শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

Notice :

শুটকির নায়ে বিলাই চৌকিদার : অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করুন

গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠের একটি সংবাদশিরোনাম ছিল, ‘কামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ॥ অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন নেন শিক্ষিকা’। সংবাদবিবরণী পাঠ করার কোনও প্রয়োজন নেই, শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট হয় যে, এই শিক্ষিকা যেই হোন, তিনি কোনও না কোনও ফাঁকচক্করের প্রকৌশল খাটিয়ে রাষ্ট্র-সরকারকে বোকা বানিয়ে দিচ্ছেন। অন্য একটি সংবাদশিরোনাম এরকম, ‘মানববন্ধন ॥ সদর হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধের দাবি’। ক’দিন আগে পত্র-পত্রিকায় এতোকীছু লেখালেখির পরও কোনও প্রতিকার নেই, যেই কে সেই, হেই মামা হেই মামি হেই পুতাত্ ঘর। কোনও বদল নেই। কী কাকস্য পরিবেদনা।
এই শেষ নয় আরও আছে। ৭১-য়ের পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যম-িত সংবাদশিরোনামটি হলো, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তথ্যচিত্র দেখানো হবে ৬৬ হাজার স্কুলে।’ এখানে স্কুল মানে প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগামী ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রস্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হওয়ার দিন অর্থাৎ জাতীয় শোক দিবসে এই তথ্যচিত্র দেখানো হবে। দেরিতে হলেও এই কার্যক্রমটি শুরু করার কারণে সরকারকে আমরা সাধুবাদ জানাই। দেরিতে শুরু করতে হচ্ছে কেন? এই দেরির একটা সদুত্তর আমাদের জানা আছে। জাতীয় শোক দিবসের ঘটনা ও পরবর্তী রাজাকারি শাসন কায়েমের কথা জাতি ভুলে যায়নি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেন দেখানো হবে না এবং এই প্রশ্নের সঙ্গে আর একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উত্থিত হয় অনিবার্যভাবে, ‘এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে’ কেন?
১৯৭৫-য়ের পরে তো বঙ্গবন্ধুকে একেবারেই জাতির মন থেকে চেছে তুলে দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, তাঁর আদর্শের পার্টি ক্ষমতায় এসেও কাজটি শুরু করেছে দেরিতে এবং তার চেয়েও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো তাঁর সৃষ্ট রাজনীতিক দলের আদর্শচ্যুতি লক্ষ্য করা যায় দেশের সর্বত্র। এই আদর্শচ্যুতরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মুখোশ পরে রাজনীতির মাঠে অবাধে বিচরণ করে এবং দুর্নীতিকে প্রতিপালনের মানসিকতা থেকে উদ্ভূত হয়ে শূন্যসহনশীলতার প্রত্যয়কে ব্যত্যয়ে পর্যবশিত করার ষড়যন্ত্রে ব্যাপৃত আছে, প্রতিনিয়ত এবং প্রকারান্তরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার রাজনীতির শ্রীবৃদ্ধি ঘটে চলেছে দেশের তৃণমূল পর্যন্ত।
তারপরেও আমাদের কথা হলো, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কবর রচনা, স্কুলে না গিয়ে বেতন নেওয়া কিংবা হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতি ইত্যাদি ফাঁকিবাজি চলছেই স্বাধীনতার পর থেকেই। এক শ্রেণিস্তরের মানুষেরা, যারা সংখ্যায় মাত্র কয়েকজন, সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষকে ঠকিয়েই চলেছে নানা কৌশলে। রাষ্ট্রের সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন চেয়ারে বসে তারা দেশটাতে একটি লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার প্রতিযোগিতা বন্ধ হচ্ছে না যদিও সরকার দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে শূন্যসহনশীলতা দেখানোর প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। কিন্তু দেখেশুনে মনে হচ্ছে শূন্যসহনশীলতার কর্মসূচিটি শুটকির নায়ে বিলাই চৌকিদারের মতো একটি বিষয় হয়ে পড়েছে। প্রকৃত প্রস্তাবে বঙ্গবন্ধুকে এই দেশের প্রতিটি শিশুর মনে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমকে যেমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ রেখে দেশকে পিছিয়ে রাখা ও শোষণ-শাসনের পথ প্রশস্ত করার কৌশল জারি রাখা হয়েছে তেমনি দেশটাকে শোষণ করার একটি ক্ষেত্র বানিয়ে তোলা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় প্রজাতন্ত্রের যে-কোনও কর্মচারী, উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, এমনকি একটি হসপিটালের সাধারণ কর্মচারী কিংবা একটি অফিসের দারোয়ান কী করে কোটিপতি হয়ে যায়? অথচ প্রাপ্ত বেতনে কোনও প্রকারে টেনেটুনে তার সংসার চলার কথা। আমরা কেবল বলি দেশের পশ্চাৎপদতার জন্য এবংবিধ সকল কারণ নির্মূল করার ব্যবস্থা করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী