রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

Notice :

জেলার ১৬৪ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

মোসাইদ রাহাত ::
সুনামগঞ্জ জেলায় ১৬৪ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব ভবনের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার বেশিরভাগ বিদ্যালয় ভবন ৯০ দশকে তৈরি হওয়া। মোট ১৪৩৩টি বিদ্যালয় ভবনের মধ্যে ১৬৪টিই রয়েছে ঝুঁকিতে। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন রয়েছে ধর্মপাশা উপজেলায়। এই উপজেলার ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চল শাল্লা উপজেলায় রয়েছে ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২১টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১টি, ছাতক উপজেলায় ১৪টি, তাহিরপুর উপজেলায় ২২টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ১২টি, দিরাই উপজেলায় ১৬টি, জগন্নাথপুর উপজেলায় ১২ এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন মেরামতের জন্য জরুরি শিক্ষা তহবিল থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা ইসলাম বলেন, আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫০জন। কিন্তু বিগত ভূমিকম্পে এই বিদ্যালয় ভবনে ফাটল দেখা দেয়। বিদ্যালয়ের ভিমে ভিমে ফাটল ও সিঁড়িটা দেবে গেছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা অনেক আতঙ্কে থাকি।
ধর্মপাশা উপজেলার ঘাসী সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিশ চন্দ্র সরকার বলেন, আমার বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। পানিতে ভিজে দেয়াল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। তাই বাধ্য হয়েই ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আলাদা টিনসেডের ঘর বানিয়ে ক্লাস নিতে হয়।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাসিনা আক্তার পারভীন বলেন, ধর্মপাশায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন রয়েছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রেরণ করেছি। সেই সাথে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।
দিরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এমএম আব্দুল হালিম বলেন, আমার উপজেলায় অনেকগুলো বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। সেগুলোর তালিকা করে পাঠিয়েছি। বিশেষ করে বিদ্যালয়গুলোর ভবন পুরনো হওয়ায় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং প্লাস্টার ধসে পড়ছে।
শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বলেন, হাওর এলাকায় যে জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নেই সেই সকল জায়গায় একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করতে হবে। তাছাড়া সুনামগঞ্জে যে ১৬৪ ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের তালিকা করা হয়েছে সেগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করতে হবে। তা না হলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তাছাড়া যেসকল বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে সেগুলোতে পাঠদান বন্ধ রেখেছি। উচ্চ বিদ্যালয়গুলোর ৩টি রুম নিয়ে বর্তমানে ওই সকল বিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে। আমরা মনেকরি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এগুলো সংস্কারের জন্য সরকার পদক্ষেপ নিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী