স্বীকৃতি পায় ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি। গত কয়েক বছরে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে এসএসসিতে পাসের হার ছিল- ২০১৪ সালে ৮১ দশমিক ৪৮ ভাগ, ২০১৫ সালে ৫৪ দশমিক ২৮ ভাগ, ২০১৬ সালে ৯৭ দশমিক ৮২ ভাগ, ২০১৭সালে ৮১ দশমিক ৪৮ ভাগ, ২০১৮ সালে ৪০ ভাগ এবং ২০১৯ সালে ৫৪ দশমিক ৭৯ ভাগ।
মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী লাহাব উদ্দিন বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে এইহান নাইটগার্ড হিসাবে দায়িত্ব পালন করতাছি। এই স্কুলডা এমপিওভুক্ত অইছে না হুইনা খুউব কষ্ট পাইছি। স্কুলডা এমপিও না অওয়ায় সরকারি বেতন টেতনও হাইতাছি না। ধার দেনা কইর‌্যা সংসার চালাইতাম অইতাছে। পরিবারে সদস্যদের লইয়া সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতাছি।
সহকারী শিক্ষক হৃদয় সরকার বলেন, বিদ্যালয় থেকে যৎসামান্য টাকা আমাকে দেওয়া হয়। এতে নিজের খরচ মেটাতে হিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সরকারি কোনো বেতন-ভাতাদি পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় খুব কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতে হচ্ছে।
মধ্যনগর বাজারের বাসিন্দা ব্যবসায়ী রুহুল আমিন খান বলেন, হাওর এলাকায় পিছিয়ে থাকা নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। মধ্যনগর থানাধীন এখানকার চারটি ইউনিয়নে পিছিয়ে থাকা নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে একমাত্র নারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে হাওরবাসী হিসেবে আমরা খুবই ব্যথিও এবং হতাশ হয়েছি। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য জহিরুল হক বলেন, মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টির এসএসসি’র ফলাফল সন্তোষজনক। বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমও প্রশংসনীয়। এরপরও বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ ও হতাশাজনক।
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হাওর এলাকায় পিছিয়ে পড়া নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করছে। সবারই আশা ছিল প্রতিষ্ঠানটি এবার এমপিওভুক্ত হবে। কিন্তু হয়নি। দ্রুত এটি এমপিওভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান হিসেবে এমপিভুক্ত করার জন্য বিধি মোতাবেক আবেদন করা হয়েছিল। এটি এবার এমপিওভুক্ত হবে এ নিয়ে আমাদের সকলের দৃঢ বিশ্বাসও ছিল। কিন্তু এমপিও না হওয়ায় সবার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। এটি এমপিওভুক্তির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, হাওর এলাকায় পিছিয়ে থাকা নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়া দরকার। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আবেদন পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী