সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

Notice :

সুনামগঞ্জের চার সীমান্ত রুটে আসছে মাদক

মোসাইদ রাহাত ::
প্রায় প্রতিদিনই সুনামগঞ্জ জেলার কোনো না কোনো স্থান থেকে আটক করা হচ্ছে মাদকদ্রব্য। কখনো পানির বোতলে কখনো বাদ্যযন্ত্রের ভেতর আবার কখনো গাড়িভর্তি মাদকদ্রব্য আটক করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সহজেই মাদকদ্রব্য পাওয়ায় নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে এলাকার অনেক তরুণ ও যুবক। চলতি বছরের শুরু থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুনামগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চার শতাধিক মামলা হয়েছে। এ সময় জেলার মাদকের রুট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তিন উপজেলার চারটি সীমান্ত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে ৩৯৮টি। সুনামগঞ্জ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আসছে মাদকের ছোট-বড় চালান। সেই সঙ্গে মাদক বহনেও এসেছে নতুনত্ব। প্রাইভেটকার, ঢোল, প্লাস্টিকের পানির বোতল ও কয়লার মধ্যে সহজেই সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে সীমান্তের ওপার থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে মাদক। যার মধ্যে ভারতীয় মদ, ইয়াবা ও গাঁজা বেশি। তাছাড়া ইয়াবা ও গাঁজা বহন সহজ হওয়ায় তা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো জেলায়। তার মধ্যে সুনামগঞ্জের ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলা হয়ে পড়েছে মাদকের রুট।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মাদক আটকের কয়েকটি চার্ট থেকে জানা গেছে, জানুয়ারিতে বিদেশি মদ আটক হয়েছে ১৫১ বোতল, গাঁজা ২ হাজার ৪০০ কেজি, ইয়াবা ১৫৮ পিস; ফেব্রুয়ারিতে গাঁজা দুই কেজি, ইয়াবা ৪৮৭ পিস; এপ্রিলে সাড়ে ৩ হাজার কেজি গাঁজা, ১১১ বোতল বিদেশি মদ ও ১০৫ পিস ইয়াবা; মে মাসে ২৯৬ বোতল বিদেশি মদ, ৫৫০ পিস ইয়াবা, জুন মাসে ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, ইয়াবা ২১০ পিস; জুলাইয়ে ২ হাজার ৮৮০ কেজি গাঁজা এবং ২১৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ২৮ আগস্ট ২০১৯ পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে ১৩৭টি। তাছাড়া আটক করা হয়েছে ভারতীয় মদ, বিয়ার, গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নাসির বিড়ি। আটককৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩০ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সংলগ্ন ভারতের ৪টি সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য আসছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কড়া নিরাপত্তা থাকলেও বেশিরভাগ সময় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাছিমপুর, চিনাকান্দি সীমান্ত ও তাহিরপুর উপজেলার ট্যাকেরঘাট ও চারাগাঁও সীমান্ত দিয়ে আসছে এসব মাদকদ্রব্য। তাছাড়া সিলেটের কো¤পানিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতকে মাদক আসছে। মূলত সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিরা মাদক আনা-নেয়া এবং সেগুলো কৌশলে সারা জেলায় ছড়িয়ে দেয়।
সীমান্ত এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসে পানির বোতলে করে এবং গাঁজা ও বিভিন্ন ভারতীয় মদ আসে কয়লা বা মাটির ঝুড়িতে করে। পানির বোতলের মধ্যে সাদা পলিথিনের মধ্যে ইয়াবা ঢুকিয়ে ভারত সীমান্ত থেকে ছুড়ে মারলে তা বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পড়ে। ফলে তা সহজে কারো চোখে পড়ে না।
এদিকে মাদকদ্রব্যের বিস্তার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপরতা বাড়িয়েছে। সীমান্ত এলাকায় রাখা হয়েছে কড়া পাহারা। তাছাড়া পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছে বিট পুলিশিং। বিজিবির পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক সভা। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ধরনের মাদক না ঢুকতে পারে সেজন্য বিজিবি সদস্যদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর আছেন।
এ ব্যাপারে ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাকসুদুল আলম বলেন, সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ কর হচ্ছে। যেহেতু মাদক আমাদের দেশে অবৈধ, তাই এটি যেন সীমান্ত দিয়ে না আসতে পারে সেজন্য বিজিবির সদস্যদের কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত আমরা মাদকদ্রব্য আটক এবং সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ কঠোর অবস্থানে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সুনামগঞ্জকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী