মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন

Notice :

সম্মাননা পেলেন আলোকিত ২৮ শিক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার ::
বিশাল মঞ্চে আলো হয়ে বসে আছেন সম্মাননাপ্রাপ্ত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ। সবারই বয়স হয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ তাঁদের অনেকেই। বন্ধু এক্সপ্রেস সুনামগঞ্জ নামের স্কুল ও কলেজ জীবনের সতীর্থরা তাদের পরম পূজনীয় আলোকিত শিক্ষকদের একত্র করে সম্মাননা দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এভাবেই মঞ্চে আলো হয়েছিলেন আলোকিত শিক্ষকগণ। শিক্ষকদের জীবনের পড়ন্ত বেলায় সম্মাননা প্রদান করায় বন্ধু এক্সপ্রেস সুনামগঞ্জকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সুধীজন।
প্রফেসর পরিমল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত ও প্রভাষক আবির আবরার।
সম্মাননাপ্রাপ্ত আলোকিত শিক্ষকগণ হলেন- সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. আব্দুল বারী, অধ্যাপক লক্ষ্মী রাণী দে, অধ্যাপক ন্যাথানায়েল এড্উইন ফেয়ারক্রস, অধ্যাপক দিলীপ কুমার মজুমদার, অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ; সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মু. আব্দুর রহীম, সুনীতি দে, এ.এফ.মাসয়ূদুল হাসান, মো. মকবুল হোসেন, এম.এ.ডি রফিক, আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফ, অজয় কুমার চৌধুরী, রবীন্দ্র নারায়ণ তালুকদার, সৈয়দ আমীর খসরু, অরুণ চক্রবর্ত্তী, অনন্ত কুমার সিংহ; এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ধূর্জটি কুমার বসু, প্রাক্তন শিক্ষক মো. আর্শাদ আলী, ইকবাল কাগজী, আলী আহমদ, ইসলামগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম মোস্তফা, গৌরাঙ্গ রঞ্জন চক্রবর্ত্তী কাব্যতীর্থ, বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাশ, এস. এম মাহবুবুল হক, মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক যোগেশ্বর দাশ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এমপি পীর মিসবাহ আলোকিত শিক্ষকদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তাঁদের প্রতি সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জানান। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের সমাজব্যবস্থায় এখন শিক্ষকরা আগের মতো সম্মান পান না। শিক্ষার্থীরাও আগের অবস্থায় নেই। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অনেক অভিভাবক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করতে আসেন, তাদের অসম্মান করেন। আমাদের সময়ে এসব বিষয় চিন্তাই করা যেত না। স্কুলে পিটুনি খেলে বাড়িতে এসে বললে উল্টো অভিভাবকরাও আমাদের পিটুনি দিতেন। শ্রদ্ধার উচ্চ মার্গে ছিলেন আমাদের শিক্ষকরা। তিনি বলেন, আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সামাজিক অবস্থার কারণে তারা মনে করেন শিক্ষকগণ তাদের সমীহ করবেন। অথচ শিক্ষকগণ সবার ঊর্ধ্বে। এমপি মিসবাহ রাষ্ট্রকাঠামোয় শিক্ষকদের অবমাননার নানা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বিচার বিভাগে একজন জজ সাহেব আইন সচিব হন। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে অনেক প্রফেসর থাকলেও সেখানে কাউকে শিক্ষাসচিব করা হয় না। এই সচিব, সচিবদের পিএসের সামনে দাঁড়িয়ে, বেঞ্চে বসে অনেক প্রফেসররা ব্যক্তিগত কাজ করেন। যা দেখলে আমাদের লজ্জা লাগে। তাদের মাথার উপরে আমলা বসিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অসম্মানের।
শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে আলোকিত শিক্ষকগণ তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। স্কুল ও কলেজ জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন তাঁরা। বন্ধু এক্সপ্রেস সুনামগঞ্জ নামের তাদের শিক্ষার্থীদের গড়া সংগঠনের প্রতি শুভ কামনাও জানান।
বন্ধু এক্সপ্রেস সুনামগঞ্জ-এর সদস্য বিপুল তালুকদার ও খালেদুল হাসান রাসেল-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারীনেত্রী শীলা রায়, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মো. চাঁন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সাহারুল ইসলাম, দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায়, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সালেহ আহমদ, পংকজ দে প্রমুখ।
সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষাগুরুদের নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন হিরন্ময় রায়, ব্যারিস্টার কায়সার তালুকদার, অ্যাড. শাহীনুর রহমান শাহীন, দিগি¦জয় দত্ত, স্বপন কুমার, ধীমান দাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ২৮ জন আলোকিত শিক্ষকের হাতে সম্মাননা স্মারক, প্রাইজবন্ড এবং উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী