রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

Notice :
«» শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত : বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণ «» জেলা প্রশাসনের অনন্য উদ্যোগ : দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিজয় শুভেচ্ছা জানানো হল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ স্বজনদের «» শাল্লায় যুদ্ধাপরাধী সাকা’র নামফলক : মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ «» সড়ক সংস্কারের দাবিতে ভাটিপাড়ায় মানববন্ধন «» খালেদা জিয়ার জামিন খারিজের প্রতিবাদে বিক্ষোভ «» জগন্নাথপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ «» মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে : এমপি রতন «» শর্ত সাপেক্ষে খুললো তামাবিল ইমিগ্রেশন «» সংগ্রাম সম্পাদক তিন দিনের রিমান্ডে «» মোশতাক, জিয়ার মতো মীরজাফররা আর যেন ক্ষমতায় না আসে : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি’র ৩ অঙ্গ সংগঠনে তুমুল গ্রুপিং

বিশেষ প্রতিনিধি ::
অন্তত ছয় ভাগে বিভক্ত জেলা বিএনপি’র মূলধারার অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলেও তুমুল বিভক্তি দেখা দিয়েছে। দুই ভাগে বিভক্ত নেতাকর্মীরা স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করছেন আলাদা আলাদাভাবে। এতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভাটা দেখা দিয়েছে। গ্রুপিং নিরসনে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ কিংবা মূল দলের জেলা নেতারা নীরব থাকায় দিন দিন নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়ছে দূরত্ব।
দলীয় সূত্রমতে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান জেলা বিএনপি’র প্রভাবশালী ছয় নেতা। সদরে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. ফজলুল হক আছপিয়ার সাথে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুলের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। ছাতক-দোয়ারায় মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান জেলা বিএনপি’র সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। এদিকে, আগে থেকেই পৃথক অবস্থানে ছিলেন সাবেক জেলা সভাপতি নজির হোসেন ও সাবেক জেলা আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলা বিএনপি’র এই বিভক্তির প্রভাব গিয়ে পড়ে অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতিতেও। বর্তমানে জেলা বিএনপি’র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে অঙ্গ সংগঠনের একপক্ষ এবং আছপিয়া-মিজান-নজির-নাছিরের পক্ষে অপরপক্ষ অবস্থান করছেন। জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকতের অবস্থান রয়েছে আছপিয়া বলয়ে এর বিপরীতে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েস রয়েছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে।
জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকত বলেন, বড় রাজনৈতিক দলে মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক কিন্তু সেটা বিভক্তি না। দলের প্রয়োজনে আমরা সবাই এক আছি।
এদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শামসুজ্জামান মূল দলের দুই পক্ষের সাথে ‘ব্যালেন্স মেইনটেইন’ করে চললেও সাধারণ সম্পাদক মুনাজ্জির হোসেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে অবস্থান করছেন। অপরদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন সহ-সভাপতি আছেন আছপিয়া বলয়ে।
এদিকে, জেলা ছাত্রদলের নেতারা দুই বলয়ে বিভক্ত দীর্ঘদিন ধরে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রায়হান উদ্দিন জেলা বিএনপি’র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের একান্ত আস্থাভাজন। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক একে সোহাগের অবস্থান এর বিপরীতে। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে সম্প্রতি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জেলা শহরে পৃথক কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। অপরাপর সকল কর্মসূচিও আলাদা ব্যানারে পালন করছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শামসুজ্জামান বলেন, দলে মতবিরোধ আছে ঠিকই। তবে এই মতবিরোধের কারণে দলীয় কর্মকা- থেমে নেই। আমাদের মাঝে যে বিরোধ রয়েছে সেটা নিরসনে অভিভাবক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা উদ্যোগ নিলে সেটা আর থাকবে বলে আমি মনে করি না।
সব মিলিয়ে বিএনপি’র মূল ধারার এই তিন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পৃথক পৃথকভাবে পালন করে যাচ্ছেন। গ্রুপিং নিরসনের কোন উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন বাড়ছে বিভক্তির মাত্রা। ঐক্য না থাকায় দুর্বল হয়ে পড়ছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী