রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

Notice :

তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা : প্রধান তথ্য কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার ::
প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ বলেছেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো তথ্য গোপন করা যাবে না। কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছায় তথ্য প্রদান করবেন। ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায়ে সরকারি দপ্তরে তথ্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। তথ্য পাওয়া মানুষের অধিকার। সংবিধানের ৭নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে নাগরিকরা হচ্ছেন রাষ্ট্রের মালিক। ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের দায়িত্বের ব্যাপারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- সরকারি কর্মকর্তারা হচ্ছেন জনগণের সেবক। সেবার ডালি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, তথ্য নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় যেতে হবে। সরকারি দপ্তরের সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই সেবার প্রাপ্তি বিষয়ে জানান দিতে হবে। যা ২০০৯-এর তথ্য অধিকার আইনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই আইন নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তির অধিকারের সুরক্ষা দিয়েছে।
সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত জেলা পর্যায়ে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ বিষয়ক জনঅবহিতকরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হারুন অর রশীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য কমিশনের তথ্য সচিব মো. তৌফিকুল আলম, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এমরান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, সুনামকণ্ঠ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সুনামগঞ্জের খবর সম্পাদক পংকজ কান্তি দে, জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, আমাদের সময় জেলা প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার, খোলাকাগজের জেলা প্রতিনিধি শহীদনূর আহমেদ প্রমুখ।
প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ আরো বলেন, সরকার যেখানে এক টাকা ব্যয় করবে, সেখানে কোথায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। দুর্নীতির জন্যে উন্নয়ন নষ্ট করা যাবে না।
তিনি বলেন, ২০৪১ সালে সবাইকে আমরা আধুনিক করব, আর এই উন্নয়নের সুফল সকলকে সমানভাবে পেতে হবে। সামাজিক, বৈষম্যে আটকে থাকলে চলবে না, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
মরতুজা আহমদ বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর তথ্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করলে তা তথ্য কমিশনের কাছে প্রমাণিত হলে তাকে অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মরতুজা আহমদ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে এসে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সফরের কার্যকারিতা সম্পর্কে দেশবাসীকে জানান দেন। এ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।
তিনি বলেন, দুইটি পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্য গ্রহণ করা যাবে। প্রতিষ্ঠান নিজেই তথ্য জনগণকে অবহিত করবেন। এছাড়াও নির্দিষ্ট ফরমের মাধ্যমে তথ্যের জন্য আবেদন করতে পারবেন জনগণ। কোনো দপ্তর তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে না জানলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তথ্য নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে সরাসরি তথ্য কমিশনকে জানানোর জন্যে সেবাগ্রহীতাদের প্রতি অনুরোধ করেন প্রধান তথ্য কমিশনার।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্বরত উদ্দেশ্যে তথ্য কমিশনার বলেন, আপনার দপ্তরে কি কি সেবা পাওয়া যায়, সেবা গ্রহিতা কারা তা সিটিজেন চার্টারের মাধ্যমে জানান দিন। তথ্য পেতে যেন কোনো সেবা গ্রহীতা হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে।
সরকারি সেবার তথ্য জানার কল সেন্টার সম্পর্কে প্রধান কমিশনার মরতুজা আহমদ বলেন, সামাজিক সমস্যা ও সরকারি দপ্তরের সেবা জানতে ৩৩৩ নাম্বারে কল করলেই সেবা পাওয়া যাবে। এছাড়াও ভূমি সেবা, ইমার্জেন্সি সার্ভিস, কৃষি সেবা, বিটিসিএল সেবা পেতে নির্দিষ্ট নাম্বারে কল দিলে সেবা পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী