শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

Notice :

মানববন্ধনে ছাত্রলীগের বাধা : বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি দুর্নীতিকে সমর্থন করে না

গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠের শীর্ষ সংবাদশিরোনাম ছিল, ‘হাসপাতালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিরা সোচ্চার’। সংবাদ বিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘এবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উন্নয়ন সমন্বয় সভায় হাসপাতালে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। জনগণের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবার অধিকার ক্ষুণ্ন করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছে বলে জনপ্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।’ এইরূপ ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে আসছে বেশ কীছুদিন যাবৎ। পত্রপত্রিকায়, বিশেষ করে দৈনিক সুনামকণ্ঠে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে লাগামহীন দুর্নীতির বিভিন্ন দিক-বিষয় নিয়ে কয়েক সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং প্রকারান্তরে সর্বমহলে হাসপাতালের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ আগস্ট সোমবার সাধারণ মানুষজন হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেন। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে মানববন্ধনটি পণ্ড হয়ে যায় এবং পরের দিন দৈনিক সুনামকণ্ঠের শীর্ষ সংবাদশিরোনাম ছিল, ‘সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতি : জনতার মানববন্ধনে ছাত্রলীগের বাধা’। এই বাধাদানের নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।
আমরা স্পষ্টত আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দুর্নীতিকে পূর্ণ শূন্যসহনশীলতা প্রদর্শনের সমর্থক এবং মনে করি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সরকার ঘোষিত ২০৪০ সালের উন্নয়নের রূপকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতিকে শূন্যসহনশীলতা প্রদর্শনের নীতির কোন বিকল্প নেই এবং এও মনে করি যে, বর্তমান সময়ে যখন দেশ একটি রাজনীতিক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে তখন যে-কোনও দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনের বিরোধিতাকরণের নিহিতার্থ একটাই হতে পারে, আর সেটি হলো : প্রধানমন্ত্রীর ও সরকার ঘোষিত নীতির বিরুদ্ধাচরণ করা। অর্থাৎ সরকারের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করা। যেখানে সারা জেলার সর্ব শ্রেণিস্তরপেশার সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে দুর্বিষহ ভোগান্তি ভোগ করছেন এবং যেখানে জনগণের সঙ্গে সমস্ত সুশীল সমাজ এই দুর্ভোগের অবসান চেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন, সেখানে কার স্বার্থে এবং কোন প্রাপ্তির জাদুমন্ত্রে বশীভূত হয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নীতির প্রতি কাঁচকলা প্রদর্শনে ছাত্রলীগ সভাপতি একেবারে মুখিয়ে রয়েছেন বোধগম্য নয়। যখন সরকারবিরোধী কিংবা আওয়ামী লীগবিরোধী রাজাকার কিংবা অন্য কেউ সরকারবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে কই তখন তো বীরত্ব প্রদর্শন করতে তাকে কখনও দেখা যায়নি। আমাদের মনে হচ্ছে, এই বীরত্ব প্রদর্শনের দুইটি উদ্দেশ্য আছে। প্রথমত জনস্বার্থের প্রতি সমর্থন না করে হাসপাতালের দুর্নীতিকে সমর্থন করা এবং দ্বিতীয়ত সরকারের পক্ষাবলম্বন করে সরকারবিরোধিতার চমৎকর ক্যারিসমা দেখানো, যা একটি অভিনব রাজনীতিও বটে। এভাবেই এইরূপ রাজনীতির মানে হলো সরকারের পক্ষে থেকে সরকারের পৃষ্ঠদেশে চোরাগোপ্তা ছুরিকাঘাত করার একটি সর্বোত্তম কায়দা। এই রকম অশুভ রাজনীতি চর্চার আর একটি উদ্দেশ্য হলো : উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে জনবিচ্ছিন্ন ও অজনপ্রিয় করে তোলে আওয়ামী রাজনীতির বিরোধীপক্ষকে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রকারান্তরে আরও একুশ বছরের জন্যে আওয়ামী লীগের জন্যে ক্ষমতার রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পথ প্রশস্ত ও পরিষ্কার করা। এইরূপ অপরাজনীতি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পরিচালিত রাজনীতির নামে কীছুতেই চলতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি দুর্নীতিকে কখনওই সমর্থন করে না। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি জনকল্যাণের রাজনীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী