সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

Notice :

হে কীর্তিমতি শতায়ু হও তুমি : বিশ্বজিত রায়

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর জননেত্রীর জন্মদিন। মানবতার জননী, পিতৃ আদর্শে বিশ্বাসী, ধৈর্য-সাহসের প্রতিরূপ, মমতাময়ী দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিন। যিনি মহাপ্রলয় ভেদ করে দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন সাফল্যের সর্বোচ্চ চূড়ায়। জয়তু শেখ হাসিনা, জয়তু জন্মদিন। বিধাতার কাছে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ধন্যবাদ স্রষ্টা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তোমার অলৌকিক গুণাবলীতে। তুমি বারবার মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচিয়ে এনেছ বঙ্গবন্ধু তনয়াকে। ষোল কোটি বাঙালির স্বপ্ন-সাধকে জিইয়ে রেখেছ তুমি। সবই তোমার অপার মহিমা। সৃষ্টিকর্তা তুমি পরম দয়ালু। তোমার দয়া-মায়ায় বাঁচিয়ে রেখ এই কীর্তিমতি নারীকে। তাঁকে যে বাঁচতেই হবে। বাঁচতে হবে পিতার স্বপ্ন, বাঙালি-বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায়। হে কীর্তিমতি শতায়ু হও তুমি।
জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের এ পূর্ব মুহূর্তে আবারও সুকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব সম্মাননা পেলেন তিনি। বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচিতে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ২৬ সেপ্টেম্বর এক আলোকোজ্জ্বল পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ সম্মাননায় ভূষিত করে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ। বারবারই তিনি সাফল্যের স্বীকৃতি পাচ্ছেন। এ প্রাপ্তির মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে দেশের সম্মান। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ এবং সন্ত্রাস দমনসহ নানাবিধ অর্জন বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। প্রশংসার ঘুড়ি পতপত করে উড়ছে বাংলার আকাশে। তাঁর নেতৃত্বের সুমধুর ছন্দ শ্রোতা বানিয়েছে বিশ্বনেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে। আর আওয়ামী বিরোধী শক্তি ও তার পক্ষাবলম্বনকারী বুদ্ধিজীবীদের হৃদয় গহীনে সৃষ্টি করেছে একটা বাড়তি ক্ষত। বাংলাদেশের গগনচুম্বী সাফল্য দেখে মনে নানা প্রশ্ন উঁকি মারছে। নেতৃত্ব আসলে কি?
বিরল নেতৃত্বের ক্ষমতাধর নারী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। তার রাজনৈতিক কর্মজীবন প্রায় চার দশকেরও বেশি। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ ও ১৯৯১-১৯৯৫ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা এবং ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮১ সালে থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে জনগণের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন। হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত, ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ২০১৮ সালে তার অবস্থান ছিল ২৬তম এবং ২০১৭ সালে ৩০তম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফরেইন পলিসি নামক সাময়িকীর করা বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০০ বৈশ্বিক চিন্তাবিদদের তালিকায় শেখ হাসিনা জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি বিশ্ব নারীনেত্রী পরিষদের একজন সদস্য, যা বর্তমান ও প্রাক্তন নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।
শেখ হাসিনা পূর্ব পাকিস্তানের টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা। তিনি টুঙ্গিপাড়াতে বাল্যশিক্ষা নেন। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় পরিবারের সাথে মোগলটুলির রজনী বোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরিত হন। ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে থাকা শুরু করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি ও তার বোন শেখ রেহানা ছাড়া পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করে একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা। বোনদ্বয় সেইসময় পড়াশোনার জন্য পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালে এমএ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয় এবং ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের সংসারে সজীব ওয়াজেদ জয় (পুত্র) ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (কন্যা) নামে দুই সন্তান রয়েছেন। [সূত্র : উইকিপিডিয়া]
মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। বিমান থেকে নেমেই দেশের মাটিতে চুমু খান। সে সময়ের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক যখন তাকে মালা পরিয়ে অভিবাদন জানান তখন শেখ হাসিনা ঢুকরে কেঁদে ওঠেন। ১৯৮১ সালের সেই দিনটিতে বাংলাদেশে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। হাসিনা তাঁর প্রথম বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘বাংলার জনগণের পাশে থাকার জন্য আমি এসেছি এবং মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য এসেছি, আমি আওয়ামী লীগের নেতা হবার জন্য আসিনি। আমি আপনাদের বোন হিসেবে, কন্যা হিসেবে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।’ লাখো মানুষের ভালোবাসায় যেমন সিক্ত হয়েছিলেন সেদিন তেমনি চোখের জলে ভেসেছিল তার শূন্য বুক। পিতা-মাতা, ভাই-ভ্রাতৃবধূ, আত্মীয়-স্বজন হারানোর বেদনা চাপিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণ এবং পিতৃস্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শেখ হাসিনা এগিয়ে চলেছেন সবল গতিতে।
দেশে ফিরে হাল ধরেন আওয়ামী লীগের। সুযোগ্য নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনায় দেশে ফেরার ১৫ বছরের মাথায় আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন এই সাহসী নারীনেত্রী। পাঁচ বছর দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সরকার পরিচালনা করে দেশকে নিয়ে যান উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিশাল গণ্ডিতে। এরপর আবারো ষড়যন্ত্র। পাঁচ বছরের অপেক্ষা। দেশবাসীর বিশ্বাসের প্রতিদান স্বরূপ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ তিন-চতুর্থাংশ আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে আবারো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের কাজে হাত দেন। শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে চলতে থাকেন দৃঢ়চিত্তে।
শেখ হাসিনার সততা, দেশপ্রেম, নেতৃত্বের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠতা ও অঙ্গীকার পালনে সাধারণ মানুষসহ বিশ্ববাসীকে আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়। ১৯৯৬ সালে ভারতের সাথে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টনচুক্তি এবং শান্তিবাহিনীর সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদন ও দারিদ্র্য বিমোচনে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার সাফল্য অর্জনের প্রথম ধাপ অতিক্রম করে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসলে আবারো শুরু উন্নয়ন যাত্রা। মানুষের গড় আয়ু, পানির ব্যবহার, বিদ্যুতের ব্যবহার, টয়লেট সুবিধা, নির্ভরশীলতার অনুপাত, শিক্ষার হার, শিশুমৃত্যুর হার, মাতৃমৃত্যুর হার, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার এবং স্থূল প্রতিবন্ধকতা এই দশটি সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অর্জন করে অভাবনীয় সাফল্য। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাফল্যের সঙ্গেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।
স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আদৌ টিকবে কি না, তা নিয়ে স্বাধীনতার পর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের অনেক নামকরা অর্থনীতিবিদ। ১৯৭৬ সালে এমন অভিমত খোলামেলাভাবেই তুলে ধরেন নরওয়ের অর্থনীতিবিদ ড. জাস্ট ফালান্ড ও ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জ্যাক আর পারকিনসন তাঁদের ‘বাংলাদেশ : এ টেস্ট কেস ফর ডেভেলপমেন্ট’ নামের বইয়ে। বইটিতে তাঁরা বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে বাংলাদেশ যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে পারে, তাহলে দুনিয়ার যেকোনো দেশই উন্নত হতে পারবে।’ কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান বাংলাদেশ দেখে তাঁরা কি বলবেন সেটা আর বলতে পারছি না। তবে অন্য পণ্ডিতজ্ঞরা কি বলছেন সেথায় চলি। ২০১২ সালের ৩ নভেম্বর ‘আউট অব দ্য বাস্কেট’ শিরোনামের এক নিবন্ধে প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্ট বলেছে, ‘কী করা যায়, সেটা দেখিয়ে দেওয়ার মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। কী করে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হওয়া যায়, সেটা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।’ ২০১৫ সালে বিজয় দিবসের আগমুহূর্তে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুও বলে গেলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উড়ন্ত সূচনার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না, শিগগিরই এশিয়ার নতুন বাঘ হিসেবে আবির্ভূত হবে বাংলাদেশ।’ বিশ্বব্যাংক মনে করে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার সব ধরনের সম্ভাবনাই বাংলাদেশের রয়েছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকা বলছে, অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশ পশ্চিমা দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে ২০৫০ সাল নাগাদ। [সূত্র : কালের কণ্ঠ, ১ জানুয়ারি ২০১৬]
শেখ হাসিনার অদম্য মনোবল, যুগ উপযোগী নেতৃত্বকুশল ও যথোপযুক্ত সাহসী পদক্ষেপ কি দেয়নি বাংলাদেশকে। সর্বক্ষেত্রে ঘটিয়েছেন আমূল পরিবর্তন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো ব্যয়বহুল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ। এর চেয়েও বেশি অর্থ খরচ করে মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উড্ডয়ন করা হয়েছে। উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের। এক লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজও শুরু হচ্ছে। আয়তনে ৯৪তম আর জনসংখ্যায় সপ্তম বৃহত্তম এই দেশের অর্থনীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের ৩৩তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
কঠিন পরীক্ষায় প্রতিবার উত্তীর্ণ হয়েছেন শেখ হাসিনা। নিজের মেধা ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে সকল সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বের সুফল ভোগ করছে বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু তনয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বে বাংলাদেশের আচমকা জেগে ওঠা কোনো রূপকথার গল্প নয়। চোখের সামনে সব পরিস্কার দৃশ্যমান। যার স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ সাউথ পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পেয়েছেন ইউএনএমডিজি পুরস্কারও। জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ও পেয়েছেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এমন পরিচিতি বাংলাদেশের আর কোনো নেতা পাননি।
সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা মনে হয় শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন বঙ্গজননীর মান রক্ষা এবং তার সন্তানদের কল্যাণ ও দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্যই। তা না হলে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পরও তিনি কেন বেঁচে থাকবেন। এটা নিঃসন্দেহে ¯্রষ্টার অলৌকিক গুণের বহিঃপ্রকাশ। পিতার স্বপ্নসারথি হয়ে বেঁচে আছেন তিনি। বিশ্ব বিবেচনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল। তিনি নিজ মহিমায় উদ্ভাসিত।
সর্বস্ব হারানোর নিদারুণ শোক বুকে বয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করা এই কীর্তিমতি কামিনী জয় করেছেন বিশ্বকে। বহুল প্রতীক্ষিত বহু কাজের সফল বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নাধীন কর্মকা-ে রেখেছেন সোনালী সাক্ষর। যোগ্যতা, দক্ষতা, একাগ্রতা, বিচক্ষণতা, সততা, নিষ্ঠা, নেতৃত্ব ও সাহসিকতায় এগিয়ে শেখ হাসিনা রোল মডেল বাংলাদেশের ডিজিটাল কারিগর। তিনি বহির্বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন পিছিয়ে পড়া একটি রাষ্ট্রকে কিভাবে টেনে তুলে দাঁড় করাতে হয়। দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় ছাড়াও বৈশ্বিক নানা সঙ্কট সমাধানে কিভাবে সফলতা অর্জন করতে হয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে দেশীয় দৈত্য-দানবের প্রাণনাশী চক্রান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কিভাবে বাঙালি জাতির গায়ে অগ্রগতির অহংবোধসম্পন্ন শ্বেতকায় উত্তরীয় সযতনে পড়িয়ে দেওয়ার জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করা যায়। শুধু তাই নয়, মানবতার মহান তরীতে চালকের আসনে বসে সগৌরবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন এই মহীয়সী নারী।
[বিশ্বজিত রায়, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী