বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২০, ০২:৫৫ অপরাহ্ন

Notice :
«» কর্মসৃজনে শ্রমিকের বদলে মেশিন «» নর্থ-ইস্ট আইডিয়াল কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা «» নিরুত্তাপ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে কোন্দল «» রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক হলেন চপল «» সাংহাই হাওর : গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারে গ্রহণ করা হয়নি প্রকল্প «» আদর্শ জাতি গঠনে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই : মেয়র নাদের বখত «» সুনামগঞ্জে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী «» শেখ হাসিনায় আস্থা আছে ৮৬ শতাংশ নাগরিকের «» ১১ উপজেলায় নির্মাণ হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান «» হাওরাঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে শিশুদের ঝরে পড়ার বাস্তবতা ও গৃহীত উদ্যোগ : ইয়াসমিন নাহার রুমা

গুদামে ধান বিক্রিতে প্রভাবশালীদের থাবা

সাজ্জাদ হোসেন শাহ ::
সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও চাল ক্রয়ে চলছে চরম অনিয়ম। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করা হচ্ছে ক্রয়। এতে করে কৃষক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষক ধানের দাম পাওয়ার জন্য সরকারের উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, তাহিরপুর উপজেলায় সরকার কর্তৃক ১৪শ’ ১৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন বালিজুরী, বাদাঘাট উত্তর, বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর, শ্রীপুর দক্ষিণ, তাহিরপুর সদরে মোট ৩০ হাজার কৃষকের কাছ থেকে এ ধান সংগ্রহ করা হবে। আর যে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারবেন তাদের উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে নিবন্ধনকৃত হতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় উপজেলার সকল কৃষক নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন। সেখান থেকে লটারির মাধ্যমে ৩০ হাজার কৃষক বাছাই করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ উপজেলার একটি প্রভাবশালী চক্র টাকার বিনিয়মে লটারির মাধ্যমে কৌশলে তাদের পছন্দের কৃষকদের লটারিতে বিজয়ী করে নিবন্ধন প্রদান করেছে। এছাড়াও নিবন্ধন তালিকায় একই পরিবারের একাধিক লোক, এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার ৪নং বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য নোয়াজ আলী, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আবু তাহের, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য স¤্রাট মিয়া, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আহসান হাবিব, ৪,৫,৬ নং সংরক্ষিত সদস্যা সুষমা জাম্বিল এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের ওয়ার্ড থেকে পাঁচ শতাধিক লোক স্বশরীরে গিয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও একজনের নামও লটারিতে আসেনি। অথচ যারা আবেদন করেনি তাদের নিবন্ধন হয়েছে কিভাবে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, লটারির নামে আমাদের সরলমনা কৃষকদের সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে।
৫নং ওয়ার্ড সদস্য আবু তাহের বলেছেন, আমার ওয়ার্ডে একই পরিবারের তিনজনকে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন পুরানঘাট গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে আ. ছাত্তার তার ছোট ভাই আ. মোতালেবের ছেলে কাজল মিয়া ও তার আপন ছোট ভাই আ. গফফারের স্ত্রী ছাবিনা।
৪নং ওয়ার্ড সদস্য নোয়াজ আলী বলেন, আমার ওয়ার্ডে একই পরিবারের দু’জনের নাম নিবন্ধিত হয়েছে তারা হলেন মাহারাম গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল মিয়া ও তার আপন চাচাত ভাই গণি মিয়ার ছেলে জমসেদ মিয়া।
৬নং ওয়ার্ড সদস্য স¤্রাট মিয়া বলেন, আমার ওয়ার্ডের রাজাই গ্রামের ১৭১নং কার্ডের গবীন্দ্র হাজং গত এক বছর আগেই মারা গেছেন অথচ তার নামেও কার্ড ইস্যু হয়েছে।
৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের ০৪৯৫নং কার্ডধারী আ. মালেক তিন বছর আগে মারা গেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম বলেন, নিবন্ধনের আবেদন স্বশরীরে গিয়ে উপস্থিত হয়ে করার কথা। আমি কৃষকদের স্বশরীরে পাঠাই। পরে গিয়ে দেখি সকাল ১০টায় রেজিস্ট্রার খোলার আগেই প্রতি ওয়ার্ডের কৃষকরা পৌঁছার আগেই প্রতি ওয়ার্ডে ৫০/৬০জনের নামের তালিকা আগেই নিবন্ধন করা হয়ে গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি আবুল হাসানসহ আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানানোর পর আমার ইউনিয়নের নিবন্ধনের তালিকা নতুন করে করার নির্দেশ দেন তিনি। সেখানেও তারা দুর্নীতি করে একই পরিবারে তিন জনের নাম এবং দুইজন মৃত ব্যক্তির নামেও কার্ড ইস্যু করেছেন। এখনও তারা কিছু সংখ্যক কার্ড নিজেদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা দিয়ে বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, একাজটি মূলত খাদ্য অধিদপ্তরের। আমি শুধু সহযোগিতা করেছি মাত্র।
উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনধন চন্দ্র দাস তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি শুধু মাত্র ধান ক্রয়ের মালিক। আমার কাজ তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাজ থেকে ধান ক্রয় করা। উপজেলা ক্রয় কমিটি রয়েছে তারাই তালিকা প্রণয়ন করেছেন। উনাদের তালিকা অনুযায়ী আমি ধান ক্রয় করছি। তালিকা তৈরির বিষয়ে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ বলেন, মৃত ব্যক্তিদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তালিকা বাতিলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলায় খাদ্যগুদাম কর্তৃক সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের নাম নিবন্ধন ও লটারিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ ১২ জন ইউপি সদস্য স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে সরকারিভাবে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির জন্য বিগত ১৪ জুলাই ও ১৫ জুলাই রেজিস্টারে নাম নিবন্ধনের জন্য ৪নং উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কৃষকগণ কৃষি কার্ড নিয়ে উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে উপস্থিত হয়। কিন্তু ওইদিন কৃষকদের উপস্থিতি ছাড়াই উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা ও খাদ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে উপ-সহকারি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও আবুল হাসান সকাল ১০ টার সময় প্রতি ওয়ার্ড থেকে ৫০-৬০ জন কৃষকের নাম রেজিস্ট্রি খাতায় নিবন্ধন করে নেন। পরে বিষয়টি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে কৃষকদের উক্ত নাম নিবন্ধনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় পুরাতন নাম নিবন্ধন বাতিল করে প্রকৃত কৃষকদের নাম নতুন করে নিবন্ধন করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ গত ৩ ও ৪ আগস্ট মাইকিং করান। পরে ওই ইউনিয়নের কৃষকগণ স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে রেজিস্ট্রি খাতায় নাম নিবন্ধন করেন। পরবর্তীতে গত ৬ আগস্ট লটারির মাধ্যমে উপজেলা থেকে ৬৩ জন কৃষকের নাম বিজয়ী ঘোষণা করেন। কিন্তু লটারিতে বিজয়ী ৬৩ জন কৃষকের মধ্যে ৫১ জনই স্বশরীরে না গিয়ে নিবন্ধিত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী