শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ১০:০৫ অপরাহ্ন

Notice :

পাউবো’র স্থায়ী বাঁধ কাটতে প্রভাবশালীরা তৎপর : ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষক-জনতা

বাদল কৃষ্ণ দাস ::
দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রাম সীমানায় স্থানীয় মরা সুরমা নদীর তীরে গাতুয়া দত্তের বাঁধ কেটে দেয়ার পাঁয়তারা করছে প্রভাবশালী মহল। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় কৃষক-জনতা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত এই বাঁধ কোনো অবস্থাতেই না কাটার দাবিতে গত ২৫ জুন জেলা প্রশাসক ও দিরাই উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কাছে পৃথকভাবে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
লিখিত আবেদন থেকে জানাযায়, স্থায়ী এই বাঁধটি ভেঙে দেবার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগেছে। এই এলাকাটি রেকর্ডিয় কোন খাল বা নালা ছিল না। একসময় এটি ছিল কান্দার নিচু অংশ। যে কারণে কেবলমাত্র ভরা বর্ষায় এই নিচু অংশ দিয়ে ছোট ছোট নৌকা টেনে আনা-নেওয়া করা হত। এতে এক সময় স্থানটা আরো নিচু হয়ে যায়। যে কারণে বৈশাখ মাসে অতি বৃষ্টির পাহাড়ি ঢলের পানি স্থানীয় মরা সুরমার তীর প্লাবিত করে পানি যাতে স্থানীয় কালিয়াকোটা হাওরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য হাওরের ফসল রক্ষায় স্থানীয় কৃষক জনতা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ দিয়ে আসছিলেন।
সরেজমিনে এই বাঁধ এলাকায় গিয়ে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এই বাঁধ স্থায়ীকরণে কয়েক দফায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করে। এতে বর্তমানে বাঁধটি স্থায়ী আকার ধারণ করেছে। এলাকাবাসী জানান, কয়েক মাস ধরে একটি প্রভাবশালী মহল এই বাঁধটি কেটে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। এলাকাবাসী জানান, প্রভাবশালী ওই মহল কালিয়াকোটা হাওর এলাকার বিভিন্ন বিল-জলমহালের ইজারায় পরোক্ষভাবে জড়িত। মূলত তাদের নিজেদের স্বার্থে জলমহালগুলোতে মাছের মজুদ বাড়াতে স্থায়ী বাঁধ কেটে উন্মুক্ত করে দিতে চায় তারা। তাছাড়া ধান ব্যবসায়ী একটি মহলও তাদের ব্যবসায় পরিবহন ব্যয় সাশ্রয়ে বাঁধ কেটে দিতে তৎপর রয়েছে। এলাকাবাসী আরো জানান, এই বাঁধটি কেটে দিলে এখানে গভীর খাদের সৃষ্টি হয় এবং বাঁধটি ঝুকিপূর্ণ আকার ধারণ করে। এতে বৈশাখ মাসে পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে মরা-সুরমার তীরবর্তী গাতুয়া দত্তের বাঁধ ভেঙে বিশাল কালিয়াকোটা হাওরের সমস্ত পাকা ধান তলিয়ে যাবার আশঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কয়েক দফা বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করায় এটি এখন স্থায়ী বাঁধে রূপ নিয়েছে। এটি কেটে দেওয়া হলে কালিয়াকোটা হাওরের ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।
এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় প্রাক্তন ইউপি মেম্বার সুজিত তালুকদার, মাহতাবপুর গ্রামের নিবারণ তালুকদার, হিমাংশু তালুকদার, দীনেশ চন্দ্র সরকার, জাগরণেরচর গ্রামের সুনীল চন্দ্র দাস, নীরোদ সরকারসহ আরো অনেকেই জানান, গত ২৪ জুন গাতুয়া দত্তের বাঁধ দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, এসিল্যান্ড, সরমঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান প্রমুখ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাই এলাকাবাসী তাদের হাওর বাঁচাতে দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন- হাওরের বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন ও রক্ষার স্বার্থে এই বাঁধ কোনো অবস্থাতেই যেন কেটে দেওয়া না হয়।
এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার মানুষের সার্বিক মঙ্গলের বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা ও বিবেচনা করেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী