সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

Notice :

ক্যাসিনো কারবার নির্মূলের কার্যক্রম সার্থক হোক

দেশে ক্যাসিনো কারবার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়েছে। ক্যাসিনোতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনও কাজ চলে না। সেখানে চলে জুয়া মদ মাদকের কারবারকা-। ক্যাসিনো কারবারের মধ্যে বৃহত্তর অর্থে দেশ ও জাতির উপকারে আসে এমন কীছু নেই। এ দিক থেকে বিবেচনায় ক্যাসিনো কারবার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার, বলা যায়, এতোদিনে ভালো একটি কাজে হাত দিয়েছেন, বিগত সরকারগুলো যা পারেনি। অথচ সরকার যখন একটি ভালো কাজ করছে তখন সরকারের পেছনে সমালোচনার ধারালো চাকু নিয়ে বিরোধী দল হামলে পড়েছে। বিরোধীদলের সাম্প্রতিক আচরণে প্রতিপন্ন হচ্ছে যে, তাঁরা সহজকে সহজভাবে নিচ্ছেন না।
সরকারের ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সমালোচনা করে বিএনপি’র এক শীর্ষনেতা সরকারি দলকে ‘জুয়াড়ি সরকার’ বলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো : সরকারে আওয়ামী লীগ যখন ছিল না, তখন তো সরকারে ছিলেন বর্তমান বিরোধীদল বিএনপি, তখন কি এই সব ক্যাসিনো কারবার দেশে ছিল না? অবশ্যই ছিল, অস্বীকার করার কারও কোনও উপায় নেই, না বর্তমানের সরকারি দলের না বর্তমানের বিরোধীদলের। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কিন্তু এই ক্যাসিনো কারবারের বিরুদ্ধে তারা টুশব্দটি করেননি, বরং বোধ করি তখন এই কারবারটি উৎসাহিত হয়েছিল প্রয়োজনীয় মাত্রায়, বিএনপির পেয়ারের লোকেরাই এই কারবারটিকে ফাঁপিয়ে ফুলিয়ে বড় করে তুলেছেন। আজ আওয়ামী লীগ সরকার এই ক্যাসিনো কারবার নির্মূলের কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন এবং এখন যারা ধরা পড়ছেন তাদের পরিচয় থেকে সেই অজানা রহস্যের সূত্রগুলো একে একে আবিষ্কৃত হচ্ছে যে, তারা কোনও না কোনও সময় বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির ছত্রছায়ায় ছিলেন এবং সে ছত্রছায়াকে ব্যবহার করেই ক্যাসিনো কারবার গড়ে তুলেছেন। বঙ্গবন্ধু সরকার মদ-জুয়াকে নিষিদ্ধ করেছিলেন, যেমন নিষিদ্ধ করেছিলেন যুদ্ধাপরাধীদেরকে। ১৯৭৫-য়ের পটপরিবর্তনের পর জিয়া সরকার মদ-জুয়া ও যুদ্ধাপরাধীদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আমরা বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই যে, তারা দেরিতে হলেও বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা ক্যাসিনো কারবারকে নির্মূলের পদক্ষেপ নিয়েছেন, যে-কারবারটি বিএনপির আমলে বৃহদায়তনত্ব লাভ করেছিল।
ক্যাসিনো কারবার নিয়ে এখানে বিস্তারিত বিবরণ রচনার কোনও অবকাশ নেই। কেবল বলি : পুঁজিবাদী আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় এমনি ক্যাসিনো কারবার নিতান্ত স্বাভাবিক। বিভিন্ন পুঁজিবাদী দেশে এই কারবারকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েই চলতে দেওয়া হয়। সহজেই হৃদয়ঙ্গম যে, আমাদের দেশে আইনি স্বীকৃতি ছিল না বলে এই কারবারটি এতোদিন বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবের অন্তরালে চলছিল, কারণ এখানকার আর্থসামাজিক বিন্যাসটা ক্যাসিনো কারবার বিকাশের পক্ষে শতভাগ অনুকূল। তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এই যে, এই কারবারের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদসহ আইনি কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত ‘কীছু জানি না’ বলে সাফাই গাইছেন। একটি দেশের আইনরক্ষাকারী সংস্থা যখন তাদের নাকের ডগায় এতোদিন এবং এতোটা রমরমাভাবে চলে আসা কারবারটি তাদের অজান্তে চলে আসছিল বলে প্রতিপন্ন করতে চান তখন এমন সাফাই গাওয়াটা বিশ্বাসযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করে অবিশ্বাস্য হয়ে উঠে বইকি। ভুলে গেলে চলবে না যে, দেশের উঁচুমহলের নামিদামি লোকেরা এইসব ক্যাসিনোতে অনবরত রাতবিরাতে যাতায়াত করেছেন এবং পুলিশ যথারীতি দাঁড়িয়ে থেকেছে প্রবেশপথে। অবাক হতে হয় যে, জানা গেছে এই সব ক্লাবের একটির সভাপতি নাকি একজন স্বনামধন্য বামপন্থী নেতা। সুতরাং সরকার কিংবা বিরোধী দল ক্যাসিনো কারবার সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন এটা কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা পায় না। বরং এটাই বিশ্বাসযোগ্যতা পায় যে, সাধারণ মানুষ যেমন জানতেন তেমনি স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি সরকারেরও তা জানা ছিল এবং কোনও প্রতিকার করার তাদের উপায় ছিল না বা ইচ্ছাই ছিল না। আমরা বলতে পারি : আওয়ামী লীগ সরকারের জানা ছিল এবং প্রতিকার করার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। তারা প্রতিকার করতে লেগেছেন। এখানেই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তফাৎ। বিএনপি জেনেশুনে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় কিন্তু আওয়ামী লীগ অন্যায়ের প্রতিকার করার অপেক্ষায় থাকে, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। আমরা এও স্বীকার করি যে : আওয়ামী লীগ সব অন্যায়ের কার্যকর প্রতিরোধ করে ফেলতে পারবে, এমনটা আমরা মনে করি না। কিন্তু ক্যাসিনো কারবারকে নির্মূল করার কার্যক্রম তারা নিয়েছেন, এটি দেশের পক্ষে একটি ভালো কাজ। তাদের আমরা সমর্থন করি, সাধুবাদ জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী