শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন

Notice :

সুনামগঞ্জের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে : কল্লোল তালুকদার চপল

প্রান্তিক জনপদ হলেও সুনামগঞ্জের রয়েছে ছাত্র আন্দোলনের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। কিন্তু কালচক্রের ঘূর্ণাবর্র্তে সেইসব গৌরবগাথার উপর ক্রমশ জমতে থাকে বিস্মৃতির ধুলো। বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা অন্বেষণ করে যাচ্ছি সেই বিস্মৃত অতীতের। সময়ের ধূলা ঝেড়ে ঝেড়ে পৌঁছতে চেষ্টা করছি শিকড়ে।
১৯০৫ সাল, উপমহাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিলাতী পণ্য বর্জনের স্বদেশী আন্দোলনে কলকাতার ছাত্রসমাজ ‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়, মাথায় তুলে নেরে ভাই’ গান গেয়ে গেয়ে রাজপথ উত্তাল করে তুলে। আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে তৎকালীন শিক্ষা সচিব কার্লাইল একটি সার্কুলার জারি করে ঘোষণা করেন যে, আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলে ছাত্রদেরকে স্কুল-কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এর প্রতিবাদে ৪ নভেম্বর ১৯০৫ সালে কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে গঠিত হয় ‘এন্টি সার্কুলার সোসাইটি’ নামে অসাম্প্রদায়িক ও বিপ্লবাত্মক চেতনায় সমৃদ্ধ একটি সংগঠন, যা উপমহাদেশের প্রথম কোনো ছাত্র গণসংগঠন। সারা বাংলায় এন্টি সার্কুলার সোসাইটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই আন্দোলনে কলকাতায় যাঁরা ছাত্রসমাজের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ছাত্রদেরকে দিকনির্দেশনা প্রদান ও আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হবিগঞ্জের বিপিন চন্দ্র পাল ও সুনামগঞ্জের ড. সুন্দরী মোহন দাস। সুরমা উপত্যকার ছাত্রসমাজে ব্রিটিশবিরোধী ভাবধারা বিস্তারে এই দুই বিপ্লবী নেতা ছিলেন অগ্রপথিক। একটু দেরীতে হলেও সুনামগঞ্জের ছাত্রসমাজের মধ্যেও স্বদেশী আন্দোলনের সেই ঢেউ এসে লাগে।
প্রাথমিক উৎস থেকে আমরা ইতোমধ্যে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি, ১৯০৮ সালের ১৪ আগস্ট জুবিলী স্কুলের ছাত্রদের হাতে সূত্রপাত হয় সুনামগঞ্জের ছাত্র আন্দোলনের। ছোট আকারে হলেও সে-দিন ছাত্ররা বিলাতি পণ্য বর্জন ও স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা যায় যে, অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন, কুইট ইন্ডিয়া আন্দোলন এবং পাকিস্তান আন্দোলনে সুনামগঞ্জের ছাত্রসমাজ রাজপথ উত্তাল করে তুলেছিল। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি গড়ে উঠেছিল বিপ্লবী গুপ্ত সংগঠন। এরপর ১৯৩৫ সালে বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্যরা কলকাতায় জন্ম গঠন করেন সিলেট জেলা কমিউনিস্ট পার্টি। ৬ সদস্যবিশিষ্ট সেই কমিটির সম্পাদকসহ চারজনই ছিলেন সুনামগঞ্জের এবং তাঁদের মধ্যে তিনজন তখনও ছাত্র। এই সাংগঠনিক কমিটির উদ্যোগেই কাছাড় জেলা এবং শিলঙে কমিউনিস্ট পার্টি বিস্তার লাভ করে এবং তা পরে সুরমা উপত্যকা কমিউনিস্ট পার্টি নামে অভিহিত হয়। একপর্যায়ে সুরমা উপত্যকায় সুনামগঞ্জ বামপন্থী আন্দোলনের সূতিকাগার হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।
তারপর সুরমায় প্রবাহিত হয়েছে বিপুল জলরাশি। অতীতের ঐতিহ্য বহন করে সুনামগঞ্জের ছাত্রসমাজ রচনা করতে থাকে গৌরবের দিনলিপি। ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিসংগ্রাম, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সহ সময়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে সুনামগঞ্জের রাজপথ প্রকম্পিত করে তুলে ছাত্রসমাজের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
তখনও ছাত্ররাজনীতি আদর্শচ্যুত হয়নি। ছাত্ররা কিছু মহৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে জীবন উৎসর্গ করতেও দ্বিধা করতেন না। সেইসমস্ত অগ্নিঝরা দিনের ছোটবড় প্রতিটি ছাত্রসংগঠনের তথ্য আমরা সংগ্রহের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমরা কেবল স্মৃতিচারণমূলক কথার উপর নির্ভর না করে অনুসন্ধান করছি তৎকালীন লিখিত প্রাইমারি ডকুমেন্টের। বিশেষ করে ব্রিটিশ আমলের ছাত্র আন্দোলনের অনেক তথ্য-উপাত্ত ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রাথমিক উৎস থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও, পাকিস্তান আমল ও স্বাধীনতা-পরবর্তী কিছু কিছু সময় রয়ে গেছে এখনও অনুদ্ঘাটিত। তবু হাল ছেড়ে না দিয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বছর দু’য়েক আগে আমরা খোঁজে পেয়েছি সুনামগঞ্জে ছাত্রলীগের জন্মকথা। এই বিষয়টি নিয়ে সাবেক ছাত্রনেতাদের মুখে শুনা যেতো পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। কিন্তু আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, ৩০ মে ১৯৬৩ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত এক সভায় সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। দেওয়ান শামসুল আবেদীন ও আব্দুল আহাদকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের সংগঠনী কমিটি গঠিত হয়।৩ তার কিছুদিন পর আব্দুর রহীম চৌধুরী (মূল বাড়ি শায়েস্তাগঞ্জ) ও দেওয়ান শামসুল আবেদীন সুনামগঞ্জ মহকুমা শাখার যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হলেও তখন সাংগঠনিক অবস্থা ছিল ভীষণ নাজুক। সুনামগঞ্জের তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে পূর্বপাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ইপসু)-এর ছিল একাধিপত্য। গত শতকের ৭ম দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইপসু দ্বিধাবিভক্ত হলেও সুনামগঞ্জে সংগঠনটির শক্তিক্ষয় হয়নি। বরং ইপসু’র মতিয়া গ্রুপ ও মেনন গ্রুপ ছিল প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠন। ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সংগঠনটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে পড়ে। তার কয়েকবছর পর অর্থাৎ ৭ম দশকের শেষভাগে মজিবুর রহমান চৌধুরী (ফেনারবাঁক, জামালগঞ্জ), সুজাত চৌধুরী (দিরাই), আবুল লেইস (ছাতক)-সহ সুনামগঞ্জ কলেজের কয়েকজন ছাত্রনেতা সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে সচেষ্ট হন। ফলে ধীরে ধীরে সংগঠনটি শক্তি অর্জন করতে থাকে।
স্বাধীনতার পূর্বের কিছু সময়ের ছাত্রলীগ সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য এখনও আমরা উদ্ধার করতে পারিনি। লিখিত তেমন কোনো দলিলদস্তাবিজও পাওয়া যাচ্ছে না। তৎকালীন ছাত্রনেতাদের বক্তব্যেও দেখা যায় মাতনৈক্য। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৭১ সালের সুনামগঞ্জ মহকুমা শাখার ছাত্রলীগ-সভাপতি সুজাত আহমদ চৌধুরী লেখেন, ‘৭১ সনের ৩রা মার্চ দেশের মাত্র তিনটি স্থানে ঝুঁকি নিয়ে পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঢাকায় আ স ম আব্দুর রব, নারায়ণগঞ্জে আলী আহমদ দুনকা ও সুনামগঞ্জে আমি’। কিন্তু তাঁর পূর্ববর্তী কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান চৌধুরী এতে দ্বিমত পোষণ করেন। তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় মজিবুর রহমান চৌধুরী জানান যে, তিনি নিজেই পতাকা উত্তোলন করেন। এই দুই নেতা ছাড়াও আরও কয়েকজন ছাত্রনেতা একই রকম দাবি করেন। এরকম আরো অনেক বিষয় নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। কে কোন কমিটির কী পদে ছিলেন, তাতেও রয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ের দুই প্রধান ছাত্রলীগ নেতা মজিবুর রহমান চৌধুরী ও সুজাত আহমেদ চৌধুরী দু’জনই প্রয়াত, জীবিত যাঁরা আছেন, তাঁদের অনেকেই বার্ধক্যের কারণে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে এসেছে। তাই কিছু কিছু সমস্যার এখনও কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের অনুসন্ধান আমরা অব্যাহত রেখেছি, ফলে মাঝেমধ্যেই অনেক মূল্যবান তথ্য আমাদের হাতে আসছে। সম্প্রতি ১৯৬৯-৭০ সালের সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগ কার্যকরী সংসদ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল পাওয়া গেছে।
পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগ, সুনামগঞ্জ মহকুমা শাখা ১৯৭০ সালের ২৩ এপ্রিল স্থানীয় বি.ডি. হলে প্রবেশিকা পরীক্ষার্থী ছাত্রছাত্রীদের সম্মানার্থে একটি সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করে। এই উপলক্ষ্যে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ছাত্রনেতা মইন উদ্দীন ও আবুল লেইছ কর্তৃক একটি নিমন্ত্রণপত্র প্রকাশিত হয়। শহরের গুলিস্তান প্রেস থেকে উক্ত নিমন্ত্রণপত্রটি ছাপা হয়।
নিমন্ত্রণপত্রটি থেকে দেখা যায়, সম্বর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হক। উল্লেখ্য, ৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে ছাতক-জগন্নাথপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনি এমএনএ নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া সভায় যোগদান করেন পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্যা রাফিয়া আখতার ডলি এবং কেন্দ্রীয় সংসদের প্রাক্তন প্রচার সম্পাদক অনলবর্ষী বক্তা স্বপন কুমার চৌধুরী। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বিচিত্রা অনুষ্ঠান, যাতে সংগীত পরিবেশন করেন ঢাকা বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী মিস্ মিনী হক, আবদুর রহিম ও স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ।
নিমন্ত্রণপত্রের শেষপৃষ্ঠায় সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের ১৯৬৯-৭০ সালের কার্যকরী সংসদের নেতৃবৃন্দের নামও ছাপা হয়। কমিটিটি নি¤েœ উল্লেখ করা হলো:
সভাপতি- মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী, সহ-সভাপতি: ১. রবীন্দ্র কুমার দাশ তালুকদার, ২. রেবেকা সুপ্রিয়া দাশ, ৩. শাহানা চৌধুরী, ৪. আব্দুল হেকিম, সাংগঠনিক সম্পাদক- তালেব উদ্দীন আহমেদ, দফতর সম্পাদকÑ উদয়শঙ্কর চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদকÑ প্রাণেশ চন্দ্র রায়, পাঠচক্র সম্পাদকÑ আকিকুর রেজা চৌধুরী, সমাজসেবা সম্পাদক আবদুল কাহির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক- (অবসরপ্রাপ্ত) সুনীল সমাজপতি, ভারপ্রাপ্ত সফিকুল চৌধুরী, সহ-সম্পাদক: ১. আব্দুছ ছবুর, ২. রতন কুমার দাশ, ৩. নাসরিন বেগম, ৪. নূর মিয়া, প্রচার সম্পাদক আলী আসগর, কোষাধ্যক্ষ আফজালুর রহমান, প্রমোদ সম্পাদক হিরণ খান, সাহিত্য সম্পাদকÑ আবদুল হান্নান। চিঠিটিতে অবশ্য কার্যকরী কমিটির সাধারণ সদস্যগণের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, এই নিমন্ত্রণপত্রটি ছাত্রলীগের উপরিউক্ত কার্যকরী সংসদের ১নং সহ-সভাপতি বাবু রবীন্দ্র কুমার দাশ তালুকদার অতি যতনে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। তাঁর ভাতিজা ও আমার বাল্যবন্ধু দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আবদুল মজিদ কলেজের প্রভাষক নীহার রঞ্জন তালুকদারের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ডকুমেন্টটির সন্ধান পাই। এজন্য তাঁদের দু’জনের কাছেই কৃতজ্ঞ। সুনামগঞ্জের অতীতের ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত কোনো তথ্য যদি কারো কাছে থেকে থাকে, তবে আমাদের সঙ্গে তা শেয়ার করার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল। আমাদের লক্ষ্য নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে সুনামগঞ্জের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র আন্দোলনের তথ্যসমূহ অধ্যয়ন, সংরক্ষণ ও সংকলিত করা।
তথ্যসূত্র:
১. ড. মোহাম্মদ হাননান, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০ থেকে ১৯৭১), আগামী প্রকাশনী, ঢাকা, জানুয়ারি ১৯৯৯ খ্রি.; পৃ. ৩১
২. শ্রীচঞ্চলকুমার শর্মা, শ্রীহট্টে বিপ্লববাদ ও কমিউনিস্ট আন্দোলন: স্মৃতিকথা, ওরিয়েন্টাল বুক কোম্পানী, কলিকাতা, জুন ১৯৮৪খ্রি.; পৃ. ১৫৭
৩. সাপ্তাহিক যুগভেরী, ১২ জুন, ১৯৬৩ খ্রি.
৪. সুজাত আহমদ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জ বইটি প্রসঙ্গে কিছু কথা, সাপ্তাহিক স্বজন, ১২ এপ্রিল ১৯৯২ খ্রি.
[লেখক : অ্যাড. কল্লোল তালুকদার চপল, মুঠোফোন : ০১৭৫৭৮৩১১৫৫, ই-মেইল : ktchapal@gmail.com]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী